Connect with us

বিশেষ প্রতিবেদন

ডোপ টেস্টের কোনো নীতিমালা নেই : টেস্টে পজিটিভ মানে তাকে মাদকাসক্ত বলা যাবেনা’

Published

on

Dental Times

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্ট নিয়ে কথা বলেছেন৷ এই টেস্ট কীভাবে হওয়া উচিত, উপকারিতা কী, এসব নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ৷

এখন তো মাদকাসক্ত চিহ্নিত করতে পুলিশে ডোপ টেস্ট হচ্ছে, প্রশাসনেও হবে৷ তাহলে মাদকের সংজ্ঞা কী? মাদক বলতে আমরা কোন জিনিসগুলোকে বুঝব?

Dental Times

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ: প্রথমে বলে নিই যে ডোপ টেস্ট শব্দটি আমাদের ক্রীড়া পরিভাষার একটি অংশ৷ কোনো খেলোয়াড় যদি কোনো দ্রব্য ব্যবহার করে তাদের পারফরমেন্স বাড়ায় সেটা ডোপ টেস্টে ধরা পড়ে৷ এখন এখানে যেটা নিয়ে কথা হচ্ছে তা হলো কোনো ব্যক্তি মাদক গ্রহণ করছেন কিনা তা পরীক্ষা করা৷ তবে কেউ আসক্ত কিনা তা ডোপ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়না৷ আসক্তি আছে কিনা সেটা ক্লিনিক্যালি দেখতে হয়৷ চিকিৎসকের মাধ্যমে ইন্টারভিউ করতে হয়, লক্ষণ বিচার করতে হয়৷

চাকরি ক্ষেত্রে বা অন্য ক্ষেত্রে আমাদের দেশে যেসব মাদকের পরীক্ষা করা হয় তা তিন ধরনের৷ স্টিমুলেট জাতীয় মাদক৷ যেমন: ইয়াবা, এম্পিটামিন৷ আছে ডিপ্রেশন মাদক৷ যেমন: অ্যালকহল, ঘুমের ওষুধ, গাঁজা৷ কিছু আছে নারকোটিকস বা চেতনা নাশক৷ যেমন: প্যাথেডিন, মরফিন৷ এছাড়া মাদকাসক্তরাও মিশ্র মাদক স্থানীয়ভাবে তৈরি করে।

ডোপ টেস্টে সাধারণত ইউরিন পরীক্ষা করা হয়৷ এই পরীক্ষায় গাঁজা, ইয়াবা, মরফিন ও হেরোইনের অস্তিত্ব জানা যায়৷ ব্রেথ টেস্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কেউ অ্যালকহল খেলে তা জানা যায়৷

 এই পরীক্ষায় ফল পেতে কি নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে?

Dental Times

কেউ গাঁজা সেবন করলে তার উপস্থিতি শরীরে ছয় মাস পর্যন্ত থাকতে পারে৷ ইউরিন টেস্টে সেটা ধরা পড়বে৷ ফেনসিডিল, হেরোইন, মরফিন এই জাতীয় মাদক কিন্তু ২৪- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা না করলে ধরা পড়েনা৷ আর ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে তিনি আসক্ত সেটা বলা যাবেনা৷ তিনি মাদক গ্রহণ করেছেন সেটা বলা যাবে৷ আবার নেগেটিভ হলেই নিশ্চিত হওয়া যাবেনা যে তিনি আগে মাদক গ্রহণ করেননি৷

এটা কীভাবে করা উচিত? গোয়েন্দাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে না চিকিৎসকদের পরামর্শে?

