Connect with us

যাপিত জীবন

ডেন্টাল চিকিৎসায় আধুনিকতা

Published

on

ডাঃ মো. আসাফুজ্জোহা রাজ: সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের দেশে ডেন্টাল চিকিৎসার মান এখন অনেক আধুনিক। ২০০০ সালের প্রথমদিকেও দেশে অনুমোদিত ডেন্টাল সার্জনের সংখ্যা ছিল মাত্র এক হাজারের মতো। তখন জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশ অনেকটা নিরুপায় হয়ে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতো।

আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা কম ছিল বলে তখন স্বল্প খরচে দাঁতের সমস্যায় দাঁত তুলে ফেলতে বেশি আগ্রহী ছিল। প্রত্যেকটা দাঁতের নির্দিষ্ট কাজ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণাও ছিল না।

দাঁতের চিকিৎসায় খরচ করতেও ছিল অযৌক্তিক অনীহা। অল্প সময়ের মধ্যে সেই দুরবস্থা কাটিয়ে তুলেছেন বর্তমানের প্রায় দশ হাজার অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসক। প্রত্যেকটি রোগীকে স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে, মুখের মধ্যকার যে কোনো রোগের চিকিৎসা দেয়ার বৈধ ক্ষমতা রাখেন কেবল বিডিএস (ব্যাচেল্র অফ ডেন্টাল সার্জারি) ডিগ্রিধারী চিকিৎসক। পরবর্তী সময়ে রোগের ধরন ও গভীরতা বিবেচনায় ডেন্টাল চিকিৎসকগণের মধ্যেও বিভিন্ন নির্দিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে।

কিছুদিন আগেও সংখ্যায় অতি সামান্য হওয়াতে একজন ডেন্টাল চিকিৎসককে মুখের মধ্যকার সব রোগের চিকিৎসা দিতে হতো। বর্তমানে উন্নত বিশ্ব সমমানের চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে দেশের চিকিৎসকগণ নির্দিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, যেমন এন্ডোডেন্টিস্টরা আক্রান্ত দাঁতকে সংরক্ষণের জন্য স্বাস্থ্যবান্ধব কম্পোজিট ফিলিং, উন্নত ঘূর্ণয়মান যন্ত্রের সাহায্যে রুটক্যানেল চিকিৎসা দিচ্ছেন।

ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জনরা জটিল দাঁত তোলার পাশাপাশি চোয়ালের হাড় ভাঙ্গা, মুখের অভ্যন্তরীণ টিউমার, সিষ্ট এমনকি ক্যান্সারের চিকিৎসা দিচ্ছেন, পাশাপাশি মুখের অস্বাভাবিকতা, ঠোঁট বা তালু কাটার চিকিৎসাও দিচ্ছেন।

অর্থডেন্টিস্টরা যে কোনো বয়সেই এলোমেলো উচুঁ-নিচু দাঁতকে সুন্দর সুসজ্জিত করছেন। প্রস্থোডন্টিস্টরা কৃত্রিম দাঁত সংযোজনে বিশ্বসেরা ইমপ্ল্যান্ট পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

কসমেটিক ডেন্টাল চিকিৎসা ও শিশুদের ডেন্টাল চিকিৎসাও আমাদের দেশ গর্ব করার মতো অবস্থানে আছে। দেশের ডেন্টাল সার্জনরা যখন নিরলস পরিশ্রম করে নিজ উদ্যোগে উন্নত বিশ্বে উদ্ভাবিত ও ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রের সঙ্গে নিজেদের পরিচিত করে দেশের সাধারণ জনগণের ডেন্টাল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন তখন স্বচ্ছ জ্ঞানের অভাবে অনেক রোগী ডেন্টাল চিকিৎসায় আস্থাহীনতায় ভুগছেন। প্রধান কারণ হিসেবে বলা যায়, পর্যাপ্ত প্রচারের অভাব আর সাধারণ মানুষের ডেন্টাল চিকিৎসায় উদাসীনতা।

শরীরের অনান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন চোখ, হার্ট, কিডনি, লিভার ইত্যাদির অসুখে যেমন সাধারণ মানুষ যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে সাধ্যমতো খোঁজ-খবর নিয়ে চিকিৎসা নেয়, ডেন্টালের বিষয়টিতে ততটা সতকর্তা দেখা যায় না, অপেক্ষাকৃত কম চিকিৎসা খরচের জন্য অনুমোদনহীন ভুয়া চিকিৎসকের সরণাপন্ন হয়ে শুধু প্রতারিত হওয়ার আশংকাই নয়, উপরন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থাকে জটিল, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয় বহুল করে তোলে। সেখান থেকে চিকিৎসার প্রতি আস্থাও কমে যায়।

