Connect with us

জাতীয়

বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ খসড়া আইন এর অনুমোদন

Published

on

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মেডিকেল শিক্ষা খাতে আরও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২১ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ সকালে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিসভার সদস্যগণ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলি এখন বেসরকারী মেডিকেল কলেজ স্থাপনা এবং অপারেশন গাইডলাইনস ২০১১ এবং বেসরকারী ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং অপারেশন গাইডলাইনস ২০০৯ এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, একটি মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজের কমপক্ষে ৫০ জন ছাত্র থাকতে হবে এবং প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী তার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১০ হতে হবে।
পাশাপাশি তিনি বলেন, একটি মেডিকেল কলেজের যে কোনও মহানগরীতে কমপক্ষে দুই একর জমি থাকতে হবে এবং ডেন্টাল কলেজের জমি প্রয়োজন এক একর।

সচিব বলেন, মহানগর অঞ্চলের বাইরের মেডিকেল কলেজের জন্য জমি প্রয়োজন চার একর এবং ডেন্টাল কলেজের জন্য এটি দুই একর হবে। যে কোনও মেডিকেল কলেজকে যে কোনও বাণিজ্যিক ব্যাংকে সংরক্ষিত তহবিল হিসাবে তিন কোটি টাকা জমা দিতে হবে এবং এটি ডেন্টাল কলেজের জন্য ২ কোটি টাকা হবে।

একাডেমিক উদ্দেশ্যে যে কোনও মেডিকেল কলেজে প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী এক লাখ বর্গফুট জায়গা এবং হাসপাতালের উদ্দেশ্যে আরও এক লাখ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে। এছাড়াও ডেন্টাল কলেজ এবং হাসপাতালের জন্য প্রতিটি স্থানের পরিমান হবে ৫০,০০০ বর্গফুট।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ এই কলেজ এবং হাসপাতাল বিভিন্ন সময়ে তদারকি করবে। মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ যে কোনও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুমোদিত হতে হবে এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের একাডেমিক ফি সরকার নির্ধারণ করবে। বেসরকারী মেডিকেল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজ কর্তৃপক্ষকে সঠিক বৈজ্ঞানিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।

আইন লঙ্ঘনে শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদন্ড বা দশ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। দেশে বর্তমানে ৭০ টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং ২৬ টি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ রয়েছে।
নতুন যুগের সাথে তাল মেলাতে এবং আইনকে যুগোপযোগীকরণে মন্ত্রিসভা টেরিটরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস (সংশোধন) আইন, ২০২১ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রণীত পুরাতন আইনটিকে নতুন করে সংশোধিত আকারে উপস্থাপিত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনে ২২ টি নতুন সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন আইনে অঞ্চল, উচ্চ সমুদ্র অঞ্চল, নীল অর্থনীতি, সমুদ্র সহযোগিতা, গবেষণা এবং সমুদ্র দূষণের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন আইন-২০২১ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনও এদিন মস্ত্রিসভায় উত্থাপিত হয়।

গত বছর একই সময়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এবার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে ১৬ দশমিক ০১ শতাংশ কমেছে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫টি মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ৪১টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয় ২০টি। ২১টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

অপরদিকে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১০টি মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ওই সময়ে সিদ্ধান্ত হয় ৭১টি। এরমধ্যে ৪৬টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন ছিল ২৫টি। বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

সচিব জানান, গত ৭ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে একটি নীতি বা কর্মকৌশল এবং একটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে আইন পাস হয়েছে ৬টি।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৪টি নীতি বা কর্মকৌশল এবং ৪টি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়। এ সময়ে সংসদে ৭টি আইন পাস হয় বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

Advertisement
Click to comment

জাতীয়

স্কুলশিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক করোনার টিকা দেওয়া শুরু

Published

on

Dental Times

টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা আনন্দিত। মানিকগঞ্জের কর্ণেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলকভাবে করোনার টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হলো।

মন্ত্রী বলেন, এই হাসপাতালে আজ ১০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে দেশের প্রায় ২১টি জায়গায় এই টিকা কর্মসূচি শুরু করবো। আমরা প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেবো। ফাইজারে টিকাটি খুবই ভালো মানের। ইউরোপের অনেক দেশেই এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে আসছে। তারা যাতে করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদে এবং সুরক্ষিত থাকে এজন্য আজ পরীক্ষামূলকভাবে আমরা স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা প্রয়োগ শুরু করলাম। আমাদের হাতে এখন ৬০ লাখ টিকা আছে। যা আমরা ৩০ লাখ ছেলে-মেয়েদের দিতে পারব। আপনারা জানেন, বাংলাদেশে প্রায় এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। আশা করছি, পর্যায়ক্রমে সবাইকে টিকার আওতায় আনতে পারব।

এ দিন মানিকগঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে ১২০ শিক্ষার্থীকে ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে। এরপর তাদের ১০-১৪ দিনের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

মানিকগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন লুৎফর রহমান বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে জেলার চারটি স্কুল থেকে নবম ও দশম শ্রেণির ১২-১৭ বছরের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলা শহ‌রের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যাল‌য়ের ৫০ জন, সরকারি এস কে বা‌লিকা বিদ্যাল‌য়ের ৫০ জন, গড়পাড়া জাহিদ মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন এবং আটিগ্রাম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীকে ফাইজা‌রের টিকা দেওয়া হ‌চ্ছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্ভাইভারস কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের খুরশীদ আলম বলেন, সারা দেশের জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে ২১টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে স্কুল শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, চলতি সপ্তাহে আমরা টিকাদান শুরু করতে পারব। প্রাথমিকভাবে আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে আমরা একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে টিকা দিতে পারব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, স্কুল শিক্ষার্থীদের তালিকা সরবরাহ করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমরা সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মে তাদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে দেব।

