Connect with us

Uncategorized

ডেন্টাল সার্জারী পেশার উন্নয়নের জন্যই মুখস্থ বুলি থেকে বের হয়ে আশা জরুরী

DENTALTIMESBD.com

Published

on

DentalTimes

ত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন আমি বরাবর চেষ্টা করি যেন আমার যতটুকু সীমিত জ্ঞান আছে, তার থেকে যদি কেউ কিছু শিখতে পারে, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ার যথার্থ প্রয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত একটা উদাহরণ সৃষ্টি হতে পারে। সেটা পেশাগত হোক, কিংবা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি বা বহির্বিশ্ব – এর যে কোন বিষয়েই হোক। আমি যে গ্রুপগুলায় অংশগ্রহণ করি, সেখানে আপনারা নিশ্চয়ই তা’ প্রত্যক্ষ করেছেন। একইভাবে আমি নিজেও আমার সতীর্থ থেকে শুরু করে অনুজ এবং অগ্রজের কাছ থেকে জ্ঞানাহরণের জন্য সদাপ্রস্তুত থাকি। কারণ সবার মত আমিও এই কথা বিশ্বাস করি যে জ্ঞান ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমেই বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

ফেইসবুকের পাতায় পাতায় আমাদের অনেক ডেন্টাল সার্জনকে গর্বের সাথে তাদের কাজের প্রদর্শনী করতে দেখি। অনেক পোস্ট দেখে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকি। কারণ একটা ডেন্টাল ফোরামে যদি শুধুমাত্র ডেন্টাল সার্জনদের মধ্যে পেশাগত মত বিনিময় হোত, সেখানে গঠনমূলক সমালোচনা করতে অসুবিধা থাকতো না। তাতে চিকিৎসক থেকে শুরু করে রোগী, সবাই লাভবান হোত। সর্বোপরি আমাদের পেশারই মান উন্নত হোত। কিন্তু সেটা যখন সাধারণ জনগণের দৃষ্টিগোচর হয়, তখন ব্যক্তি-পর্যায়ে সেইরকম নিরপেক্ষ আলোচনা করার সুযোগ থাকে সীমিত। আমার আজকের এই ভাবনাও তাই আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে লিখছি না।

যাই হোক, ফেইসবুকে দেখা বেশীরভাগ ক্রাউন এবং ব্রীজের কাজে যাকে বলা হয় ‘ইমার্জেন্স প্রোফাইল’ ঠিকমত করা হয় না। তাই অসম্ভব রকমের গজালি মার্কা দাঁতের হাসি দেখতে পাই। নিজের পদযুগল যেন তেন জুতা দিয়ে ঢেকে সুরক্ষিত করার চেয়ে সঠিক জুতা জোড়া নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোযোগী হওয়া যেমন জরুরী, ঠিক তেমনি দাঁত শুধু ঢেকে দিয়ে সমস্যা আড়াল করার মাঝেও আসলে কোন কৃতিত্ব নাই।

আরেকটু গভীরে আলোচনা করতে হলে অন্য বিষয়গুলার উপরেও আলোকপাত করা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়ে। যেহেতু আমি নিজে বড় রকমের ওরাল সার্জিক্যাল কাজ করি না, তাই সেই ব্যাপারে বড় মুখ নিয়ে কিছু বলতেও চাই না। এখানে সবধরণের কাজের জন্য স্পেশ্যালিস্ট নির্ধারণ করা আছে। তাই একটু জটিল কেইস হলেই রেফার করে দিতে হয়। তার কারণ হলো এখানে দায়বদ্ধতার ব্যাপারটা সুনিশ্চিত। জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণেও চিকিৎসায় কোন ত্রুটি হলে আমার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে। সেইক্ষেত্রে মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়াও অস্বাভাবিক কিছু না। এই একই কথা অন্যান্য সাব-স্পেশ্যাল্টির ব্যাপারেও প্রযোজ্য।

তবে বাংলাদেশের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, যে হাতেগোনা কিছু খাঁটি ওরাল সার্জন বা
অন্যান্য স্পেশ্যালিস্ট থাকলেও শুধুমাত্র কয়েকদিনের সংক্ষিপ্ত কোর্স করে অনেকেই স্পেশ্যালিস্ট হয়ে
উঠেছেন বা উঠছেন!! আর তারপর হাত পাকানোর জন্য গিনিপিগ হিসাবে ভুরি ভুরি রোগী পেতে কখনই
তো অসুবিধা হয় না। এটা মনে রাখা জরুরী যে আমি শুধুমাত্র অনুমানের উপর ভিত্তি করে এই কথা বলছি না। ২ দশকের বেশী সময় ধরে বিদেশে অবস্থান করলেও আমি নিয়মিত দেশের খোঁজখবর রাখি।

