Connect with us

Uncategorized

প্রাগৈতিহাসিক ডেন্টিস্ট্রি : কেমন করে দাঁতের যত্ন নিতেন পূর্বপুরুষরা?

DENTALTIMESBD.com

Published

on

History Of Dentistry

সুন এমন একটি দুনিয়া কল্পনা করি যেখানে না আছে টুথব্রাশ, না মাউথওয়াশ, না ডেন্টাল ফ্লস! খুব সহজ হিসেব মনে হচ্ছে, না? তখন সব মানুষের মুখভর্তি থাকত নষ্ট দাঁত আর ডেন্টিস্টদের থাকত পকেট ভর্তি টাকা! কিন্তু আসলেও কি টুথব্রাশ-মাউথওয়াশ বিহীন যুগে ডেন্টিস্ট ছিল? কিভাবে কাজ করত সে যুগের ডেন্টিস্টরা? ঠিক কত আগে শুরু হয়েছিল ডেন্ট্রিস্ট্রি? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে একটু ইতিহাস ঘেটে আসতে হবে!

DentalTimes

১৯২১ সালে ব্রোকেন হিলে (যেখানে এখন জাম্বিয়া) কর্মরত খনির শ্রমিকেরা একটি আদিম মানব খুলির সন্ধান পান।  ব্রোকেন হিলে খুঁজে পাওয়া এই খুলির ছিল ঢালু কপাল, ভ্রু এর জায়গাটা চওড়া উঁচু আর মুখের ভেতর ‘দশ দশ টি দাঁতে গর্ত’!

ধারণা করা হয় – এই খুলির স্বত্বাধিকারী আমাদেরই পুর্বপ্রজাতি Homo Heide lbergensis এর অন্তর্গত – হয়ত বা তাঁর মৃত্যুর কারণও ছিল তাঁর মুখের ভেতরের নিদারুণ অবস্থা! কিন্তু এখানে একটি চমক আছে : ব্রোকেন হিলের এই খুলি হচ্ছে একটি আশ্চর্যজনক ব্যতিক্রম ( এবং এখনও অনেকাংশেই অব্যাখ্যায়িত) ।  কারণ প্রায় অন্যসব আদিম মানবফসিলের মুখে কোন গর্ত/Dental cavity ছিল না বললেই চলে!

আশ্চর্যজনকভাবে, প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রায় দশ লক্ষ বছর ধরে আমাদের পূর্বপুরুষদের স্বভাবতই তেমন কোন মুখের অভ্যন্তরীণ রোগ ছিল না, যদিওবা তাদের দাঁতের যত্ন বলতে ছিল শুধু সাধারণ দাঁত খুঁচাবার কাঠির ব্যবহার।  দাঁতের সমস্যা এতটা প্রচলিত হয়েছে মাত্র দশ হাজার বছর আগে নিওলিথিক কালের শুরুতে, যখন আমাদের পূর্বপুরুষেরা ‘প্রথম কৃষিকাজ’ শুরু করে।

DentalTimesতুলনামূলক বাস্তবমুখী ডেন্ট্রিস্ট্রর সূচনা হয় এর পরপরই। শেষের দশকের দিকে, পুরাতত্ত্ববিদগণ পুরো বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতা থেকে প্রমাণ পান যে “অনেক আগে থেকেই দাঁতের নষ্ট হয়ে যাওয়া টিস্যু দূর করতে দাঁতকে ভেংগে টুকরো করা হতো,ঘষা হতো এমনকি গর্ত করে ভরাটও করা হতো।”
অন্যভাবে বলতে গেলে, Dental Drill মানুষের লিখতে পড়তে শিখা, সভ্যতা কিংবা চাকা আবিষ্কারেরও আরো হাজার বছর আগের ঘটনা বলে ধারণা করা হয়!

DentalTimesনিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির আলেজান্দ্রা ও’টিজ বলেন “দাঁতের ক্ষয় প্রাককৃষি সভ্যতায় বিরল ছিল- কিন্তু একদম যে ছিল না-তা নয়।  শিকারীদের মধ্যে মোটামুটিভাবে ১-৫% আর অন্য নানাভাবে জীবিকার্জনকারীদের প্রায় ৬-৮% মানুষের দাঁতে ক্ষয় বা Dental caries ছিল।”
তিনি আরো বলেন, “কৃষিবিদদের এই পরিসংখ্যানের সাথে দ্বিমত রয়েছে, তারা এক্ষেত্রে শতকরা ১০ থেকে ৮০-৮৫ পর্যন্তও বলেন।”

