Connect with us

Uncategorized

একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ডেন্টাল সার্জন ডাঃ মুহাম্মদ শফীর গল্প

DENTALTIMESBD.com

Published

on

চট্টগ্রামের এনায়েতবাজারের বাটালি রোডের একটি বাসা মুশতারী লজ। একাত্তরের মার্চে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে ওঠে এই বাসাটি। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এই বাসায় অনেকে এসে গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। এই আলোচনার সূত্রে ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। এসব কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহায়তা দিয়েছেন একজন ডেন্টাল সার্জন।

৭ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে ও তাঁর শ্যালক এহসানকে তাঁর বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁরা আর ফিরে আসেননি। কবে, কোথায়, কীভাবে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে – এ তথ্য আজও অজানা। তিনি আর কেউ শহীদ মুক্তিযুদ্ধা ডাঃ মুহাম্মদ শফী। 

ডাঃ মুহাম্মদ শফী ১৯১৫ সালের ৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দিঘড়ে গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা সুফি আবদুল লতিফ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর মা আয়েশা খাতুন। মুহাম্মদ শফী ১৯৩০ সালে হুগলি জেলা হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৩২ সালে হাওড়া গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৩৬ সালে কলকাতা ডেন্টাল কলেজ থেকে দন্ত চিকিৎসায় ডিপ্লোমা এবং ১৯৪২ সালে কলিকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।

মুহাম্মদ শফী কলকাতার আর. আহমদ ডেন্টাল ল্যাবরেটরিতে সার্জন হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি কলিকাতা মেডিক্যাল কলেজে ডেন্টাল সার্জন পদে যোগ দেন। কলকাতার বৌবাজার স্ট্রিটে ছিল তাঁর নিজস্ব ক্লিনিক। ভারত বিভাগের পর মুহাম্মদ শফী ১৯৫০ সালে চট্টগ্রাম চলে আসেন এবং সেখানেই স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেন। তিনি এনায়েত বাজারের বাটালী রোডে তাঁর বাসভবনের নিচতলায় নিজস্ব ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন।


তাঁর স্ত্রী মুশতারী শফীর লেখা ‘আমার স্বামী’ রচনা থেকে তার মুক্তিযুদ্ধে তার অংশগ্রহণ ও তার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা সম্পর্কে কিছুটা জানা যায়।  তিনি লিখেছেন, ”২৭ মার্চ ডাঃ শফী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটা দুঃসাহসিক কাজ করলেন। সন্ধ্যায় ন্যাপ নেতা চৌধুরী হারুন অর রশীদ এলেন আমাদের বাসায়। ব্যস্ত হয়ে ডা. শফীকে নিয়ে ঢুকে গেলেন চেম্বারে। অল্প পরে তাঁরা আমাকে ডেকে নিলেন চেম্বারে। চৌধুরী হারুন বললেন, “ভাবি, আপনার এখানে কিছু জিনিস রাখব। কিছু অ্যামুনিশনস।” আমি ভয় পেয়ে বললাম, এই মধ্যশহরে, বাড়ির দুপাশে রাস্তা, চারদিকে অবাঙালি, এ অবস্থায় এসব এখানে রাখা কি ঠিক হবে? ডাঃ শফী বললেন, “ভাবছ কেন? দেশকে মুক্ত করতে হলে বুকে সাহস রাখতে হবে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। হারুন সব ব্যবস্থা করেছে।” আমার বাড়ির দোতলাটা খালি পড়ে ছিল। রাত নটার দিকে দুটি ট্রাক এসে থামল। তিন-চারজন কর্মী ছেলেসহ চৌধুরী হারুন, ডাঃ শফী, আমার ভাই এহসান, সবাই মিলে গুলিভর্তি কাঠের বাক্সগুলো উপরে তুলতে লাগল। আর তখন থেকেই আমার বুক অশুভ আশঙ্কায় থেকে থেকে কাঁপতে থাকে। তারপর এলো ৭ এপ্রিল, যে তারিখটি রক্তের অক্ষরে লেখা হয়ে আছে আমার বুকের গভীরে। এদিনই আমি হারিয়েছি আমার একটিমাত্র ভাইকে, আমার সন্তানেরা হারিয়েছে ওদের স্নেহময় পিতাকে।