তারপরও বলবো, যে বাংলাদেশে যে ভাল কাজ একদম হচ্ছে না, তা নয়। ভাবতে গর্ব অনুভব হয় যে সেই আশির দশকের চেয়ে দেশের সর্বাঙ্গীন চিকিৎসার মান এখন অনেক উন্নত। পুরা দুনিয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশেও এখন ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের কাজ হচ্ছে। অথচ আমাদের সময় বাংলাদেশ যে কোন বিষয়ে বহির্বিশ্ব থেকে কম করে হলেও এক দশক পিছিয়ে থাকতো! কিন্তু এখনও অনেক কাজ বাকী আছে। শুধু বড় বড় কেইস করে ফেললেই হবে না। “ঝড়ে বক মরে আর ফকিরের কেরামতি বাড়ে“ জাতীয় চিকিৎসক কারো কাছে কাম্য না। আমরা চাই এমন চিকিৎসক সমাজ, যেখানে প্রত্যেকে সুনিশ্চিতভাবে ন্যুনতম মানের সেবা প্রদানে হবে সক্ষম। শুধু তাই না। প্রয়োজনে তারা নিজেরাই একজন আরেকজনকে উন্নতমানের কাজ শিখানোর মত যথোপযুক্ত জ্ঞানের অধিকারী হবে।

আগেই বলেছি যে ফেইসবুকের উপস্থিতি অর্থবহ করার জন্য প্রতিদিন আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকে। আর নিজের পেশার উন্নতির জন্য আরও অনেকের মত আমি নিজেও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সর্বদা নিয়োজিত। ২০১২ সালে একটা ডেন্টাল ফোরামের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম। সময়ের স্বল্পতা এবং আরও আনুষঙ্গিক কারণে সেখান থেকে সরে এসেছিলাম। তবে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে শুরুতে বছরখানেক বা তার একটু বেশী সময়ে যে পরিমাণ তথ্য নিয়ে সেই ফোরামে আলোচনা করেছিলাম, তার সিকিভাগও গত দেড় বছরে হয়েছে বলে মনে হয় না।

এখানে উল্লেখযোগ্য, যে ফোরামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ না করলেও গত সাড়ে ৩ বছর ধরে আমি নেপথ্যে থেকে কর্তব্যনিষ্ঠ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তাদের পড়ার জন্য নিয়মিতভাবে ওদের চাহিদামত সাম্প্রতিক বিদেশী জার্নালের অনেক তথ্য সরবরাহ করে আসছি। কিন্তু সেই ‘কর্তব্যনিষ্ঠা’ ক’জনের মাঝে পাওয়া যায়? হাজারো ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মাত্র ১ জন কিংবা ২ জনের মাঝে !! আমি একাইবা বিদেশে বসে কয়জনকে সাহায্য করবো? এভাবে তো একটা পেশার উন্নতি সামগ্রিকভাবে কোনদিন হবে না! তাই আমার উদ্দেশ্য যতই মহৎ হোক না কেন, আমি যদি মুখ বুজে এই অবস্থাই সয়ে যাই এবং একই রেওয়াজ বজায় রাখি, তাহলে নিজেই আমার পেশার উন্নয়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবো। এর চেয়ে আমার মূখ্য দায়িত্ব হওয়া উচিৎ সর্বাঙ্গীনভাবে পেশার মানোন্নয়ন কিভাবে করা সম্ভব, সেই ব্যাপারে প্রস্তাব পেশ করা বা আলোকপাত করা। আজকে আমি তেমনই এক অনুজের সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে এই স্ট্যাটাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওকে আমি সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েই আজকের এই ভাবনা লিখতে বসেছি।

আমরা ফেইসবুককে অহরহ ধর্মপ্রচারের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে থাকি এবং এই কথা অনস্বীকার্য যে মুসলমানদের মধ্যেই এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশী। এটা হয়তো আমার ভ্রান্ত ধারণা, কিন্তু ফেইসবুক থেকে আহরিত তথ্য অনুযায়ী এটা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা। অনেক সময় আমি ধর্মীয় বিধি-বিধান সঠিকভাবে পালন না করেও নিজেকে মুসলমান হিসাবে দাবী করার মত অপরাধ করে ফেলি। সেইজন্যই আমার কথায় কোন ভুল থাকলে আপনারা তা’ দয়া করে আমার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবেন বলে আমার বিশ্বাস।

ধর্মের প্রতিটা কথা অক্ষরে অক্ষরে আউড়াতে না পারলেও এইটুকু আমি জানি যে আল্লাহ্ সেই বান্দাকেই সাহায্য করেন, যে নিজেকে সাহায্য করে। অতএব, আমি মনে করি বাংলাদেশের ডেন্টাল সার্জারী পেশার উন্নয়নের সেই দায়িত্ব আরও ব্যাপক অর্থে সেখানকার পথিকৃৎদেরকেই পালন করতে হবে।

