Connect with us

ফিচার

খুনের রহস্য যখন সমাধান করল ডেন্টিস্ট্রি

DENTALTIMESBD.com

Published

on

১৯৬৭ সালের ৭ আগস্ট সকালবেলা, স্কটল্যান্ডের একটি ছোট শহরবাসীর ঘুম ভাংগল ১৫ বছরের একটি মেয়ের লাশ উদ্ধার হওয়ার খবরে।মেয়েটির নাম লিন্ডা,লিন্ডাকে খুব নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে।এছাড়াও তার বুকের ডানদিকে রয়েছে কামড়ের চিহ্ন।খুনী আর কোন ক্লু রেখে যায় নি।এই কেসটি সমাধান করেছিলেন ডাঃ ওয়ারেন হার্ভে।এটিই বৃটেনের প্রথম কেস যেটি সমাধানে সম্পূর্নভাবে ফরেনসিক ওডোন্টোলজির উপর নির্ভর করে রায় দেয়া হয়েছিল।

কেসের আগে এর সমাধানকারী ডাঃ ওয়ারেন হার্ভে সম্পর্কে কিছু বলা যাক।ডাঃ হার্ভে ১৯১৪ সালে স্ট্রাটফোর্ডশায়ারে জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতাও ছিলেন একজন ডাক্তার।স্রেসবুরীতে প্রাথমিক লেখাপড়া শেষে গাইস হাসপাতাল থেকে ডেন্টাল ডিগ্রী অর্জন করেন।।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ডেন্টাল অফিসার হিসাবে যোগ দেন।যুদ্ধ শেষে রয়্যাল ম্যাসনিক হাসপাতালে কাজ করেন।১৯৬২ সালে তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গ্লাসগো হাসপাতালের কনসালটেন্ট হিসাবে যোগ দেন।

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময় তিনি কেসটি সমাধানের দায়িত্ব পান।কেসটিকে বিচারকরা যথেষ্ট গুরত্বের সাথে নিয়েছিলেন,কিন্তু উপযুক্ত ক্লু এর অভাবে পুলিশ ও মামলাটির কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না।এই দিকে মিডিয়া এবং জনগন ও ধৈর্য্যহারা হয়ে যাচ্ছিল।অনেক চাপের মুখেই ডাঃ হার্ভে দায়িত্ব নেন।

আশ্চর্যজনকভাবে বাইট মার্ক ছাড়া ধর্ষণের কোন আলামত ও পাওয়া যায় নি।যে জায়গায় কামড়ের চিহ্ন পাওয়া গেসে সেখানে কখনোই লিন্ডার নিজের পক্ষে কামড়ানো সম্ভব না।এই চিহ্ন যে খুনীর ছাড়া অন্য কারো হতে পারে না এই বিষয়েও কোন সন্দেহ ছিল না।

সন্দেহভাজন ২৯ জনের ইম্প্রেশন নেয়া হয়। সেখান থেকে ৫ জনকে আলাদা করে হয়।কিন্তু ৫ জনের বাইট মার্ক এত কাছাকাছি যে আলাদাভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না।প্রযুক্তিও তখন এতটা অগ্রসর হয় নি।

হার্ভে খেয়াল করলেন বাইটমার্কে উপরের ডানচোয়ালের সেন্ট্রাল ইনসিসরের চিহ্ন ঠিক স্বাভাবিক না।এই অস্বাভাবিকতাই মামলার সকল জট খুলে দিল।তিনি আবার ইম্প্রেশন নেওয়ালেন,লিন্ডার ঘনিষ্ঠ বন্ধু গর্ডনের দাঁতের সাথে তা হুবহু মিলে যায়। হার্ভের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গর্ডনকে গ্রেফতার করে।

গর্ডনের সেন্ট্রাল ইনসিসরে ম্যালডেভেলপমেন্টের কারনে একটি অতিরিক্ত অংশ বা কাসপ দেখা যায়।ডেন্টিস্ট্রিতে যাকে বলা হয় ট্যালন কাসপ।ট্যালন কাসপের জন্য লিন্ডার শরীরে কামড়ের কালশিটে জায়গায় স্বাভাবিকের বদলে কিছুটা গোলাকৃতি ছাপ দেখা যায়।এই ছাপই গর্ডনকে ধরিয়ে দেয়।