এটা অবশ্যই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপনায় করতে হবে৷ কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী মাদকাসক্তি একটা রোগ৷ এটা মস্তিস্কের ক্রনিক রোগ৷ এটা বার বার হতে পারে৷ তাই এটা চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপনায়ই করতে হবে৷ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে করা হলে এটার অপব্যবহার হতে পারে, অতি ব্যবহার হতে পারে এবং কোনো কোনো সময় সত্যিকার মাদকাসক্তের ডোপ টেস্ট নেগেটিভ হয়ে যেতে পারে৷

Dental Times

ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখেন?
এটা এক দিক দিয়ে ভালো উদ্যোগ৷ তরুণদের মধ্যে, চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে একটা সচেতনা তৈরি হবে৷ তাদের মধ্যে ভীতি তৈরি হবে যে মাদক গ্রহণ করলে চাকরি হবেনা৷ তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে কিন্তু বিতর্ক থেকেই যায়৷ ডোপ টেস্ট দিয়েই কি সব মাদকাসক্তকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে? না, সম্ভব হবেনা৷ আবার ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলেই কি সে মাদকাসক্ত? না, সে মাদক গ্রহণকারী৷ মাদকাসক্ত আর মাদক গ্রহণকারী এক নয়৷ আবার কেউ মাদকাসক্ত হলেই কি তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া ঠিক হবে? এটা তো একটা রোগ৷ চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন তার অধিকার৷

বাংলাদেশে অ্যালকোহল গ্রহণের লাইসেন্স পাওয়ার নিয়ম কী?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণের অনুমোদন পাওয়া যায়৷ তবে এখানে নীতিমালা স্বচ্ছ নয়৷ আরো স্বচ্ছ করা উচিত৷

ডোপ টেস্ট এড়াতে কি আবার অ্যালকহল গ্রহণের লাইসেন্স নেয়ার হিড়িক পড়ে যাবে?
প্রথমত, ডোপ টেস্টে অ্যালকোহল দেখা হয়না৷ ডোপ টেস্টে দেখা হয় ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল প্রভৃতি৷ অ্যালকহল বোঝা যায় গ্রহণের চার-পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ব্রেথ টেস্ট করে৷ ফলে চাকরিপ্রার্থীদের অ্যালকোহল টেস্ট করা হয়না৷

আর ডোপ টেস্টের কোনো নীতিমালা নেই৷ ব্যক্তিকে সনাক্ত করার বিধান নেই৷ একজনের নামে আরেকজন ডোপ টেস্ট করিয়ে নিতে পারে৷ নেগেটিভ ব্যাক্তির রেজাল্ট পজিটিভ ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারে৷ তাই আগে প্রয়োজন নীতিমালা৷ কোথায় ডোপ টেস্ট করা যাবে তাও নির্দিষ্ট করতে হবে৷

কোনো কোনো মাদক নিরাময় কেন্দ্রেই নাকি মাদকাসক্ত হয়? তারা নাকি মাদকের ব্যবসাও করে?

মাদক নিরাময় কেন্দ্র হলো চিকিৎসা কেন্দ্র৷ এই কেন্দ্রের সাথে চিকিৎসকদের জড়িত থাকতে হবে৷ কিন্তু আমরা দেখি বাংলাদেশের অধিকাংশ নিরাময় কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই, কোনো নার্স নেই৷ সেগুলো পরিচালিত হচ্ছে সাবেক মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে৷ তাহলে ওইসব নিরাময় কেন্দ্রে মাদক ব্যবসার অভিযোগ অমূলক নয়৷

Advertisement
Click to comment

বিশেষ প্রতিবেদন

করোনার সংক্রমণ-উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন যে ৩৩ চিকিৎসক

Published

on

Dental Times

কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভয়াল ছোবল। এ ভাইরাসের সংক্রমণ বা উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে ভিড় বাড়ছে। সব বয়সী, সব শ্রেণির মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন, হারাচ্ছেন প্রাণ। করোনার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন উদ্বেগজনক হারে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তিন শতাধিক চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী। ৩৩ জন চিকিৎসক মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে বা এর উপসর্গ নিয়ে। এদের মধ্যে যেমন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন, তেমনি তরুণ চিকিৎসকও রয়েছেন।

বিএমএ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে মারা যাওয়া ৩৩ চিকিৎসক হলেন

১. সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ এপ্রিল রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

২. রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হেমাটোলজিস্ট অধ্যাপক কর্নেল (অব.) ডা. মো. মনিরুজ্জামান। গত ৩ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান।

৩. রাজধানীর নদার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আনিসুর রহমান। গত ১১ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

৪. ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের একাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও রেডিওলজিস্ট মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) ডা. আবুল মোকারিম মো. মোহসিন উদ্দিন। গত ১২ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

৫. ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ত্রয়োদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মো. আজিজুর রহমান রাজু। গত ১৮ মে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

৬. স্বাস্থ্য অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. এম এ মতিন। করোনার উপসর্গ নিয়ে সিলেট শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২ মে মারা যান।

৭. ডা. কাজী দিলরুবা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২২ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

৮. চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম জাফর হোসাইন। গত ২৫ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

৯. অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ডা. আমিনা খান। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৬ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১০. অ্যানেস্থেসিয়া ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুর রহমান। করোনার উপসর্গ নিয়ে গত ২৬ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১১. বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. মোশাররফ হোসেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ মে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১২. শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (আর্মি মেডিকেল কোর) ডা. এ এফ এম সাইদুল ইসলাম। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৮ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান।

১৩. সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের চতুর্দশ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদুজ্জামান আকন্দ বাবলু। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩১ মে মারা যান।

১৪. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কনসালট্যান্ট ডা. মনজুর রশিদ চৌধুরী। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২ জুন রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১৫. চট্টগ্রাম মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এ এস এম এহসানুল করিম। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৩ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

১৬. রাজধানীর ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবিয়াল বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন। গত ৩ জুন রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১৭. স্বাস্থ্য অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত ইভালুয়েশন অফিসার ডা. কে এম ওয়াহিদুল হক। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৩ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

১৮. ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ জুন প্রাইমেট জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১৯. চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ডা. মুহিদুল হাসান। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৪ জুন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

২০. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (মেডিসিন) অধ্যাপক ডা. এন আই খান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ জুন মারা যান।

২১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এস এ এম গোলাম কিবরিয়া। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ৪ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

২২. রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. এহসানুল কবির চৌধুরী। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

২৩. অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র মেডিকেল অফিসার (সাভার ইপিজেড) ডা. আবুল কাশেম খান। করোনার উপসর্গ নিয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

২৪. রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিসেস) ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৭ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

২৫. ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. রাজিয়া সুলতানা। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ জুন মারা যান।

২৬. ময়মনসিংহের ল্যাবএইড হাসপাতালের কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেসিয়া) ডা. সাখাওয়াত হোসেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৮ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

২৭. বরিশালের রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আনোয়ার হোসেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ৯ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

২৮. রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. জলিলুর রহমান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৯ জুন ইমপালস হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

২৯. রাজধানীর জেড এইচ শিকদার ওমেন্স মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. তানজিলা রহমান। গত ১০ জুন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

৩০. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. গাজী জহিরুল হাসান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

৩১. জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি বিভাগ) ডা. মাহমুদ মনোয়ার। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১২ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

৩২. রাজধানীর জেড এইচ শিকদার ওমেন্স মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক। করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন মারা যান।

৩৩. ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. আরিফ হাসান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন মারা যান।

Continue Reading

বিশেষ প্রতিবেদন

নেই ডিগ্রি তারপরও ডেন্টাল সার্জন !

Published

on

Dental Times

Dental Timesদন্ত চিকিৎসার নামে লক্ষ্মীপুরে চলছে প্রতারণা।  জেলার বিভিন্ন স্থানে অর্ধ শতাধিক ক্লিনিক থাকলেও তার কোনওটিই আসল নয়। অভিযোগ রয়েছে, ডিগ্রি নেই কিন্তু তারপরও অনেকই নিজেকে ডাক্তার, ডেন্টিস্ট, ডেন্টাল সার্জন, কনসালটেন্ট পরিচয় দিয়ে কিংবা ভুয়া সনদ নিয়ে ক্লিনিক খুলে রমরমা ব্যবসা করছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এসব হাতুড়ে ডাক্তারের অপচিকিৎসার কারণে অনেকেই জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা উচিত।