DentalTimesDentalTimesDentalTimesDentalTimesDentalTimes

কিছুক্ষণ আগে সাম্প্রতিক তথ্যসমৃদ্ধ বিদেশী জার্নালের কথা উল্লেখ করেছি। আমি বরাবর ‘সাম্প্রতিক’ কথাটার উপর খুব গুরুত্ব আরোপ করি। সাধারণত ৫ বছরের পুরানো কোন আর্টিকেল বিজ্ঞান বা চিকিৎসাশাস্ত্রে ‘আধুনিক’ বলে গণ্য হয় না, যদি না সেটা চরম আলোড়ন সৃষ্টিকারী একক আবিষ্কার হয়! পুরানো তথ্যের উপর ভিত্তি করে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বা কনভেনশন করলে অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারিত হয়, যা কিনা রোগীদের জন্য অকল্যাণকর এবং পেশাকে আরও দু’ধাপ পিছিয়ে দেয়। এমনই এক অভিযোগ নিয়ে ক’দিন আগেই জনৈক এক দন্ত চিকিৎসকের সাথে আলাপ হয়েছে। সুতরাং, আবারও সময়োপযোগী তথ্য সম্বলিত জার্নাল আর্টিকেল পড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছি।

ফিরে যাই ধর্মীয় আলাপে। প্রতিদিন না হলেও কয়েকদিন পরপর নজরে পড়ে আরেক ধরণের পোস্ট। সেই কথার সারমর্ম আমার নিজের ভাষায় বলছি। নারী অনেক বেশী মূল্যবান সম্পদ বলেই পর্দার পিছে তাকে আড়াল করে রাখা হয় বা রাখা আবশ্যক। আমাদের পেশার উন্নয়নের ব্যাপারেও সেই কথা মনে রেখেই আমাদেরকে এগুতে হবে। আপনারা হয়তো জিজ্ঞাসা করবেন যে সেটা কি করে সম্ভব? আর নাহয় ধর্ম নিয়ে ব্যঙ্গ করার জন্য আমাকে তিরস্কার করবেন। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে এই উপমা বোধগম্য না হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

যতটুকু জানতে পেরেছি, তাতে বাংলাদেশের শুধুমাত্র কয়েকটা হাতেগোনা [যদিও তা বললেও ভুল হবে] শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক জার্নাল পড়ার জন্য অনলাইনে প্রবেশাধিকার আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগ্যানাইজেশন কর্তৃক অনুমোদিত ‘হিনারি’ [HINARI Research in Health] ডাটাবেস। এইটুকু আমাদেরকে মাথায় রাখতে হবে যে বিনা পয়সায় প্রদত্ত সুবিধাদি শুধুই মৌলিক শিক্ষা প্রদান করবে। সেখানে বেশীরভাগ সময় পুরা বিশ্বের সাথে টেক্কা দেওয়ার মত একচেটিয়া জ্ঞান বা তথ্য সরবরাহ করা হবে না। ‘হিনারি’-তে তালিকাভুক্ত সিংহভাগ জার্নাল হচ্ছে ‘ওপেন এক্সেস’ জাতীয় জার্নাল; যা’ কিনা বিনামূল্যে পড়া যায়। না চাইতেই বেপর্দা হয়ে গেলে সেই নারীর যেমন কোন মূল্য থাকে না, ঠিক তেমনি বিনা পয়সায় বা সস্তায় পাওয়া ‘মাল’ কতটুকু সমৃদ্ধ হবে? এই শব্দচয়নের জন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত। কিন্তু মানুষ যখন নিজের ভালমন্দ নিজে বুঝতে অপারগ হয়, তখন এভাবেই মাথায় বাড়ি দেওয়া লাগে।

বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিটি শিক্ষকের শুধু মুখস্থ বুলি আউড়ালে চলবে না। একবিংশ শতাব্দীতে এসে অন্তত এইটুকু বুঝতে হবে যে পেশাগত জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো শিক্ষা / জ্ঞান। সেখানে কত দামী বাড়ি বা গাড়ি কিনলাম, কতবার বিদেশে পাড়ি জমালাম, কত ঘনঘন পার্টি-ডিনার করলাম, কিংবা কতগুলা উৎসব পার্বণে কত হালফ্যাশনের জামাকাপড় পরলাম, সেই প্রদর্শনীতে পেশার কোন কল্যাণ নিহিত নাই। আর প্রকৃত জ্ঞান মহার্ঘ বলেই সস্তায়, চোরাপথে বা শর্টকাটে তা অর্জন করা সম্ভব না।