আমাদের দেশের চিকিৎসার মান ও তার খরচ এখন এতটাই জনপ্রিয় যে প্রবাসীরা দেশে এসে ডেন্টাল চিকিৎসা নিচ্ছেন, শুধু তাই নয়, ভিনদেশী রোগীরাও ডেন্টাল চিকিৎসায় বাংলাদেশকে বেছে নিতে শুরু করেছেন।

মুখের অভ্যন্তরে দাঁত বা মাড়ি রোগ কোনো অবস্থাতেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। চিকিৎসা গবেষকগণ স্পষ্ট প্রমাণ করেছেন দাঁত ও মাড়ির রোগের সঙ্গে শরীরের যে কোনো অঙ্গের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। সময় এসেছে এখন দাঁত থাকতেই দাঁতের মর্যাদা বোঝার, প্রতিটি মানুষেরই সচেতন হতে হবে ছয় মাস অন্তর অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসকের মাধ্যমে মুখের অভ্যন্তর পরীক্ষা করিয়ে নেয়া।

সমগ্র বিশ্ব এ বিষয়ে জোরালো দাগিদ দিচ্ছে যাতে করে ডেন্টালের বড় ধরনের কোনো রোগ বা সমস্যা থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়। নিয়মিত নিয়ম অনুযায়ী মুখ পরিষ্কারে কোনো বিকল্প নেই, পাশাপাশি মিষ্টি আঁঠালো খাদ্যের প্রতি দুর্বলতা কমানোটা জরুরি। সচেতন ও পর্যাপ্ত জ্ঞান আমাদের মুখ তথা সমগ্র শরীরকে সুস্থ রাখতে অন্যতম ভূমিকা রাখে।

প্রকাশিত: দৈনিক যুগান্তর, ১৯ নভেম্বর, ২০১৬

Advertisement

যাপিত জীবন

ওরা ‘খুদে ডাক্তার’: স্বপ্ন দেখছে চিকিৎসক হওয়ার

Published

on

মেধাবী, চটপটে ও বাকপটু সাতজন ছেলে-মেয়ের একটি দল। সবার পরনে সাদা অ্যাপ্রোন। ওরা সবাই ‘ক্ষুদে ডাক্তার’। সহপাঠীদের ওজন, তাপমাত্রা ও উচ্চতা পরিমাপ করে খাতায় লিখে রাখছে ‘খুদে ডাক্তার’ দল। শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলার সাথে শ্রেণি ডাক্তারদের নিকট স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাচ্ছেন। প্রথম দেখাতে যে কেউ তাদের কার্যক্রম দেখে অবাক হবে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের ৫৫নং আউলাজুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃশ্য এটি।

প্রতি বছর দুবার সহপাঠীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল, কৃমির ওষুধ খাওয়ানো, স্বাস্থ্য দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসের কর্মসূচিগুলোতে অংশ নেয় খুদে ডাক্তারদের এই টিম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহায়তায় সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা ২০১১ সাল থেকে ‘খুদে ডাক্তার’ কর্মসূচি শুরু করছে। এই কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে মেধাবী ও চটপটেদের বাছাই করে ক্ষুদে ডাক্তারের দল গঠন করা হয়।

শিক্ষকেরা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগের কারণে খুদে শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগেই ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

আউলাজুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শিক্ষার্থীরা। আর এক এক করে ডাকছে ক্ষুদে ডাক্তার টিমের সদস্যরা। এরপর নাম লিখে ওজন, তাপমাত্রা, উচ্চতা ও পেশার মাপা হচ্ছে। আর এসব কার্যক্রমের পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আল মামুন।

আউলাজুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক (ভারপ্রাপ্ত) জান্নাতুল ফেরদৌস সানি জানান, খুদে ডাক্তারের দলটি বছরে দুবার বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর ওজন, উচ্চতা ও পেশার মেপে লিপিবদ্ধ করে। এরপর ওই তালিকা একজন শিক্ষক পর্যবেক্ষণ করেন। এ বিষয়ে তাদের পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গফরগাঁও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এমরান হোসেন আকন্দ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, ক্ষুদে ডাক্তারের দায়িত্ব পালন করতে পেরে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরাও খুশি। এছাড়াও বর্তমান উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইফুল মালেক যোগদান করার পর থেকে এই কার্যক্রম আরও বেগবান হয়েছে। আউলাজুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে ডাক্তার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল হক মোয়াজ, পঞ্চম শ্রেণির আফসানা মীম, হাবিবা ও তৃতীয় শ্রেণির ছোয়াদ জানায়, এই দায়িত্ব পালন করতে তাদের খুবই ভালো লাগে। এই টিমে যোগ দেওয়ার পর আমরা আগের থেকে আরও বেশি স্বাস্থ্যসচেতন হয়েছি। শিক্ষকরাও আমাদের অনেক উৎসাহ দিচ্ছেন।

বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ক্ষুদে ডাক্তার উষা মনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছি। কারও কোন সমস্যা থাকলে শিক্ষককে সেটা জানিয়ে দেই। পরে শিক্ষক অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন।

গফরগাঁও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল মালেক বলেন, উপজেলায়, ২৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪৩ হাজার ৯১৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এসব বিদ্যালয়ের ১৬৬৬ জন ক্ষুদে ডাক্তার রয়েছে। ওই ক্ষুদে ডাক্তাররা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে। এই কাজের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী মনে মনে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এতে তারা পড়াশোনায় মনোযোগী হচ্ছে।

Continue Reading

যাপিত জীবন

“পেইন হলো ডাক্তারদের জন্য ব্লেসিং”

Published

on

ডাঃ সাজিদ হাসান

ব্যথা অর্থাৎ পেইন এমন একটা জিনিস যেটা আমাদের ডাক্তাদের জন্য ব্লেসিং। কথাটা কেমন জানি শোনালো তাই না! চলেন ব্যাখ্যা করি।

একটি পেসেন্ট এসেছে দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা নিয়ে। আমি আমার প্রাকটিসিং লাইফে সবসময় সময় নিয়ে রোগী দেখি যার কারণে আমি বেশি রোগী দেখতে পারিনা। তো যাই হোক রোগী ১০ বছর যাবত এ রোগ নিয়ে ভুগছে।

চেম্বারে এসে রোগী বলা শুরু করলো “স্যার আমি ১০ বছর ধরে মাড়ির ব্যথায় ভুগছি। যখন ব্যাথা উঠলে পাগল হয়ে যাই। একটার পর একটা ডাক্তান দেখিয়েছি কিন্তু লাভ হয় না। এই ব্যথার জন্য মাড়ির ৩।টা দাঁত ফেলে দিয়েছি। তাও ব্যথা কমে না। ঢাকায় যেয়েও দেখিয়েছি কিন্তু লাভ হচ্ছে না।”

এমতাবস্থায় আমি চুপচাপ পেসেন্ট এর কথা শুনছি আর তার চেহারার দিকে তাকিয়ে আছি। এই ক’বছরের অভিজ্ঞতায় আল্লাহর রহমতে রোগীর চেহারা এবং ব্যথার জন্য মুখের এক্সপ্রেশনে ওটি টেবিলে ওঠানোর আগেই প্রভিশনাল একটা ডায়াগনোসিস করে ফেলতে পারি।

তো যাই হোক জিজ্ঞেস করলাম ব্যথা টা কেমন হয় বাবা..!! আর কখন কখন হয়..!!
(বলে রাখি আমি আমার রোগীদের সবসময় বাবা,মা কিংবা এ জাতীয় বিশেষণ দিয়ে রোগীকে সম্মোধন করি..)

এবার পেসেন্ট বলা শুরু করলো স্যার প্রতিদিনই ব্যথা হয়। এর আগে একজন ডাক্তার মাড়ির ইনফেকশনের কারণে ওষুধ দিয়েছিলো তাতে করে একটু ভালো ছিলাম। ওই ক’দিন। তারপর আবার যা তাই।

পেসেন্ট এর আগে যে ডাক্তারদের দেখিয়েছে তাদের প্রেসক্রিপশন গুলো দেখলাম,বিভিন্ন টেস্ট করেছে সেগুলা দেখলাম,পেসেন্ট ওপিজি (ডেন্টাল এক্স-রে) করেও নিয়ে এসেছে। সেটা হাতে নিয়ে দেখার আগে ব্যথার ন্যাচার তথা কেমন হয় আর কতক্ষণ ব্যথা থাকে সেটাও জিজ্ঞেস করে নিলাম।

