Connect with us

Uncategorized

নিজ অবস্থানে থেকেই করোনা ভাইরাস মোকাবেলা সম্ভব

DENTALTIMESBD.com

Published

on

DentalTimes

বর্তমানে বিশ্বের চলমান আতঙ্ক করোনা ভাইরাস। যার উৎপত্তি ২০২০ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে চীনের উহান শহর থেকে। কোভিড-১৯ ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব প্রায় ১৬৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মহামারী আকার ধারণ করেছে।

সর্বশেষ পাওয়া সূত্রমতে প্রায় ২ লক্ষ লোক এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দশ হাজার। গত কয়েকদিনেই আমাদের দেশে প্রায় ২০ জন আক্রান্তকে সনাক্ত করা হয়েছে, মৃত্যুবরণ করেছে ১ জন , আর কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে হাজারেরও বেশী প্রবাসীকে, সুস্থ হয়েছেন ৩ জন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে আমাদের এখনো সাধারণ কিছু বিষয়ে সঠিক ধারণা অভাব দেখা যাচ্ছে। আমরা আতঙ্কিত না হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকেই করোনা ভাইরাসের মোকাবেলা আমরা নিজেই করতে পারি। যার জন্য প্রয়োজন সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা।আজকে করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যে সকল সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী তা নিয়ে কথা বলবো –

★ করোনা ভাইরাস কি?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নিচে এই ভাইরাস ফেললে মনে হয় এরা মাথায় মুকুট পরে আছে। ল্যাটিন ভাষায় একে বলে ‘করোনাম’ (Coronam)। যে খোঁচাগুলি দেখা যায় সেগুলি আসলে স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিন (spike glycoproteins)। এদের মূল কাজ হল মানুষের শরীরে বন্ধু প্রোটিনকে খুঁজে নেওয়া। বাহক কোষের প্রোটিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে এরা কোষের মধ্যে ঢুকতে পারে। SARS-CoV-2: এই ভাইরাসই করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত। করোনার CO, ভাইরাসের VI এবং ডিজিসের D নিয়ে হয়েছে COVID-19।

★ করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি কোথা থেকে?

২০১৯ সালে ভাইরাসটি প্রথম ধরা পড়ায় নাম দেয়া হয়েছে COVID 19। এটি প্রথম চিনের উহানে প্রদেশে আবির্ভূত হয়।

★ করোনা ভাইরাসের লক্ষন ও উপসর্গ কি কি?

রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ। এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে। সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ দেখা দেয়, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচদিন সময় নেয়। শুরুর দিকের উপসর্গ সাধারণ সর্দিজ্বর এবং ফ্লু’য়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্থ হওয়া স্বাভাবিক।

★ করোনা ভাইরাসের টেস্ট সমূহ কি এবং কোথায় করা হয়?

আইইডিসিআর সূত্রে জানা যায়, মুখের লালা ও নাকের শ্লেষ্মা সংগ্রহ করা টিউব অতিমাত্রায় শীতল করে বরফের বাক্সে ভরে পাঠানো হয় ল্যাবরেটরিতে, সেখানে টেস্ট কিট দিয়ে আরটি- পিসিআর পরীক্ষা করা হয়। রোগীর নমুনায় যদি করোনা ভাইরাস থাকে, তাহলে এ পরীক্ষায় তার সংখ্যা বাড়বে। ফলাফল আসবে ‘পজেটিভ’। বাংলাদেশে কেবল আইইডিসিআরেই করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে।

★ আমার কি মেডিক্যাল মাস্ক পরা উচিত?

করোনা ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগের বিস্তার সীমিত পর্যায়ে রাখতে মেডিক্যাল মাস্ক সাহায্য করে। তবে এটার ব্যবহারই এককভাবে সংক্রমণ হ্রাস করতে যথেষ্ঠ নয়। নিয়মিত হাত ধোঁয়া এবং সম্ভাব্য সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা না করা এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর সর্বোত্তম উপায়।

DentalTimes

★ কোয়ারেন্টাইন বলতে কি বোঝায় ? হোম কোয়ারেন্টাইন কিভাবে মেনে চলতে হবে?