সরেজমিন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর শহরের গাজী শপিং কমপ্লেক্স ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায় ‘রায়পুর ডেন্টাল ক্লিনিক’ নামের একটি সাইন বোর্ড ঝুলছে। সাইন বোর্ডে লেখা আছে (ডেন্টাল সার্জন) ডাক্তার মোঃ ওয়াহিদুর রহমান মুরাদ, এক্স কনসালটেন্ট সাভার জেনারেল হাসপাতাল, আরও রয়েছে নানা পদবি। মার্কেটের নিচ তলায় ৩ বছর আগে ক্লিনিকটি গড়ে উঠে। ক্লিনিকটির ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে এক রোগীর দাঁতের চিকিৎসা করছেন এই চিকিৎসক। বাইরে অপেক্ষা করছেন আরও দুজন। তারা জানেন না, মুরাদ প্রকৃত ডাক্তার নাকি ভুয়া। আধাঘণ্টা অপেক্ষা পর ‘ভুয়া ডাক্তার মুরাদ’ এর সঙ্গে কথা হয়।

কি কি চিকিৎসা সেবা দেন – জানতে চাইলে বলেন, ‘স্থায়ী ও অস্থায়ী  ফিলিং, লাইট কিউর মেশিনে ফিলিং, পলিসিং, আকাঁ-বাঁকা দাঁত সোজা করা, দাঁত উঠানো, দাঁত বাধানো, রুট ক্যানেল, সিস্ট অপারেশনসহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা করেন। অ্যাসোসিয়েশনের মূল্য তালিকা অনুযায়ী বিল নেন বলে জানান। অথচ লক্ষ্মীপুরে ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন বলতে কিছু নেই। তবে রোগীর প্রকার ভেদে ২ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সাইন বোর্ডে লেখা অনুযায়ী ডেন্টাল সার্জন ও কনসালটেন্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে মুরাদ বলেন, ‘ডেন্টাল সার্জন হচ্ছে দাঁতের ছোট ছোট যে কাজগুলো করা হয় তাই সার্জারি। আর যে এ কাজ করেন সেই সার্জন।’

কনসালটেন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকার একটি হাসপাতালে দুজন ডাক্তার রোগী দেখতেন। তারা চলে যাওয়ার পর এক বছর মেয়াদি একটা কোর্স শুরু করেন তিনি। সেখানে থাকার সুবাধে হাসপাতালের লোকজন তাকে কনসালটেন্ট উপাধি দেয়। মুরাদের এমন ব্যাখ্যায়  বোঝার আর বাকি থাকে না তিনি ‘প্রকৃত ডাক্তার নাকি ভুয়া ডাক্তার’।

গত ১৬ জুন ২০১৬ তারিখে বাংলা ট্রিবিউন নামে একটি অনলাইন পত্রিকা তার এই সকল কর্মকান্ড নিয়ে রিপোর্ট করে। তখন  এই চেম্বারের নাম ছিলো ল্যাব এইড ডেন্টাল।  এর পর  নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রায়পুর ডেন্টাল ক্লিনিক।

শুধু  রায়পুর ডেন্টাল ক্লিনিকের মুরাদই নন, তার ক্লিনিকের ২০০ গজের মধ্যে পাওয়া গেল ‘ফাতেমা ডেন্টিস্ট পয়েন্ট’ নামের আরও একটি ক্লিনিক। এখানে ডাক্তার আহমেদ শাহরিয়ার হাসান সোহেল নামের এক চিকিৎসকের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে আল আমিন নামে এক ব্যক্তি ভেতরে রোগী দেখেন।

সম্প্রতি এ ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ফরিদগঞ্জের আনছুরা বেগম ও নজির আহমদ। তাদের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র বাবদ ৮০০ টাকা নেওয়া হলেও রোগ মুক্তি হয়নি। ফলে অন্যত্র চিকিৎসা নেন তারা। একইভাবে আরও অনেকে প্রতারিত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। অভিযোগ বিষয়ে জানতে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায় দরজায় তালা ঝুলছে।