পেসেন্ট উত্তর দিলো “স্যার ব্যথা টা চিড়বিড় করে ওঠে,আর অনেক ব্যথা আর এ প্রতিদিনই হয়,শুধু একপাশেই হয়। বলতে বলতে পেসেন্ট তার বাম গালে মুখে হাত দিয়ে বসলো…”

আমার বুঝতে বাকি রইলো না পেইন এ্যাটাক করেছে।।তার ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন, তার ব্যথার তীব্রতা এবং সময় আমাকে অলরেডি পথ দেখিয়ে দিয়েছে…

ওপিজি দেখলাম। আগের সব প্রেসক্রিপশন চেক করলাম এরপর পেসেন্ট কে ওটি টেবিলে শুইতে বললাম।

মনে মনে একটা সুন্দর ডায়াগনোসিস ভেসে উঠছে..এই তো এটাই তো হওয়া উচিত। এই ভাবতে ভাবতে গ্লবস পরলাম,হেড ক্যাপ পরলাম, মুখে মাস্ক পরলাম পেসেন্ট এর ওরাল এক্সামিনেশনও ডান।

এবার পেসেন্ট কে সামনে বসিয়ে বলা শুরু করলাম। বাবা ব্যথা টা যখন হয় কারেন্ট শক হওয়ার মত হয় তাই না! বললো হ্যাঁ..

বাবা ব্যথাটা সবসময় তো থাকে না তাই না..!!
বললো না..

বাবা ব্যথাটা অল্প সময় থাকে তাই না..!! বললো জ্বী স্যার ১/২ মিনিট…

বাবা ব্যথা টা মুখের ঠিক এই জায়গা (ট্রিগারড একটা পয়েন্ট) থেকে শুরু হয় তাই না..!!
বললো হ্যাঁ স্যার…

ডায়গনোসিসের দরজা খুলে গেছে আমার। আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না দিস ইজ এ কমপ্লিট কেইস অফ “ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া”..

পেসেন্ট কে এবার প্রথম থেকে কাউন্সেলিং শুরু করলাম। সে যত ডাক্তারদের কাছে গেছে তার ভিতর একজন কোয়াক ও ছিলো। সেটা দিয়েই শুরু করলাম। এরপর একে একে তাকে সব বুঝিয়ে দিলাম…ওষুধ প্রেসক্রাইব করছি আর আমার সার্জারীর শ্রদ্ধেয় প্রফেসর কবির স্যারকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। কারণ?

কারণ স্যার আমার খাতার উপর বড় করে লিখিয়েছিলেন “সাজিদ তুমি লিখো। এই কথাটা সবসময় লিখে রাখবে তোমার কাছে।” জিগ্যেস করেছিলাম কি কথা স্যার..!!

স্যার বলেছিলেন “লিসেন টু ইউর পেসেন্ট। ইউর পেসেন্ট উইল টেল ইউ দ্যা ডায়াগনোসিস।”

এর সাথে আমি আরও একটা কথা এড করে নিতাম সেটা হলো “ডায়াগনোসিস ইজ দ্যা কি ফ্যাক্টর অফ ইউর ট্রিটমেন্ট। ইফ ইউ ক্যান ডু ডায়াগনোসিস দেন ইউ ক্যান হ্যান্ডেল এনি কেসেস”।

ঠিক এই জন্যই পোস্টের শুরুতে বলেছিলাম ” পেইন হলো ব্লেসিং”। কারণ পেইন এর ন্যাচার এবং পেইন এর ইন ডিটেইলস তোমাকে ডায়াগনোসিস এর পথে এগিয়ে নিতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে…

আলহামদুলিল্লাহ। প্রাকটিসিং জীবনে এই ছোট্ট ছোট্ট ভালোলাগা কিংবা নিজের কনফিডেন্স টা বুস্ট আপ হওয়াটা অনেক সুখের।

আমার জুনিয়র দের সবসময় আমি বলি “ইউ ডোন্ট নিড টু বি পারফেক্ট যাস্ট বি অনেস্ট ইন ইউর ওয়ার্ক। এন্ড অলওয়েজ রিমেম্বার তুমি ঠিক সে ধরণেরই ডাঃ হও যে ধরণের ডাঃ তুমি পেসেন্ট হইলে আশা করতে”।