সকাল নয়টা। একটা জিপ ও লরি এসে থামল বাড়ির সামনে। চোখের নিমেষে সৈন্যরা বাড়ি ঘিরে ফেলল। তারপর দরজায় দুমদুম শব্দ। ডাঃ শফী নিজেই দরজা খুলে দিলেন। সৈন্যরা ওকে ড্রয়িংরুমে দাঁড় করিয়ে রেখে প্রতিটি রুম খুঁজল। কিন্তু দোতলায় গেল না। যাওয়ার সময় তারা ডাঃ শফীকেও সঙ্গে করে নিয়ে গেল সার্কিট হাউসে। আমার অনুনয়, বাচ্চাদের কান্না, কোনো কিছুতেই তাদের মন গলল না। তারপর আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে দুপুর ১২টার দিকে তিনি ফিরে এলেন।
 
বেলা একটা। খাবার দেওয়া হয়েছে টেবিলে। বাচ্চাদের নিয়ে তিনি খেতে বসেছেন। এমন সময় আবার গুলির শব্দ। বেরিয়ে দেখি ৪০-৫০ জন সৈন্য আবার বাড়ি ঘিরে ফেলেছে। এরা অন্য গ্রুপ। সৈন্যরা এবার দুপদাপ করে উঠে গেল দোতলায়। তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকেই উত্তেজিত হয়ে কয়েকজন ছুটে এসে অফিসারকে হড়বরিয়ে গুলিভর্তি বাক্স পাওয়ার কথা বলতেই অফিসার হুঙ্কার ছাড়ল। পরে ডাঃ শফী ও আমার ভাই এহসানকে দিয়েই গুলিভর্তি বাক্সগুলো ট্রাকে তোলা হলো। তারপর ওঁদের দুজনকে সঙ্গে নিয়ে তারা চলে গেল। এরপর তাঁরা আর ফিরে আসেননি।’ (মুক্তিযুদ্ধ শহীদ চিকিৎসক জীবনকোষ, বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ, প্রকাশ ২০০৯)।
 
ডাঃ শফীর স্ত্রী মুশতারী শফী তার তিন পুত্র ও চার কন্যাসহ ওই রাতেই গোপনে পালিয়ে মীর সরাঈ চলে যান এবং পরে সেখান থেকে আগরতলা পৌঁছেন।
 
মুহাম্মদ শফী ছিলেন প্রগতিশীল ও বাম রাজনীতির প্রতি অনুরাগী। চট্টগ্রাম কারাগারে রাজনৈতিক বন্দিদের চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন মুহাম্মদ শফী। এই সুবাদে তিনি কারাগারে এবং প্রায়’শ তাঁর ক্লিনিকে নামকরা বামপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের সংস্পর্শে আসেন। নিজে একজন লেখক, চিত্রকর, সঙ্গীতজ্ঞ এবং একসময় আকাশবানী কলকাতার তালিকাভুক্ত শিল্পী মুহাম্মদ শফী চট্টগ্রামে সাহিত্য চর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে উদার পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। তাঁর বাড়িটি ছিল নামকরা সাহিত্যিক ও শিল্পীদের মিলনক্ষেত্র। তিনি ছিলেন মহিলাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বান্ধবী সংঘের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, তাঁর স্ত্রী মুশতারী শফী সম্পাদিত মহিলাদের বাংলা মাসিকপত্র বান্ধবী’র প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তিনি তৎকালিক সময়ে চট্টগ্রামের দুটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রান্তিক’ ও ‘জাগৃতি’র প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।


প্রকাশিত গ্রন্থ                  

মুহাম্মদ শফী ছিলেন সব্যসাচী লেখক। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: জনসংখ্যা ও সম্পদ, প্রেম ও বিবাহের সম্পর্ক, চরিত্র হানির তাৎপর্য, নয়া গণতন্ত্র এবং অনুবাদ গ্রন্থ চিকিৎসা বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস, ঐতিহাসিক বসুতবাদ, শান্তি না শক্তি, হুনানের কৃষক আন্দোলন, জনযুদ্ধের বিজয় দীর্ঘজীবী হোক।