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মার্ক ওক্সেনহাম বলেন ” দাঁতের সমস্যার অভ্যুদয় হয় সত্তুর দশকের দিকে, এর পরপরি প্রত্নতত্ত্ববিদ সিদ্ধান্ত নেন এর সংগে অবশ্যই শর্করা জাতীয় খাবারের সম্পর্ক আছে! কারণ কৃষি শুরুর সাথে সাথেই শর্করা জাতীয় খাদ্যাভ্যাসের সূচনা হয়।”

DentalTimes

তার মতে, ” আমার মনে হয় এখনকার মত চলমান সচেতনতা প্রক্রিয়া তখনও হয়ত চলছিল কিংবা এতটা না হলেও এই চিন্তাটা তখনও হয়ত বাজারে ছিল যে চিনিজাতীয় খাবার দাঁতের জন্য খারাপ।” অবশ্য অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক যুক্তিসংগতভাবেই এক লাফে বলেছেন যে সকল শর্করাজাতীয় খাবার দাতের জন্য খারাপ। 

এই কথায় যুক্তি আছে।  মুখের ব্যাক্টেরিয়া কার্বোহাইড্রেটকে ভেংগে তৈরি করে এনামেল ধ্বংসকারী এসিড, ব্যাক্টেরিয়া নিশ্চয়ই আদিম কৃষকদের মুখেও বাসা বেঁধেছিল! কিন্তু ওক্সেনহাম এবং আরো কিছু গবেষক শুধুমাত্র খ্যাদ্যাভাসকেই দাঁতের ক্ষয় রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে দেখতে নারাজ।

এক হিসেবে দেখা যায় পুরুষের চেয়ে নারীদের মুখের রোগে আক্রান্ত হবার প্রবণতা বেশি ছিল।  খ্যাদ্যাভাসের পাশাপাশি তাই জনসংখ্যাবৃদ্ধি কেও গবেষকরা এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।  কারণ কৃষক প্রজাতিরা শিকারী প্রজাতির চেয়ে বেশি সময় বাসায় থাকত এবং এদের নির্ভরযোগ্য খ্যাদ্যউৎস ছিল।  তাই গর্ভধারণের সংখ্যা বেড়ে যায়।  গর্ভধারণের সময় মেয়েদের কিছু হরমোনাল পরিবর্তন হয় যা মাড়ির রোগের ঝুকি বাড়ায়, মুখের অম্লত্ব বাড়ায় যা দাঁত ক্ষয়ের কারণ।

‘কেন কৃষি বিস্তারের সাথে সাথে নাটকীয় ভাবে দাঁতের রোগ বেড়ে গেল?’ – এটা তখনকার যুগের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল এখন তা হয়ত আমরা চিন্তাও করতে পারছি না! কিন্তু এ কথা পরিষ্কার যে, প্রাগৈতিহাসিক মানুষ দাঁতের ব্যাথা ধৈর্য সহকারে সহ্য করে নি, কিভাবে এই ব্যাথা কমানো যায় তারা এই নিয়ে গবেষণা শুরু করে এবং এভাবেই সূচনা হয় ডেন্ট্রিস্টির।

বলোগনা ইউনিভার্সিটিতে স্টেফানো বেনাজ্জি এবং তার সহচারীরা ১৯৮০সালে ইতালিতে খুঁজে পাওয়া ১৪ হাজার বছর পুরোনো একটি খুলি গবেষণা করতে যেয়ে একটি ঘষা এবং শক্ত ব্লেড দিয়ে করা গর্ত খুঁজে পান, হয়তবা এটা দাঁতের নষ্ট হয়ে যাওয়া টিস্যু দূর করার একটা চেষ্টা ছিল।  মাইক্রোস্কোপের নিচে গর্তটা মাইক্রোলিথ জাতীয় কোন ব্লেডে করা মনে হয়, যা তখনকার সময়ের জন্য যা একদমই নতুন প্রযুক্তি।  এমনকি গবেষকরা এখনকার যুগের দাঁতেও মাইক্রোলিথ জাতীয় ব্লেড দিয়ে তেমন গর্ত করে এর সাদৃশ্য পরীক্ষা করেছেন।