শেষমেশ ধন্যবাদ উপরওয়ালা কে। ডেন্টিস্ট্রির মত ভ্যাস্ট এবং বিউটিফুল একটা প্রফেশনে আমাকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য…. 💞

Continue Reading

করোনা পরিস্থিতি

কোভিড -১৯ পরিস্থিতিতে দন্তচিকিৎসা সেবা একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পেশা

Published

on

ডাঃ দেবব্রত ঘোষ

গত ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহান শহর থেকে SARS-CoV-2 নামে অত্যন্ত সংক্রামক করোনাভাইরাসের উত্থান ঘটে যা ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই মহামারিকে COVID-19 হিসেবে নামকরন করে এবং এটিকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা পাব্লিক হেলথ ইমারজেন্সি হিসাবে ঘোষণা করেছে।

করোনার ভাইরাস হল একটি আবরণযুক্ত আর-এন-এ ভাইরাস। মানুষের মধ্যে করোনার ভাইরাস সংক্রমণ প্রধানত শ্বাসযন্ত্রের উপরের অংশে (অর্থাৎ নাক থেকে শ্বাসনালী পর্যন্ত) দেখা যায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে এটি খাদ্যনালিকেও কিছুটা প্রভাবিত করে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ক্লিনিকাল লক্ষণগুলির মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর সমস্যা যেমন- সাধারণ সর্দি বা ঠান্ডাজনিত ব্যধি থেকে গুরুতর সমস্যা যেমন ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, এমনকি কিডনি রোগ পর্যন্ত হতে পারে।

হাঁচি-কাশি বা স্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়া এই COVID-19 রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে সাধারণ জনগণের তুলনায় ডেন্টাল সার্জন সহ স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীগণের আসার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষত, না জেনে COVID-19 রোগীর সংস্পর্শে আসা বা SARS-CoV-2 সংক্রমিত উপসর্গহীন ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা দন্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যমাত্রায় বাড়িয়ে দেয়, যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকে।

করোনার ভাইরাসের কণা গড়ে ৬০ থেকে ১৪০ ন্যানোমিটার (গড়ে ০.১২৫ মাইক্রন) হয়ে থাকে এবং এর গায়ে ৯ থেকে ১২ ন্যানোমিটার স্পাইক রয়েছে যা দেখতে সূর্যের চারপাশের রশ্নি (“করোনা”) সদৃশ। মানবদেহের শ্বাসযন্ত্রের বাইরের স্তরে এপিথেলিয়াল কোষগুলোতে ৯৬ ঘন্টা টিকে থাকার পরে এই ভাইরাসের কোষের মৃত্যু পরিলক্ষিত হয়।

আমাদের নাক সাধারণত ১০ মাইক্রনের চেয়ে বড় বায়ু কণাকে আটকে দিতে পারে। যদি কোনও কণা ১০ মাইক্রনের ছোট হয় তবে এটি নাকের ভেতর দিয়ে শ্বাসনালীতে প্রবেশ করতে পারে। এটি যদি ২.৫ মাইক্রনের চেয়ে ছোট হয় তবে এটি ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। যেহেতু করোনা ভাইরাসের কণা প্রায় ০.১ মাইক্রন এর সমান তাই এই কণা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে, এমনকি হৃদপিন্ড ও মস্তিষ্কের মতো অঙ্গেও পৌঁছানোর সক্ষমতা রাখে।

বর্তমান গবেষণায় দেখা যায় যে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাতাসের চেয়েও বেশি হয় আমাদের হাঁচি-কাশির সাথে নির্গত সূক্ষ জলীয় কণার মাধ্যমে। ডেন্টিস্টদের ব্যবহৃত প্রায় সকল যন্ত্রাদি (আল্ট্রাসনিক স্কেলার, ডেন্টাল হ্যান্ডপিস, থ্রি-ওয়ে সিরিঞ্জ ইত্যাদি) এরোসল বা পানির সূক্ষ কণা তৈরী করে। যখন COVID-19 সংক্রমিত কোন রোগীর এই ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করে চিকিৎসা প্রদাণ করা হয় তখন যে এরোসল তৈরী হয়া তা রোগীর মুখ এবং শ্বাসনালী থেকে করোনা ভাইরাস বহন করে। এই এরোসোলগুলো ক্লিনিকের বাতাসে মিশে যায় এবং সেখানেই আবদ্ধ থাকে। যার মাধ্যমে চিকিৎসক, চিকিৎসা সহকারী, রোগীর স্বজন এবং ক্লিনিকে অবস্থিত অন্যান্য সকলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি এর মাধ্যমে সুস্থ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিও নতুন করে সংক্রমিত হতে পারে। দেখা যায়, মাড়ি রোগের চিকিৎসায়, নকল দাঁত প্রতিস্থাপনের চেয়ে এরোসল পরিবহনের ঘটনা অনেক বেশি ঘটে।