DentalTimes

প্রতি বছর শুধুমাত্র একক বিশাল আয়োজন হিসাবে লাখ লাখ টাকা খরচ করে সামাজিকতা, উপঢৌকন, খাওয়া-দাওয়া এবং সাথে কয়েকটা লেকচার এবং আন্তর্জাতিক ‘ওয়েবিনার’ করতে পারলে ভাল। কিন্তু দয়া করে তার আগে প্রতিটা সরকারী এবং বেসরকারী ডেন্টাল কলেজে এর চেয়ে অনেক কম খরচে ‘ScienceDirect’, ‘Sage’, ‘Wiley’, ‘Medline’, ‘OVID’, ‘EBSCO’ – এই জাতীয় উন্নতমানের ডাটাবেসে ছাত্রছাত্রীদেরকে অত্যাধুনিক রিসার্চ পেপার সারাবছর পড়ার সুযোগ করে দিন। কারণ, পরবর্তী প্রজন্ম উপকৃত হলে আমরাই হবো লাভবান। সবাই মিলে এই পেশাকে আমরা নিঃসন্দেহে আমাদের জীবদ্দশাতেই আরও অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো বলে আমি এখনও আশাবাদী।

 

                                              লেখক                                               

DentalTimes

Dr. Fahmida Hussain
Clinical Associate Professor, Temple University dental school.
Chairperson of Level 1 Grievance Committee,
Aetna Better Health of Pennsylvania.

Continue Reading
Advertisement

Uncategorized

যশোর : ২২ চিকিৎসক-নার্সসহ ২৮ জন কোয়ারেন্টাইনে

DENTALTIMESBD.com

Published

on

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে আসায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের ১১ চিকিৎসক, ১১ নার্স মোট ২৮ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বুধবার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের জারি করা অফিস আদেশে এই কথা জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো এসব ডাক্তার ও নার্স করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীদের কনটাক্টে এসেছিলেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্যায়ক্রমে এই হাসপাতালের সবার নমুনা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, করোনা আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে যেসব ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী এসেছিলেন তাদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ১১ জন ডাক্তার ও ১১ জন নার্স ছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ড বয় ও আয়া মিলিয়ে মোট ২৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ হবে ১৪ দিন। এই সময়কালে তাদের সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে করোনারি কেয়ার ইউনিট ও মেডিসিন ওয়ার্ড লকডাউন করে দেন। গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট দুটি জীবাণুমুক্ত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়। ওই দুই স্থানে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্থানান্তর করা হয় অন্য ওয়ার্ডে।

গত কয়েকদিনে শনাক্ত হওয়া করোনা পজেটিভদের বেশ কয়েকজনকে যশোর টিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। যারা ওই হাসপাতালে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

যশোর টিবি হাসপাতালকে অস্থায়ী করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সেবার কাজে নিয়োজিতরা পাশেই নাজির শঙ্করপুরে অবস্থিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ডরমেটরিতে অবস্থান করছেন।

Continue Reading

Uncategorized

যে চারটি বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

DENTALTIMESBD.com

Published

on

বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

দেশে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ বাড়তে থাকায় পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর জন্য প্রথমবারের মত চারটি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা এবং চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল (সাবেক অ্যাপোলা), স্কয়ার হাসপাতাল ও ইউনাইটেড হাসপাতাল শুধু তাদের ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করবে।

আর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল বাইরের রোগীদের নমুনাও পরীক্ষা করতে পারবে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, “তারা যে নমুনা পরীক্ষা করবেন আমরা তা আগামীকাল থেকে অথবা যখন তারা কাজ শুরু করবেন তখন থেকে হিসাবে যুক্ত করব।”

তিনটি হাসপাতালকে বাইরের রোগীর নমুনা পরীক্ষার অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাসিমা সুলতানা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে ফলোআপে সমস্যা হতে পারে, সে কারণে তাদের এখনও তাদের আউটডোর পেশেন্টের নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

এই চারটি বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে দেশে সব মিলিয়ে এখন ২৯টি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হল।

বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড ৬৪১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ৭১০৩ জন হয়েছে। এই সময়ে আরও আটজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৩ জন হয়েছে।

Continue Reading

Uncategorized

২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৬৪১

DENTALTIMESBD.com

Published

on

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ১৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৪১ জন। ফলে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ১০৩ জন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার হাজার ৯৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭০১টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৬৪১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ১০৩ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও আটজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১১ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫০ জন।

যারা নতুন করে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং দুজন নারী। ছয়জন ঢাকার বাসিন্দা এবং দুজন ঢাকার বাইরের। বয়সের দিক থেকে চারজন ষাটোর্ধ্ব, দুজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং দুজন ত্রিশোর্ধ্ব।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

প্রায় চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার। তবে নয় লাখ ৬১ হাজারের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যান্য

Continue Reading

জনপ্রিয়

Enable Notifications From DentalTimesBD    Ok No thanks