কোয়ারেন্টাইন অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথক থাকা। তবে কোয়ারেন্টাইন মানে এই নয় যে, আপনাকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়া হলো। যদি কোনো ব্যক্তির করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তাকে জনবহুল এলাকা থেকে দূরে রাখতে এবং ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কিছুদিন আলাদা থাকতে বলা হয়। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পর থেকে রোগের পূর্ণ প্রকাশ হতে ১৪ থেকে ৩৭ দিন সময় লাগে। সে জন্য হোম কোয়ারেন্টাইন করতে বলা হয়েছে ১৪ থেকে ৩৭ দিনের জন্য। |

হোম কোয়ারেন্টাইন মানে আপনি থাকবেন নিজের বাড়িতে। হোম কোয়ারেন্টাইন- অর্থাৎ সংক্রমিত সংস্পর্শে আসার কারণে বাধ্যতামূলক ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।এই ১৪দিন একটি নির্দিষ্ট ঘরে সকালের কাছ থেকে আলাদা থাকতে হবে।স্কুল, কলেজ, উপাসনালয়, বাজার বা কোন প্রকার জমায়েত হওয়া যাবেনা, গণপরিবহনে উঠা যাবেনা। সাক্ষাৎ জরুরী হলে কমপক্ষে ৩ ফুট দুরুত্ব রাখতে হবে।

DentalTimes

করোনাভাইরাসের কারণে কারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন?

যেসব দেশে কোভিড-১৯–এর স্থানীয় সংক্রমণ ঘটেছে, সেসব দেশ থেকে যেসব যাত্রী এসেছেন এবং আসবেন (দেশি-বিদেশি যেকোনো নাগরিক), যাঁরা দেশে শনাক্তকৃত ৩ জন কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন এবং যার অথবা যাঁদের কোনো শারীরিক উপসর্গ নেই, তাঁদের ১৪ দিন স্বেচ্ছা/গৃহ কোয়ারেন্টিন পালন করতে হবে।

হোম কোয়ারেন্টাইনে আপনি যা করবেন ?

  • নিজের বেডরুমে থাকুন। একা থাকুন।
  • সম্ভব হলে নিজের আলাদা টয়লেট ব্যবহার করুন।
  • নিজের তোয়ালে, গামছা, ব্যবহার করুন। নিজের বিছানা আলাদা রাখুন।
  • যথাসম্ভব সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলুন, এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও।
  • যে কারও সামনে মাস্ক পরে থাকুন।
  • অন্যের সঙ্গে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখুন।
  • ঘন ঘন হাত ধুয়ে ফেলুন। যেসব জায়গায় বারবার স্পর্শের সম্ভাবনা আছে, সেগুলো দিনশেষে ভালো করে জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে ফেলুন। যেমন দরজার হাতল, কম্পিউটার, ফোন, টয়লেট ইত্যাদি।
DentalTimes

★ আইসোলেশন কি এবং কেন আইসোলেশনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ?

আইসোলেশন হচ্ছে, কারো মধ্যে যখন জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়বে বা ধরা না পড়লেও তার মধ্যে উপসর্গ থাকবে তখন তাকে আলাদা করে যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে তাকে বলা হয় আইসোলেশন। ইতিমধ্যে ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন আছেন এমন ব্যাক্তিকে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সকলের কাছ থেকে একবারে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হবে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা যায়, আইসোলেশন হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা থাকার ব্যাবস্থা।

DentalTimes

★ চিকিৎসকদের প্রতিরক্ষার জন্য কি কি পদক্ষেপগুলো পালন করতে হবে?