রায়পুরে এ ধরনের আরও ১৫-২০টি, সদর, রামগঞ্জ, রামগতি, কমলনগর ও চন্দ্রগঞ্জে অর্ধশতাধিক ভুয়া ডাক্তারের চেম্বার রয়েছে বলে জানান ডেন্টাল সার্জন ডা. মো: আবু ইউছুপ ভূঁইয়া বি.ডি এস (ডিইউ)। প্রতিনিয়ত এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জন ডাক্তার মো: ইউছুফ জানান, হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিয়ে হেপাটাইটিস, সিফিলিস, গনোরিয়া ও ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রন্ত হচ্ছেন।

জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার গোলাম ফারুক ভূঁইয়া জানান, যদি কেউ নামের আগে ডাক্তার লেখার ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে তাকে এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। এরপর বিএমডিসিতে আবেদন করলে রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার পর রোগী দেখতে পারবেন। এছাড়া  রোগী দেখা আইনত নিষিদ্ধ। কয়েকটি দন্ত চিকিৎসালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Continue Reading
Dental Times
জাতীয়9 hours ago

স্কুলশিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক করোনার টিকা দেওয়া শুরু

Dental Times
আন্তর্জাতিক9 hours ago

উহানবাসীর রক্তের নমুনা পরীক্ষা করবে চীন

Dental Times
আন্তর্জাতিক9 hours ago

করোনার উৎস সন্ধানে ‘শেষ সুযোগ’ ডব্লিউএইচওর

Dental Times
জীবন ও কর্ম1 day ago

সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেলেন বাঁধন

Dental Times
পড়ালেখা1 day ago

২৯ অক্টোবরেই ৪৩তম বিসিএস প্রিলি

Dental Times
শিক্ষাঙ্গন4 days ago

ডেন্টিস্ট সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বনাম বাস্তবতা

BDF বিডিএফ
সংগঠন6 days ago

বিডিএফ এর ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

আত্মসমর্পণের পর জামিন : স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর1 week ago

আত্মসমর্পণের পর জামিন : স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদ

Dental Times
Campus News1 week ago

৫টি ডেন্টাল চেয়ার ক্রয়ে লুট পৌনে ২ কোটি টাকা

UDC 25th years Celebration
ঢাকা2 weeks ago

ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের ২৫ বছর পূর্তি

Dental Times
বিএমডিসি2 weeks ago

ছয় ভুয়া চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করলো বিএমডিসি

Dental Times
সংগঠন3 weeks ago

আইএপিডির সদস্য পদ পেলো বিএসপিডি

Dental Times
বিশেষ প্রতিবেদন3 weeks ago

ডোপ টেস্টের কোনো নীতিমালা নেই : টেস্টে পজিটিভ মানে তাকে মাদকাসক্ত বলা যাবেনা’

ঘাতক ড্রাইভারের শাস্তি চেয়ে পথে সরব ইউডিসি শিক্ষার্থীরা
ঢাকা1 month ago

ঘাতক ড্রাইভারের শাস্তি চেয়ে পথে সরব ইউডিসি শিক্ষার্থীরা

Dental Times
Dental Admission2 months ago

সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা ১০ সেপ্টেম্বর

Dental Times
আন্তর্জাতিক2 months ago

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পর এবার নতুন আতঙ্ক কলম্বিয়ান ভ্যারিয়েন্ট

Dental Times
করোনা পরিস্থিতি3 months ago

সিনোফার্মের ৩০ লাখ টিকা ঢাকায়

Dental Times
জাতীয়3 months ago

‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভাইভা ছাড়া ডাক্তার নার্স নিয়োগ হবে’

Dental Times
জাতীয়3 months ago

দেশে ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি – অধ্যাপক ডা. বুলবুল

Dental Times
জাতীয়3 months ago

একদিনে ঢাকায় আরও ৭৯ ডেঙ্গু রোগী

Advertisement

সম-সাময়িক

Subscribe for notification