Connect with us

জাতীয়

আইইডিসিআর সরে যাওয়ায় ১৫০০ নমুনার ফল অনিশ্চিত

DENTALTIMESBD.com

Published

on

DentalTimes

দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতির খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রোগ পরীক্ষার মূল সমন্বয়ের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর)। সমন্বয়ের কাজটি করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ। বর্তমানে আইডিসিআরে থাকা দেড় হাজারের বেশি মানুষের নমুনা পরীক্ষার ফল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন থেকে অন্য ল্যাবরেটরির মান যাচাই করবে।

এদিকে আইইডিসিআরের নিজস্ব ল্যাবের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। মূল ল্যাবরেটরিও এখন সংক্রমিত। অথচ এত দিন আইইডিসিআর অন্য কোনো ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার কথা বলে এসেছে। মান ঠিক না থাকলে ল্যাবে যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আইইডিসিআরের মূল দায়িত্ব পরিবর্তন এবং সেখানে সংক্রমণের ঘটনার কারণ হিসেবে যথাযথ পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, ‘আইইডিসিআর মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপে ছিল। অভিযোগ ছিল, নমুনা সংগ্রহ ও ফলাফল জানাতে বিলম্ব হচ্ছিল তাদের।’ তিনি আরও বলেন, আইইডিসিআর আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে না। অন্য ল্যাবরেটরির মান তারা যাচাই করবে। তারা করোনা নিয়ে রোগতাত্ত্বিক গবেষণা করবে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নমুনা পাঠালে তবেই তা পরীক্ষা করবে।

শুরুতে আইইডিসিআর একাই নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। আইইডিসিআর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার সকালে আইইডিসিআরের কোনো কর্মী ঢাকা শহরে বা আশপাশে নমুনা সংগ্রহে যাননি। প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরির একজন প্রধান ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত। একাধিক টেকনোলজিস্টও আক্রান্ত। বেশ কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন করে কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ)। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীরসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে কোয়ারেন্টিন শেষ করেছেন। প্রায় দুই হাজার নমুনা জমে আছে, পরীক্ষার ফল জানাতে পারছে না আইইডিসিআর। যদিও প্রতিষ্ঠান এত দিন বলে আসছিল দিনে এক হাজার নমুনা পরীক্ষা করার সামর্থ্য তাদের আছে।

আইইডিসিআর সব মানুষকে হয় ফোনে না হয় ই-মেইলে পরীক্ষার ফল জানাত। তারা এ কাজে দক্ষতা অর্জন করেছিল। আইইডিসিআরের কাজ এখন থেকে করবেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকক্ষের কিছু কর্মকর্তা। এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ নাসিমা সুলতানা। এই কাজে সহায়তার জন্য অবসরে যাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (এমআইএস) সমীর কান্তি সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল আইইডিসিআরের পরিচালক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, ‘আমি এমআইএসের সাবেক পরিচালক সমীর কান্তি সরকারের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি।’

গত জানুয়ারি থেকে করোনার কাজে যুক্ত আইইডিসিআর। বিদেশ থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত আনা, তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখা, নমুনা সংগ্রহ, নমুনা পরীক্ষা—সবকিছুর সামনে ছিল আইইডিসিআর ও তার পরিচালক। নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংও করতেন পরিচালক। তিন দিন আগ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নমুনাও পরীক্ষা করেছে তারা। অনেকে মনে করেন, কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং পরিকল্পনা ও সমন্বয়হীনতার কারণে পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন আংশিক প্রদানের সিদ্ধান্ত, উৎসব বোনাস বাদ

জমে থাকা নমুনার ভাগ্য কী?
গতকাল ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা স্বীকার করেছেন, তাঁদের কাছে জমে থাকা নমুনার সংখ্যা বাড়ছে। তবে তিনি পরিমাণ উল্লেখ করেননি।

ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি গতকাল বলেন, ‘আমি সুস্থ হয়েছি কি না, তা জানতে পারব আইইডিসিআরের পরীক্ষার ফলাফল থেকে। তবে তারা তা জানাচ্ছে না।’

এ রকম দুই হাজার মানুষের নমুনা জমা আছে আইইডিসিআরে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ৫০০ নমুনার পরীক্ষা করবে আইইডিসিআর। বাকি দেড় হাজার নমুনা অন্য ল্যাবরেটরিতে ভাগ করে দেওয়া হবে।