  • লম্বা পোশাক, লম্বা হাতার পোশাক পরিধান করা।
  • Latex অথবা Nitrile গ্লাভস ১৫-৩০মিনিট পর পর বদলাতে হবে, কারণ এরপর এটি এর প্রতিরক্ষামূলক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে। প্রত্যেক পেশেন্টের জন্য অবশ্যই গ্লাভস বদলাতে হবে অথবা যদি গ্লাভস ছিড়ে যায় তখন ও গ্লাভস বদলাতে হবে।
  • প্রত্যেক পেশেন্টের জন্য মাস্ক বদলাতে হবে। মাস্ক কখনো পকেটে অথবা গলায় ঝুলিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। (যদি মাস্ক পেশেন্টের ফ্লুইডের সংস্পর্শে আসে), যদি মাস্ক ভিজা থাকে তাহলে এরা এদের প্রতিরক্ষামূলক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে,তাই অবশ্যই বদলে নিতে হবে।
  • সুরক্ষার জন্য সবসময় সেফটি গ্লাস পড়তে হবে।
  • টার্বাইন থেকে নিসৃত পানি এবং রোগীর লালার মিশ্রনকে প্রতিহত করতে রাবার ড্যাম ব্যবহার করতে হবে।
  • হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন প্রতিরক্ষামূলক উপকরণ ব্যবহার যেমন: লম্বা পোশাক, ক্যাপ, গ্লাস, প্লাস্টিক এপ্রন, বিশেষ পুরু গ্লাভস।
  • Instruments উপযুক্ত জীবানুনাশক পদার্থে ডুবিয়ে রাখতে হবে ব্যবহারের সাথে সাথে। থার্মোডিসইনফেক্টর উত্তম সল্যুশন যেহেতু এটি সরাসরি পেশেন্টের মুখ থেকে আসে।ইন্সট্রুমেন্ট ম্যাশিনে দিলে এগুলো পরিষ্কার, শুকনা, থার্মোডিসইনফেক্টর হয়ে বের হয়। অবশ্যই ইন্সট্রুমেন্ট শুকিয়ে নিতে হবে, ভেজা থাকলে জীবানুমুক্তকরন প্রক্রিয়া অকার্যকর হয়ে যায়।
  • টাইপ B অটোক্লেভে জীবানুমুক্তকরণ করতে হবে।
  • Instruments অটোক্লেভের দেয়ালে লাগতে দেয়া যাবেনা । এতে বাস্প চলাচল করতে পারবে।
  • ব্যবহারের পর ফেলে দেয়া যায় এমন উপকরণ ব্যবহার করতে হবে (ডেন্টাল চেয়ারের কভার, রেডিওগ্রাফি ম্যাশিনের কভার)
  • ডেন্টাল চেয়ার জীবানুনাশক পদার্থ দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। কাউন্টার টপ, ফার্নিচার, ফ্লোর এসব ব্লিচ দিয়ে জীবানুমুক্ত করতে হবে।

DentalTimes

★ আক্রান্ত ব্যাক্তির মল থেকে আমরা কি covid-19 এ আক্রান্ত হতে পারি?

আক্রান্ত ব্যাক্তির মল থেকে COVID-19 সংক্রমণের সম্ভাবনা তেমন দেখা যায়নি। তবে প্রতিবার ওয়াশরুম ব্যাবহারের পর ভালো ভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

★ গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুকিতে কে আছে?

প্রবীণ ব্যাক্তি এবং প্রাক-বিদ্যমার চিকিৎসারত যেমন ( উচ্চরক্ত চাপ,হৃদরোগ,ফুসফুসের রোগ,ক্যান্সার অথবা ডায়াবেটিস) অন্যান্য ব্যাক্তিদের তুলনায় প্রায়ে COVID-19 এ সংক্রমিত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হতে পারে।

করোনা ভাইরাস কি উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বাঁচতে পারে?

করোনা ভাইরাস ঠান্ডা ও শুস্ক আবহাওয়ার দেশের পাশাপাশি উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশেও বিস্তার লাভ করেছে।

মশা কিংবা গৃহপালিত প্রাণীরা কি করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে?

মশার কামড়ে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গৃহপালিত প্রাণীদের আক্রান্তের কোন তথ্যও পাওয়া যায়নি।

দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার শেষ হয়ে গেলে কি করবো?

সাধারণ সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুলেও করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা সম্ভব।

★ শিশুরা কি ঝুঁকিতে?

যে কোন বয়সের মানুষই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রধানত: আগে থেকে অসুস্থ বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মারাত্মক হতে পারে। তবে শহরাঞ্চলের দরিদ্র শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। এসব প্রভাবের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয় বন্ধ থাকা, যা সম্প্রতি মঙ্গোলিয়ায় দেখা গেছে ।

★ প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় অ্যান্টবায়েটিক কি কার্যকর?

অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে নয়, ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরী। সুতরাং ভাইরাস প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিকের কোন কার্যকারিতা নেই।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং পরিসংখ্যান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা- ওয়ার্ল্ডোমিটার এর হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৬৮ হাজার ২৭ জন, যাদের মধ্যে গুরুতর ৬ হাজার ৮২ জন। বিশ্বব্যাপী ৭২  হাজার ৫শ’ ৩২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সেই হিসাবে বলা যায়, প্রতি ১০০ জনে মারা যাচ্ছেন সাত জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন ৯৩ জন।

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১২ হাজার আটাশি জন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চার হাজার। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৫ হাজার ৫৪৭ মানুষ। রোগী না থাকায় হুবেই প্রদেশের চারটি অস্থায়ী হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে বর্তমানে একটি আতঙ্কের নাম হলেও চীন প্রমাণ করেছে , সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতাই পারে করোনার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে। শুধু প্রয়োজন নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা।

DentalTimes

এতো কিছুর মাঝেও একটি ভালো খবর দিয়ে লেখাটি শেষ করছি, চীনের স্বাস্থ্য কমিশনের ঘোষণায় বলা হয়েছে – ”উহান শহরে নতুন করে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। অর্থাৎ ১৯ ও ২০ মার্চ এই দুই দিনে নতুন একজনও করোনায় আক্রান্ত হয় নি। যেটা চীনের জন্য যুদ্ধ জয়ের চেয়েও অনেক বড় খবর।”

লেখক পরিচিতি

জেরিন প্রাচী
সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ।

Continue Reading
Click to comment

Uncategorized

যশোর : ২২ চিকিৎসক-নার্সসহ ২৮ জন কোয়ারেন্টাইনে

DENTALTIMESBD.com

Published

on

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে আসায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের ১১ চিকিৎসক, ১১ নার্স মোট ২৮ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বুধবার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের জারি করা অফিস আদেশে এই কথা জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো এসব ডাক্তার ও নার্স করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীদের কনটাক্টে এসেছিলেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্যায়ক্রমে এই হাসপাতালের সবার নমুনা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, করোনা আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে যেসব ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী এসেছিলেন তাদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ১১ জন ডাক্তার ও ১১ জন নার্স ছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ড বয় ও আয়া মিলিয়ে মোট ২৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ হবে ১৪ দিন। এই সময়কালে তাদের সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে করোনারি কেয়ার ইউনিট ও মেডিসিন ওয়ার্ড লকডাউন করে দেন। গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট দুটি জীবাণুমুক্ত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়। ওই দুই স্থানে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্থানান্তর করা হয় অন্য ওয়ার্ডে।

গত কয়েকদিনে শনাক্ত হওয়া করোনা পজেটিভদের বেশ কয়েকজনকে যশোর টিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। যারা ওই হাসপাতালে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

যশোর টিবি হাসপাতালকে অস্থায়ী করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সেবার কাজে নিয়োজিতরা পাশেই নাজির শঙ্করপুরে অবস্থিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ডরমেটরিতে অবস্থান করছেন।

Continue Reading

Uncategorized

যে চারটি বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

DENTALTIMESBD.com

Published

on

বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

দেশে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ বাড়তে থাকায় পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর জন্য প্রথমবারের মত চারটি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা এবং চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল (সাবেক অ্যাপোলা), স্কয়ার হাসপাতাল ও ইউনাইটেড হাসপাতাল শুধু তাদের ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করবে।

আর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল বাইরের রোগীদের নমুনাও পরীক্ষা করতে পারবে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, “তারা যে নমুনা পরীক্ষা করবেন আমরা তা আগামীকাল থেকে অথবা যখন তারা কাজ শুরু করবেন তখন থেকে হিসাবে যুক্ত করব।”

তিনটি হাসপাতালকে বাইরের রোগীর নমুনা পরীক্ষার অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাসিমা সুলতানা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে ফলোআপে সমস্যা হতে পারে, সে কারণে তাদের এখনও তাদের আউটডোর পেশেন্টের নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

এই চারটি বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে দেশে সব মিলিয়ে এখন ২৯টি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হল।

বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড ৬৪১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ৭১০৩ জন হয়েছে। এই সময়ে আরও আটজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৩ জন হয়েছে।

Continue Reading

Uncategorized

২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৬৪১

DENTALTIMESBD.com

Published

on

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ১৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৪১ জন। ফলে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ১০৩ জন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার হাজার ৯৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭০১টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৬৪১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ১০৩ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও আটজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১১ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫০ জন।

যারা নতুন করে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং দুজন নারী। ছয়জন ঢাকার বাসিন্দা এবং দুজন ঢাকার বাইরের। বয়সের দিক থেকে চারজন ষাটোর্ধ্ব, দুজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং দুজন ত্রিশোর্ধ্ব।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

প্রায় চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার। তবে নয় লাখ ৬১ হাজারের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যান্য

Continue Reading

জনপ্রিয়