DentalTimes

ডাঃ হার্ভে ৪০০ ঘন্টা গবেষণা করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।পুলিশে জিজ্ঞাসাবাদে গর্ডন তার দোষ স্বীকার করে নেয়।লিন্ডা তার সাথে সম্পর্কে প্রতারণার জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটায় বলে জানায়।

আড়াই ঘন্টা শুনানি শেষে বিচারকরা গর্ডনকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয় কিন্তু ১৮ বছর না হওয়ায় তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।

বৃটেনে এর আগে আদালতে ফরেনসিক ডেন্টিস্ট্রিকে আমলে নিলেও সেবারই প্রথম যখন শুধুমাত্র ডেন্টাল এভিডেন্সের ভিত্তিতে মামলার রায় দেয়া হয়।

এই রায়ের পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আদালতে ফরেনসিক ডেন্টিস্ট্রির কদর বেড়ে যায়।ডাঃ হার্ভে তার মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ পূর্বে ১৯৭৪ সালে তার বহুল প্রতীক্ষীত Dental Identification and Forensic Odontology বইটি প্রকাশ করনে। এই বইটিকে অনেকে ফরেনসিক ডেন্টিস্ট্রির বাইবেল হিসাবে মনে করে।

ডাঃ হার্ভের একটি উক্তি –

“The law must keep pace with science…it usually lags a little behind but it does progress as scientific knowledge itself advances.”

তথ্য সংগ্রহে:
DentalTimes

শাহ সাইফ জাহান
ঢাকা ডেন্টাল কলেজ

ফিচার

ডেন্টাল চিকিৎসা নিবেন?

DENTALTIMESBD.com

Published

on

ডাঃ মোঃ আরিফুর রহমান

আমাদের অনেকেই দাঁতের যন্ত্রণায় দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। অন্য সব শল্যচিকিৎসার মত দন্ত চিকিৎসায় কিছু কিছু আচার ব্যাবহার মেনে চলা উচিত, এতে চিকিৎসক ও রোগী উভয়েই উপকৃত হবেন।

আমাদের চারিদিকে অনেক ভেজালের ভিড়ে ভেজাল ডাক্তারও কিন্তু আছে। দাঁতের ডাক্তার নির্বাচনের সময় খেয়াল রাখবেন যেন চিকিৎসক অবশ্যই ন্যূনতম বিডিএস (Bachelor of Dental Surgery) ডিগ্রিধারী হন। মনে রাখবেন বিডিএস ডিগ্রী এবং বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এর অনুমোদন ছাড়া কেউ দাঁত ও মুখের চিকিৎসা করার যোগ্যতা রাখে না।একজন বিডিএস ডিগ্রিধারী ডাক্তার বিএমডিসির নীতিমালা অনুযায়ী নিজের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রেসক্রিপশন প্যাড এ লিখে থাকেন যেটা আপনি বিএমডিসির ওয়েবসাইটে গিয়ে যাচাই করে দেখতে পারবেন।

DentalTimes

ধৈর্য্য হারাবেন নাঃ

ডেণ্টাল ক্লিনিকে রোগীদের একটু বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় কারন ডেন্টাল সার্জনদের ক্ষেত্রে মেডিসিন এর চিকিৎসকদের মত শুধু রোগ পরীক্ষা করে ওষুধ লিখে দিয়ে কাজ শেষ হয়না বরং পুরাতন রোগী ছাড়াও ক্ষেত্রবিশেষে নতুন রোগীর সার্জারি সহ অনন্য প্রসিডিওর করতে হয়, যা সময় সাপেক্ষ। সুতরাং দেখা যায় এক এক জন রোগীর পেছনে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা

সময় চলে যায়। তাই অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হলে ধৈয্য হারাবেন না। মনে রাখবেন আপনার জন্যও এমন সময় দেয়া হবে। অধিকাংশ ব্যস্ত ডাক্তার রোগীদের জন্য টেলিফোনে অগ্রীম সিরিয়াল নেবার ব্যবস্থা রাখেন। সেইসময় সাধারণত একটা অনুমানিক সময় দেয়া হয়। অপেক্ষাকালীন সময় জরুরী রোগী (দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত বা মাত্রারিক্ত যন্ত্রণায় অস্থির) থাকলে মানবিকতার খাতিরে আগে যেতে দিন।