স্বীকৃতিসমূহ                    
  • তাঁর রচিত জনসংখ্যা ও সম্পদ গ্রন্থের সৌকর্যের জন্য মুহাম্মদ শফী ১৯৬৪ সালে ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
  • বাংলাদেশ সরকারের ডাকবিভাগ জাতির জন্য তাঁর আত্মদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুহাম্মদ শফীর নামে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে।

পরিবার পরিচিতি                 

তিনি তিন ছেলে ও চার মেয়ের জনক। ছেলে মো. এবাদ ইয়াসিন শফী, মেরাজ তাসীন শফী ও নেয়াজ মোহসিন শফী। মেয়ে ইয়াসমিন ফারজানা, নাসরিন রিজওয়ানা, নাজনীন রুমানা ও শারমিন তারানা। তার স্ত্রী মুশতারী শফী।

Continue Reading

Uncategorized

যশোর : ২২ চিকিৎসক-নার্সসহ ২৮ জন কোয়ারেন্টাইনে

DENTALTIMESBD.com

Published

on

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে আসায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের ১১ চিকিৎসক, ১১ নার্স মোট ২৮ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বুধবার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের জারি করা অফিস আদেশে এই কথা জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো এসব ডাক্তার ও নার্স করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীদের কনটাক্টে এসেছিলেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্যায়ক্রমে এই হাসপাতালের সবার নমুনা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, করোনা আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে যেসব ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী এসেছিলেন তাদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ১১ জন ডাক্তার ও ১১ জন নার্স ছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ড বয় ও আয়া মিলিয়ে মোট ২৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ হবে ১৪ দিন। এই সময়কালে তাদের সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে করোনারি কেয়ার ইউনিট ও মেডিসিন ওয়ার্ড লকডাউন করে দেন। গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট দুটি জীবাণুমুক্ত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়। ওই দুই স্থানে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্থানান্তর করা হয় অন্য ওয়ার্ডে।

গত কয়েকদিনে শনাক্ত হওয়া করোনা পজেটিভদের বেশ কয়েকজনকে যশোর টিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। যারা ওই হাসপাতালে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

যশোর টিবি হাসপাতালকে অস্থায়ী করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সেবার কাজে নিয়োজিতরা পাশেই নাজির শঙ্করপুরে অবস্থিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ডরমেটরিতে অবস্থান করছেন।

Continue Reading

Uncategorized

যে চারটি বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

DENTALTIMESBD.com

Published

on

বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

দেশে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ বাড়তে থাকায় পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর জন্য প্রথমবারের মত চারটি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা এবং চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল (সাবেক অ্যাপোলা), স্কয়ার হাসপাতাল ও ইউনাইটেড হাসপাতাল শুধু তাদের ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করবে।

আর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল বাইরের রোগীদের নমুনাও পরীক্ষা করতে পারবে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, “তারা যে নমুনা পরীক্ষা করবেন আমরা তা আগামীকাল থেকে অথবা যখন তারা কাজ শুরু করবেন তখন থেকে হিসাবে যুক্ত করব।”

তিনটি হাসপাতালকে বাইরের রোগীর নমুনা পরীক্ষার অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাসিমা সুলতানা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে ফলোআপে সমস্যা হতে পারে, সে কারণে তাদের এখনও তাদের আউটডোর পেশেন্টের নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

এই চারটি বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে দেশে সব মিলিয়ে এখন ২৯টি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হল।

বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড ৬৪১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ৭১০৩ জন হয়েছে। এই সময়ে আরও আটজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৩ জন হয়েছে।

Continue Reading

Uncategorized

২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৬৪১

DENTALTIMESBD.com

Published

on

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ১৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৪১ জন। ফলে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ১০৩ জন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার হাজার ৯৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭০১টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৬৪১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ১০৩ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও আটজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১১ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫০ জন।

যারা নতুন করে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং দুজন নারী। ছয়জন ঢাকার বাসিন্দা এবং দুজন ঢাকার বাইরের। বয়সের দিক থেকে চারজন ষাটোর্ধ্ব, দুজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং দুজন ত্রিশোর্ধ্ব।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

প্রায় চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার। তবে নয় লাখ ৬১ হাজারের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যান্য

Continue Reading

জনপ্রিয়