সার্জিকাল পদ্ধতি ছাড়াও ননসার্জিকাল পদ্ধতিতে আল্ট্রাসনিক এবং সনিক (যেমন-এয়ার পলিশিং, থ্রি ওয়ে সিরিঞ্জ এবং হাই-স্পিড হ্যান্ডপিস ইত্যাদি) যন্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি কণার সংক্রমণ ঘটে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, আল্ট্রাসনিক যন্ত্র ব্যবহারে ছয় ফুট অবধি এরোসল ছড়াতে পারে এবং প্রতি ঘনফুটে ১,০০,০০০ জীবাণু সংক্রমণ করতে পারে। যদি ঐ কক্ষে অপর্যাপ্ত বায়ুপ্রবাহ থাকে তবে জীবাণুগুলি ৩৫ মিনিট থেকে ১৭ ঘন্টা অবধি স্থায়ী হতে পারে। একারনেই পেশাগত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য আইন (ওএসএইচএ) অনুসারে, কোভিড -১৯ পরিস্থিতিতে দন্তচিকিৎসা একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পেশা

অনুবাদ : শেখ জেরিন প্রাচী

Continue Reading
ক্যারিয়ার9 hours ago

জনস্বাস্থ্য ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে পদসৃজন -(নিপসম)

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়4 days ago

অ্যান্টিবায়োটিকের মোড়ক হবে লাল, যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে হচ্ছে আইন

জাতীয়6 days ago

দাউদকান্দিতে অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকের রমরমা বাণিজ্য

জাতীয়3 weeks ago

৭ ছাত্র নিরুদ্দেশ: চিকিৎসক শাকিরের সহযোগী ভিলার স্বীকারোক্তি

সিলেট বিভাগ3 weeks ago

চিকিৎসককে ছুরিকাঘাতের হুমকি দিয়ে ডেন্টাল চেম্বারে ছাত্রলীগ নেতার চাঁদাবাজি!

সংগঠন3 weeks ago

ডা: মোত্তাকিন আহমেদ স্মরণে বিএসপিডি’র দোয়া মাহফিল

সংগঠন3 weeks ago

চিকিৎসকদের জন্য লিডারশীপ এক্সেলেন্সি শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কলাম3 weeks ago

স্বাস্থ্য খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব

জাতীয়3 weeks ago

সংস্থা বলছে জঙ্গি – পরিবারের দাবি ডাঃ শাকির নির্দোষ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর3 weeks ago

দেশে রেকর্ড সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

জাতীয়3 weeks ago

প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কার্যক্রম কেউ ঠেকাতে পারবে না – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয়3 weeks ago

বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়3 weeks ago

ডেন্টাল সার্জন অবসরে, কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে চিকিৎসা দিচ্ছে টেকনিশিয়ান

জাতীয়3 weeks ago

সিআইডি পরিচয়ে ‘চিকিৎসক’ তুলে নেওয়ার অভিযোগ

জাতীয়1 month ago

ওষুধের দাম বাড়ায় বিপাকে সাধারণ মানুষ

পরামর্শ1 month ago

দাঁতের চিকিৎসার সময় যে তথ্যগুলো গোপন করবেন না!

জাতীয়1 month ago

হাসপাতালের ল্যাবে ইলিশ মাছ, সিলগালা করে দিলেন ম্যাজিস্ট্রেট

পড়ালেখা1 month ago

বাইরের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মাস্টার্সে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে ঢাবি

শিক্ষাঙ্গন1 month ago

রংপুর মেডিকেলের ‘অসুখ’ সারবে কে?

জাতীয়1 month ago

কখনোই নিবন্ধন করেনি দেশের ১৪ শতাংশ হাসপাতাল: আইসিডিডিআর’বি

Advertisement

সম-সাময়িক

Subscribe for notification