ডাক্তারের সামনেঃ আপনি যদি নতুন রোগী হউন তবে ডাক্তার আপনার দাঁতের অসুবিধার কথা জানতে চাইবেন। এইক্ষেত্রে অল্প কথায় আপনার মূল অসুবিধা কি কি জানাবেন। যেমন- ‘নীচের চোয়ালের বাম দিকে ব্যাথা’ অথবা ‘দাঁত এ শিরশির করে’। মনে রাখবেন অতিরিক্ত সমস্যার কথা বললে যেমন রোগ নির্ণয় করা কঠিন হয় তেমনি একদম কম কথাতেও মূল সমস্যার কাছাকাছি যাওয়া কঠিন হতে পারে । দাঁতের রোগের পাশাপাশি আপনার  অন্য কোন রোগ থাকলে তা ডাক্তারকে জানাতে ভুলবেন না।DentalTimesআপনি যদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রিউমেটিক ফিভার বা অন্য কোন রোগের জন্য ঔষধ খাওয়ারত থাকেন তবে সেই প্রেসক্রিপশন দেখান। বিশেষকরে আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান এই তথ্যগুলোও আপনার ডেন্টাল সার্জনকে নিঃসংকোচে জানাবেন কারন গর্ভকালীন সময় অনেক ওষুধ (বিশেষ করে ব্যাথার ওষুধ) দেয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকে।

সাজসজ্জাঃ লিপস্টিকে হয়ত আপনাকে সুন্দর দেখায় কিন্তু দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাবার আগে লিপস্টিক মুছে নিন কারন তা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় নষ্ট তো হবেই পাশাপাশি ডাক্তারের গ্লাভস ও যন্ত্রপাতিতে লেগে যাওয়া লিপস্টিক বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের বিরক্তির কারন হতে পারে । DentalTimesঅনেক মহিলা মাথার চুল উচু করে খোঁপা করে রাখেন যা ডেন্টাল চেয়ারে মাথা রাখার ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি করে এবং উপরের পাটির দাঁতের সুক্ষ চিকিৎসা (যেমন রুটকেনেল বা ফিলিং) করার সময় ডাক্তারের সমস্যা হয়। তাই চুল উঁচু করে খোঁপা না করাই শ্রেয়।

আপনার কমনসেন্স ব্যবহার করুনঃ  ডাক্তারের রুমে ঢুকবার সময় আপনার সাথে থাকা মোবাইল ফোন সাইলেন্ট করে নিন। চিকিৎসা চলাকালীন সময় রিং বাজলে এবং মোবাইল ব্যবহার করলে চিকিৎসা প্রক্রিয়াতে বাধা পড়ে এবং ডাক্তারের বিরক্তির সৃষ্টি করতে পারে।

ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোর ভিতরে ওটি রুম জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য অনেক ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয় এবং অধিকাংশ ক্লিনিকের এই অংশে জুতা খুলে প্রবেশ করার নিয়ম। সাধারণত ক্লিনিকগুলোতে ভেতরে পরার জন্য আলাদা জুতা থাকে, সেটা চেয়ে নিন। মনে রাখবেন এই নিয়মগুলো আপনার জীবাণুমুক্ত পরিবেশে চিকিৎসা সেবা  নিশ্চিন্ত করার উদ্দেশেই করা।

আপনাকে দাঁতের ডাক্তারের কাছে আসার আগে দাঁত ব্রাশ করে আসতে হবে এমন কোন কথা নাই কিন্তু অন্তত মুখে একগাদা পান বা ওয়েটিং রুমে চিবুনো চিপস এর কণা মুখে নিয়ে দাঁত এর চিকিৎসকের কাছে মুখ হা করা উচিত নয়।এই ক্ষেত্রে অন্তত ডেন্টাল চেয়ারে বসে প্রথমেই পানি দিয়ে ভাল মত কুলি করে নিতে পারেন।