DentalTimes

তবে তখনকার ডেন্ট্রিস্ট্রি আসলেও দাঁত ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারত কি না, এটা এখনও বিতর্কিত! আরও বেশি ইফেক্টিভ চিকিৎসা শুরু হয় আরো প্রায় কয়েক হাজার বছর পরে-ডেন্টাল ড্রিল ! কোথায় এটা প্রথম আবিষ্কার হয় এ ব্যাপারে স্পষ্ট জানা যায় নি, তবে ধারণা করা হয় প্রায় নয় হাজার থেকে সাড়ে সাত হাজার বছর আগে বর্তমান পাকিস্তানে প্রথম ডেন্টাল ড্রিল ব্যবহার করা হয়।

একটি নিওলিথিক কবরস্থানে বিজ্ঞানীরা নয়টি লাশের মুখে ড্রিল করা দাঁত খুঁজে পান, এর মাঝে একজনের মুখে আবার ছিল তিনটি ড্রিল করা দাঁত। গর্তগুলো ছিল ১-৩মিমি পর্যন্ত গভীর।  মাইক্রোস্কোপের নিচে গর্তগুলোর অভ্যন্তরীণ নকশা দেখে এ কথা স্পষ্টই বুঝা যায় যে, গর্তগুলা সাধারণ কোন গর্ত নয় ,ড্রিল করে তৈরি করা গর্ত! এটা নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা যে আদিম মানুষও ডেন্টাল ড্রিল সম্পর্কে জানতো।

এছাড়াও কিছু দেশীয় সম্প্রদায় দাঁত খোঁদাইয়ের কাজে ব্যবহার করত “Bow-Drill”. কিছু কাঠের কাঠি, একটা ধারালো পাথর ও দড়ি দিয়ে Bow drill এমনভাবে তৈরি যেন দেখে মনে হয় তীরন্দাজের ধনুক, ধনুকের সাথে লম্বভাবে আরেকটি কাঠি লাগানো যেটা সামনে পেছনে ঘুরে ঘুরে ড্রিলের মত কাজ করে। কাঠির শেষপ্রান্তে একটি ধারালো পাথর যুক্ত থাকে যা ড্রিলের কর্মদক্ষতা বাড়ায়।

Bow-drill আসলেই কার্যকর কি না এ পরীক্ষা করতে যেয়ে পাকিস্তানের এক গবেষক দল চমৎকার ইতিবাচক ফলাফল পায়। যদিও এখনও অনেক গবেষক দল ব্যাপারটিকে অনিবার্যভাবে স্বীকার করে নেন নি। ধারণা করা হয়, প্রাগৈতিহাসিক যুগের ডেন্টিস্টরা তাদের রোগীর ব্যাথা কমানোর জন্য কোকো পাতার মত প্রাকৃতিক লোকাল এনেস্থিসিয়াও ব্যবহার করতেন।

ড্রিলিং এর পাশাপাশি ডেন্টিস্টের আরেকটা দক্ষতা দরকার, তা হলো “ড্রিল করা গর্ত ভরাট করা/ফিলিং করা” ড্রিলিং এর মত ফিলিং এর ও আদিম ইতিহাস আছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

DentalTimes

২০১২ সালে ৬৫০০ বছর পুরোনো একটি খুলির নিচের পাটির দাঁত পর্যবেক্ষণ করে গবেষক দল Bees wax খুঁজে পান। এনামেলের গর্ত ভরাট করতে এই Bees wax ব্যবহার করা হয়েছিল।  Beeswax তাপে নরম হওয়ায় এর উপর সহজেই কাজ করা যায়, আবার সাধারণ তাপমাত্রায় এটি কঠিন হয়ে যায়, বাড়তি পাওনা হিসেবে beeswax এর ব্যাক্টেরিয়া ও ইনফ্লামেশনের বিরুদ্ধে কাজ করার ক্ষমতাও আছে। 

ত্রিস্তে ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামে সব ঐতিহাসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তারাও ডেন্টিস্ট্রির এই ইতিহাসের গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন।  সেখানে কর্মরত টুনি’জ বলেন, “২০১২ সাল পর্যন্ত আদিম নিচের পাটি (mandible) মিউজিয়ামের একটি ছোট্ট কোনায় রাখা ছিল, সেখানে বর্তমানে এটাই মিউজিয়ামের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।  আর স্কুলের বাচ্চাদের জন্য তো এটা আরো আকর্ষণীয়। “