এটা কীভাবে দেওয়া হবে, কবে দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছে না। নতুন দায়িত্ব পাওয়া সমীর কান্তি সরকার বলেছেন, ‘কীভাবে কাজটি হবে, আমরা তার কৌশল ঠিক করছি। কৌশল ঠিক হলে মহাখালীর আশপাশের চারটি ল্যাবে এসব নমুনা ভাগ করে দেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ল্যাবরেটরিগুলোর সূত্র বলছে, প্রতিটি ল্যাবেই পরীক্ষার চাপ। এসব নমুনা দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না। যেসব মানুষ এসব নমুনা দিয়েছেন, তাঁরা ফল কবে জানতে পারবেন, তা অনেকটাই অনিশ্চিত।

অপপ্রচার’ ঠেকাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেল

অসংগতি
করোনাভাইরাস দেশের ৬৩ জেলায় ছড়িয়েছে। রাজধানী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলায় সংক্রমণ অনেক বেশি। হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেবা নিয়ে মানুষের অনেক অভিযোগ আছে। এই সময় হঠাৎ করে রোগের পরীক্ষার দায়িত্বে বড় পরিবর্তনকে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন জনস্বাস্থ্যবিদ বলেছেন, অপরিপক্বতার চূড়ান্ত উদাহরণ এটি। আইইডিসিআরের কারিগরিভাবে দক্ষ জনবল, উন্নত ল্যাবরেটরিসহ আরও নানা ধরনের সামর্থ্য আছে, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আর কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই। কিন্তু পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে সেই সক্ষমতা এ সময় কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

আইইডিসিআরের নম্বরে ফোন করলে কর্মীরা বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতেন। এই ব্যবস্থাকে এতকাল যৌক্তিক বলে ব্যাখ্যা করে এসেছিল আইইডিসিআর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আইইডিসিআরে সন্দেহভাজন ব্যক্তি হাজির হলেও তাঁদের নমুনা নেওয়া হয়নি। বলা হয়েছিল, এতে আইইডিসিআরে সংক্রমণ ঘটতে পারে। সেই যুক্তি থেকে সরে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা ঢাকা শহরে ৪০টি বুথ করবে বলে জানা গেছে। বাড়ির কাছের বুথে মানুষকে নমুনা দিতে যেতে হবে।

আইইডিসিআর বলেছিল, নির্দিষ্ট মানের (বিএসএল ২) ল্যাবরেটরি ছাড়া কাউকে করোনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হবে না। এক অজ্ঞাত কারণে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশকে (আইসিডিডিআরবি) নমুনা পরীক্ষা থেকে দূরে রেখেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু এখন দেশে ৩০টির বেশি ল্যাবরেটরিতে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে।

পরিকল্পনার অভাব
শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সঙ্গে না নিয়েই করোনা মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা ছাড়াই করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতির পরিকল্পনা তৈরি করেছে তারা। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরও পরামর্শ নেওয়া হয়নি।

একটি পরিকল্পনা দলিলে ১১টি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। ৩ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় কমিটির সভায় ওই দলিল অনুমোদিত হয়। কিন্তু অনেকগুলো কমিটি কোনো কাজ করেনি। এমন অনেক কমিটি গঠিত হয়েছিল, যার কোনো সভাই হয়নি। এ নিয়ে সংবাদ ছাপা হয়। এরপর ওই দলিলের পঞ্চম সংস্করণে কমিটির সংখ্যা কমানো হয়। এরপরও দলিলে কারিগরি কমিটি ছিল, যার প্রধান ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

১৮ এপ্রিল জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর আহ্বায়ক বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা। আর সদস্যসচিব আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা। এর সদস্যসংখ্যা ১৭। সূত্র বলছে, এই কমিটি রোগ পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে একটি পূর্বাভাস তৈরি করেছে। অন্য দিকে দেশের আটজন জনস্বাস্থ্যবিদ বেশ কয়েক দিন ধরেই পূর্বাভাস নিয়ে কাজ করছেন। তাঁদের পূর্বাভাস ইতিমধ্যে প্রথম আলোসহ একাধিক গণমাধ্যমে ছাপা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরু থেকে বলে আসছে, সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে করোনা মোকাবিলা করতে হবে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা ও দেশের গণমাধ্যম সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে একত্রে কাজ করার ওপর জোর দিয়ে আসছে।