ডেন্টাল ক্লিনিক মাছ বাজার নয়ঃ আপনার দাঁতের সমস্যা পরীক্ষা করার পরে ডাক্তার সাধারণত আপনার কি কি অসুবিধা তা ব্রিফ করেন এবং এর সমাধানের যেসব রাস্তা আছে তা বর্ণনা করেন। অধিকাংশ ডাক্তার আপনাকে এই সময় খরচের হিসাব দিয়ে দিবেন। অনেক রোগী খরচের কথা শুনেই দামাদামি শুরু করেন, অনেকে আবার অন্য ডাক্তারের উদাহরণ টানেন। যাই হোক আপনাকে এই ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে ডেন্টাল ক্লিনিক মাছের বাজার না। অধিকাংশ ক্লিনিকের দৃষ্টিগোচর স্থানে বিভিন্ন কাজের চার্জ এর তালিকা দেয়া থাকে। যদি আপনাকে ডাক্তার খরচ এর হিসেব না দেন তবে নিজে থেকেই জেনে নেয়া ভাল, বিশেষ করে কিরকম কি খরচ হবে, কয় দিন আসতে হবে ইত্যাদি। এতে পরবর্তীতে ভুল বুঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না। মনে রাখবেন দাঁতের চিকিৎসায় যে সব যন্ত্রপাতি আর মেটেরিয়ালস ব্যবহার হয় সেগুলো অধিকাংশ বিদেশ থেকে আমদানী করা হয় তাই স্বাভাবিকভাবেই এই চিকিৎসা একটু ব্যায়বহূল। তবে প্রতিটা সমস্যার কয়েক ধরনের সমাধান থাকে। তাই আপনার আর্থিক অবস্থা যেমনি হোক না কেন সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য সাধ্য অনুযায়ী একটা না একটা পথ আপনি বেছে নিতে পারবেন। যেমন আপনি যদি একটা দাঁত বাধানোর উদ্দেশে যদি ডাক্তারের কাছে যান তবে তার  তিন ধরনের উপায় আছে, ব্রিজ করতে চাইলে একটা দাঁতের পিছনে ন্যূনতম ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে কিন্তু এই দাঁত বাধানোর অন্য পদ্ধতি পারশিয়াল ডেনচার করলে মাত্র ৮০০-১৫০০ টাকায় করা সম্ভব। আবার এই দাঁত লাগানোরই সর্বাধুনিক পদ্ধতি ইমপ্ল্যান্ট করতে চাইলে আপনাকে এই এক দাঁতের জন্যই গুনতে হবে অন্তত ৪০-৬০ হাজার টাকা। তাই আপনার সাধ্য অনুসারে চিকিৎসা নিন। একান্তই গরীব রোগীদের জন্য মানবিকতার খাতিরে ডাক্তাররা সাধারণত একটু ছাড় দিয়ে থাকেন । সেক্ষেত্রে আপনার আর্থিক অসুবিধার কথা বিনীত ভাবে জানান।

DentalTimes

দাঁতের ডাক্তার ভীতিঃ অনেক রোগী চিকিৎসা করাতে খুব ভয় পান। দাঁত অনেক সংবেদনশীল অঙ্গ। দাঁতের মধ্যে ড্রিল করা বা মুখের ভেতরে ইনজেকশন দেবার সময় অনেক রোগী ভয় পেয়ে থাকেন। অনেকে ভয়ের কারনে অস্থির হয়ে পরেন, এতে চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। জেনে রাখা ভাল যে আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং নতুন নতুন পদ্ধতি সংযোজনের মাধ্যমে বর্তমানে দাঁতের চিকিৎসা বলতে গেলে একদম বিনা ব্যাথায় দেয়া সম্ভব। আপনার ডেন্টাল ফোবিয়া থাকলে ডাক্তারকে জানান। ডেন্টাল চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই ৩-৪ বার সিটিং দেয়া লাগে এবং এর মাধ্যমে চিকিৎসক এর সাথে রোগী এবং রোগীর পরিবারের একটা বন্ধন গড়ে উঠে। তাহলে আর দেরী কেন? দাঁতের যন্ত্রনা সহ্য করে যারা দিন কাটাচ্ছেন তারা সকল দ্বিধা আর ভীতি উপেক্ষা করে আজই একজন বিডিএস ডিগ্রীধারী ডাক্তারের শরণাপন্ন হউন।

লেখক পরিচিতিঃ

ডাঃ মোঃ আরিফুর রহমান
বিডিএস, এমপিএইচ
সহকারী অধ্যাপক ও ডেন্টাল ইউনিট প্রধান
নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ , সিলেট।

Continue Reading

জনপ্রিয়

Enable Notifications From DentalTimesBD    Ok No thanks