DentalTimesএ কথা স্বীকার করে নিতেই হয় যে, আমাদের পূর্বপুরুষরা এ দিক থেকে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি সাহসী ছিলেন।  ডেন্টিস্টের কাছে যাবার আসল ভীতি হয়ত তারাই উপলব্ধি করেছিলেন।বুঝতেই পারছেন কেন! এত এত উন্নতি এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের পরেও ডেন্টাল ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া এখনও আমাদের অনেকের জন্য দুঃস্বপ্ন।  আর আদিম যুগের আদিম সে সব যন্ত্র দিয়ে যারা ডেন্টাল ট্রিটমেন্ট নিয়েছেন তারা নিঃসন্দেহে দুঃসাহসী।

আশার কথা একটিই -আমাদের বর্তমান ডেন্টালের অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় , এমন চমৎকার রোগীবান্ধব যা দিন দিন আরো উন্নত হচ্ছে।আগের যুগের এই ইতিহাস জেনে ও পূর্বজদের সাহসীকতা দেখে আমাদের ডেন্টিস্ট ভীতি কিছুটা হলেও যদি  কমতো !

লেখক                                                                                                                

DentalTimes
মনসুরা ফাতিমা
৩য় বর্ষ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট।

Continue Reading

Uncategorized

যশোর : ২২ চিকিৎসক-নার্সসহ ২৮ জন কোয়ারেন্টাইনে

DENTALTIMESBD.com

Published

on

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে আসায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের ১১ চিকিৎসক, ১১ নার্স মোট ২৮ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বুধবার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের জারি করা অফিস আদেশে এই কথা জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো এসব ডাক্তার ও নার্স করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীদের কনটাক্টে এসেছিলেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্যায়ক্রমে এই হাসপাতালের সবার নমুনা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, করোনা আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে যেসব ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী এসেছিলেন তাদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ১১ জন ডাক্তার ও ১১ জন নার্স ছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ড বয় ও আয়া মিলিয়ে মোট ২৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ হবে ১৪ দিন। এই সময়কালে তাদের সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে করোনারি কেয়ার ইউনিট ও মেডিসিন ওয়ার্ড লকডাউন করে দেন। গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট দুটি জীবাণুমুক্ত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়। ওই দুই স্থানে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্থানান্তর করা হয় অন্য ওয়ার্ডে।

গত কয়েকদিনে শনাক্ত হওয়া করোনা পজেটিভদের বেশ কয়েকজনকে যশোর টিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। যারা ওই হাসপাতালে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

যশোর টিবি হাসপাতালকে অস্থায়ী করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সেবার কাজে নিয়োজিতরা পাশেই নাজির শঙ্করপুরে অবস্থিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ডরমেটরিতে অবস্থান করছেন।

Continue Reading

Uncategorized

যে চারটি বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

DENTALTIMESBD.com

Published

on

বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

দেশে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ বাড়তে থাকায় পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর জন্য প্রথমবারের মত চারটি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা এবং চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল (সাবেক অ্যাপোলা), স্কয়ার হাসপাতাল ও ইউনাইটেড হাসপাতাল শুধু তাদের ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করবে।

আর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল বাইরের রোগীদের নমুনাও পরীক্ষা করতে পারবে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, “তারা যে নমুনা পরীক্ষা করবেন আমরা তা আগামীকাল থেকে অথবা যখন তারা কাজ শুরু করবেন তখন থেকে হিসাবে যুক্ত করব।”

তিনটি হাসপাতালকে বাইরের রোগীর নমুনা পরীক্ষার অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাসিমা সুলতানা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে ফলোআপে সমস্যা হতে পারে, সে কারণে তাদের এখনও তাদের আউটডোর পেশেন্টের নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

এই চারটি বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে দেশে সব মিলিয়ে এখন ২৯টি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হল।

বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড ৬৪১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ৭১০৩ জন হয়েছে। এই সময়ে আরও আটজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৩ জন হয়েছে।

Continue Reading

Uncategorized

২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৬৪১

DENTALTIMESBD.com

Published

on

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ১৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৪১ জন। ফলে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ১০৩ জন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার হাজার ৯৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭০১টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৬৪১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ১০৩ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও আটজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১১ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫০ জন।

যারা নতুন করে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং দুজন নারী। ছয়জন ঢাকার বাসিন্দা এবং দুজন ঢাকার বাইরের। বয়সের দিক থেকে চারজন ষাটোর্ধ্ব, দুজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং দুজন ত্রিশোর্ধ্ব।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

প্রায় চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার। তবে নয় লাখ ৬১ হাজারের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যান্য

Continue Reading

জনপ্রিয়