করোনা পরিস্থিতির আগে থেকে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সব তথ্য দেওয়া হতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে। প্রায় ১০ বছর ধরে এই কন্ট্রোল রুমের তথ্য গণমাধ্যমসহ অন্য অনেকে ব্যবহার করে আসছে। করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে পৃথক কন্ট্রোল রুম খোলে আইইডিসিআর, তাদের নিজস্ব ভবনের নিচতলায়। দুটি কন্ট্রোল রুমের দূরত্ব ২০০ গজের কম। এর কিছুদিন পর রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা আরেকটি কন্ট্রোল রুম খোলে। সেটিও কাজ শুরু করে আইইডিসিআরে। আইইডিসিআর কন্ট্রোল রুম নিয়ে যায় ভবনের তিনতলায়। সমন্বয়হীনভাবে চলতে থাকে তিনটি কন্ট্রোল রুম। এরপর গত মাসের শুরুতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নমুনা ভবনে করোনাবিষয়ক সমন্বিত কন্ট্রোল রুম খোলা হয়।

অনেকে মনে করছেন, আইইডিসিআর নিয়ে এখন যা হচ্ছে, তা আগে ঘটে যাওয়া সমন্বয়হীনতারই জের। অবশ্য মীরজাদী সেব্রিনা ও আবুল কালাম আজাদ দুজনেই তা অস্বীকার করেছেন।

সার্বিক বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, ‘পরিকল্পনাহীন ও সমন্বয়হীনতার অনেক নজির ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ না করলে এমন চলতেই থাকবে। মানুষের আরও ঝুঁকি বেড়ে যাবে।’

প্রথম আলো

জাতীয়

ভুয়া ডেন্টিস্ট : জামাই প্রেসক্রিপশন লেখে, শ্বশুর করে স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিনিধি

Published

on

ভুয়া ডেন্টিস্ট

শ্বশুর নূর হোসেন তৃতীয় শ্রেণি পাস, আর জামাতা জাহিদুল ইসলাম পড়েছেন দশম শ্রেণি পর্যন্ত। কিন্তু তাতে কী! যেন দেখার কেউ নেই। তৃতীয় ও দশম শ্রেণি পড়া শ্বশুর-জামাই মিলে রাজধানীর খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকায় গড়ে তুলেছেন ‘পঞ্চগড় ডেন্টাল কেয়ার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে জামাই ও শ্বশুর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ রোগীদের দাঁতের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।

শেষ রক্ষা হয়নি, পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) বিশেষ অভিযানে ধরা পড়েছে তাদের এ অভিনব প্রতারণা।

পঞ্চগড় ডেন্টাল কেয়ার’ পরিচালনার আড়ালে অন্য চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করা প্রেসক্রিপশন প্যাডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখে আসছিলেন তারা।

ভুক্তভোগী রোগীদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাড়ার ওই ডেন্টাল কেয়ারে অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব-৩।

অভিযান শেষে শ্বশুর নূর হোসেনকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং জামাতা জাহিদুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন র‍্যাব পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‍্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু ডেন্টাল টাইমসকে বলেন, অভিযানে দেখা যায় অন্য ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ডাক্তার অপারেশনসহ দাঁতের ট্রিটমেন্ট দিচ্ছেন নূর হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম।

DentalTimes

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ভুয়া চিকিৎসক নূর হোসেন ওষুধের নামও ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারছিলেন না। তখন সন্দেহবশত জানতে চাইলে মো. নূর হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানান, তিনি তৃতীয় শ্রেণি পাস। সম্পর্কে তিনি অপর ভুয়া চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামের শ্বশুর। জামাতা জাহিদুল আগে পাথর কোম্পানিতে চাকরি করতো, সেটা ছেড়ে শ্বশুরের সঙ্গে ডেন্টাল ক্লিনিকে ভুয়া চিকিৎসা দেয়া শুরু করেন।

জিহান কবির নামের এক চিকিৎসকের প্যাডে তারা স্বাক্ষর করে চিকিৎসাপত্র দিয়ে আসছিলেন। জামাই জাহিদুল ওষুধের নাম লিখতেন আর শ্বশুর নূর হোসেন শুধু করতেন স্বাক্ষর। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন।

অভিযানকালে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, দালালদের মাধ্যমে তারা জেনেছেন, ওই ডেন্টাল কেয়ারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বসেন। অনেকে চিকিৎসাপত্রও নিয়েছেন। কিন্তু তারা এটা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি মাত্র তৃতীয় ও দশম শ্রেণিতে পড়া দুজন ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে এতদিন চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন!

ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, নূর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তিনি আগে চিকিৎসকদের অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। মাঝে মাঝে তিনি চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে চিকিৎসাপত্রও দিতেন! বছরখানেক আগে তিনি নিজেই বেশি লাভের আশায় এই ‘পঞ্চগড় ডেন্টাল কেয়ার’ নামক প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। জামাই-শ্বশুর মিলে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।

শ্বশুর নূর হোসেনকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং জামাতা জাহিদুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পঞ্চগড় ডেন্টাল কেয়ার নামক প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

Continue Reading

করোনা পরিস্থিতি

দেশে করোনায় মৃত্যু, সংক্রমণ শনাক্তের হার বেড়েছে

DENTALTIMESBD.com

Published

on

DentalTimes

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও ১ হাজার ৬৩৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার ২০৬। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৫৯৯ জন।

আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গতকালের তুলনায় আজ দেশে নতুন রোগী, মৃত্যু, সংক্রমণ শনাক্তের হার সবই বেড়েছে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল। রোগী শনাক্ত হয়েছিল এক হাজার ২৭৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৫ হাজার ১৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১৪ জন ও নারী ৭জন। ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে আর একজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়িতে।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে চলতি বছরের ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যুর তথ্য জানানো হয় ১৮ মার্চ।

দেশে এখন পর্যন্ত সংক্রমণ বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর মধ্যে সরকার আশঙ্কা করছে, শীতে আবার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, টিকা আসার আগপর্যন্ত নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল উপায় হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। মাস্ক পরা, কিছু সময় পরপর সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। কিন্তু এই স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলার ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে। এতে সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

Continue Reading

জাতীয়

তিন দফা দাবিতে বিএমডিসির সামনে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি

Published

on

DentalTimes

তিন দফা দাবীতে বিএমডিসি কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীরা। সারাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টালের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

সেশনজট মুক্ত শিক্ষাবর্ষ এবং করোনায় ১ম, ২য়,৩য় পেশাগত পরীক্ষা বাতিল করে অটোপ্রমোশনের দাবিতে এই মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০ টায় এই মানববন্ধন শুরু হয়৷

তারা মানববন্ধনে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করে।
১. করোনা মহামারিতে প্রফ নয় প্রফের বিকল্প চাই
২. অনতিবিলম্বে সেশনজট দূরীকরণের পরবর্তী ফেজের অনলাইন ক্লাস শুরুর নির্দেশ দেওয়া হোক
৩. পরীক্ষা ও ক্লাস সংক্রান্ত সকল আদেশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করতে হবে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা জানায়, “এমবিবিএস/বিডিএস শিক্ষাব্যাবস্থা একটি দীর্ঘমেয়াদী কোর্স।একজন শিক্ষার্থীর ছয় বছর লেগে যায় এমবিবিএস সম্পন্ন করতে। এখন কোভিড-১৯ এর জন্য আমরা আরো পিছিয়ে পরেছি। ইতিমধ্যে ১ম, ২য়, ৩য় পেশাগত পরীক্ষার শিক্ষার্থীরা মে-২০২০ এর পরীক্ষা মহামারী করোনার কারণে সময় মত অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ৮ মাস পিছিয়ে গিয়েছি এবং যার ফলে আমরা ধেয়ে চলেছি এক ভয়াবহ সেশনজটের দিকে।”

তারা আরো জানান, “শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে জে এস সি এবং এইচ এস সি এর মত বিশাল পাব্লিক পরীক্ষাগুলোর পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে অটোপ্রমোশন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও সেশনজট এড়াতে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করা হচ্ছে। যেখানে শীতকালীন করোনার সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সব জায়গায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাজীবনের কথা ভেবে আমাদের দাবি মেনে দেওয়া জন্য অনুরোধ করা হলো।”

Continue Reading

জনপ্রিয়