Continue Reading

Campus News

৫টি ডেন্টাল চেয়ার ক্রয়ে লুট পৌনে ২ কোটি টাকা

Published

on

Dental Times

পাঁচটি ডেন্টাল চেয়ার কেনার নামে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) সাবেক অধ্যক্ষ ও এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াত বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে ২ কোটি ৮২ লাখ টাকায় পাঁচটি ডেন্টাল চেয়ার ও চেয়ারের এক্সেসরিজ কেনে রংপুর মেডিকেল কলেজ। 

কিন্তু বাজার বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞদের তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা বেশি দামে এ কেনাকাটা করা হয়েছিল। তৎকালীন অধ্যক্ষ ডা. আব্দুর রউফ ও ঠিকাদার মোহাম্মদ মোকছেদুল ইসলাম চেয়ার কেনার নামে প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন।

যেখানে ক্রয় পরিকল্পনা, বাজারদর যাচাই, অফিসিয়াল প্রাক্কলন প্রস্তুত, টেন্ডার ওপেনিং কমিটি ও কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি গঠনসহ প্রভৃতি শর্তাদি পালন করা হয়নি বলে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে।  আর এই ক্রয়ের ভাউচার দেয় থ্রি আই মার্চেন্ডাইজের মালিক মোকসেদুল ইসলাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে ২ কোটি ৮২ লাখ টাকায় পাঁচটি ডেন্টাল চেয়ার ও চেয়ারের এক্সেসরিজ কেনে রংপুর মেডিকেল কলেজ। কিন্তু বাজার বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞদের তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা বেশি দামে এ কেনাকাটা করা হয়েছিল। তৎকালীন অধ্যক্ষ ডা. আব্দুর রউফ ও ঠিকাদার মোহাম্মদ মোকছেদুল ইসলাম চেয়ার কেনার নামে প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন। যেখানে ক্রয় পরিকল্পনা, বাজারদর যাচাই, অফিসিয়াল প্রাক্কলন প্রস্তুত, টেন্ডার ওপেনিং কমিটি ও কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি গঠনসহ প্রভৃতি শর্তাদি পালন করা হয়নি বলে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে।  

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯/৪২০/৪৬৫/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগেও ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যন্ত্রপাতি ক্রয় দেখিয়ে সরকারের সাড়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ডা. মো. নুর ইসলাম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। ওই মামলার এজাহারেও অধ্যক্ষ ডা. মো. নুর ইসলাম কর্তৃক বিধিবহির্ভূত ভাবে বিভিন্ন কমিটি গঠন ও যথাযথ চাহিদা ব্যতীত স্পেসিফিকেশন ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানিকে কার্যাদেশ প্রদান করার মাধ্যমে সরকারের ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা টাকা লুটপাট হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।

Continue Reading

বিশেষ প্রতিবেদন

ডোপ টেস্টের কোনো নীতিমালা নেই : টেস্টে পজিটিভ মানে তাকে মাদকাসক্ত বলা যাবেনা’

Published

on

Dental Times

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্ট নিয়ে কথা বলেছেন৷ এই টেস্ট কীভাবে হওয়া উচিত, উপকারিতা কী, এসব নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ৷

এখন তো মাদকাসক্ত চিহ্নিত করতে পুলিশে ডোপ টেস্ট হচ্ছে, প্রশাসনেও হবে৷ তাহলে মাদকের সংজ্ঞা কী? মাদক বলতে আমরা কোন জিনিসগুলোকে বুঝব?

Dental Times

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ: প্রথমে বলে নিই যে ডোপ টেস্ট শব্দটি আমাদের ক্রীড়া পরিভাষার একটি অংশ৷ কোনো খেলোয়াড় যদি কোনো দ্রব্য ব্যবহার করে তাদের পারফরমেন্স বাড়ায় সেটা ডোপ টেস্টে ধরা পড়ে৷ এখন এখানে যেটা নিয়ে কথা হচ্ছে তা হলো কোনো ব্যক্তি মাদক গ্রহণ করছেন কিনা তা পরীক্ষা করা৷ তবে কেউ আসক্ত কিনা তা ডোপ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়না৷ আসক্তি আছে কিনা সেটা ক্লিনিক্যালি দেখতে হয়৷ চিকিৎসকের মাধ্যমে ইন্টারভিউ করতে হয়, লক্ষণ বিচার করতে হয়৷

চাকরি ক্ষেত্রে বা অন্য ক্ষেত্রে আমাদের দেশে যেসব মাদকের পরীক্ষা করা হয় তা তিন ধরনের৷ স্টিমুলেট জাতীয় মাদক৷ যেমন: ইয়াবা, এম্পিটামিন৷ আছে ডিপ্রেশন মাদক৷ যেমন: অ্যালকহল, ঘুমের ওষুধ, গাঁজা৷ কিছু আছে নারকোটিকস বা চেতনা নাশক৷ যেমন: প্যাথেডিন, মরফিন৷ এছাড়া মাদকাসক্তরাও মিশ্র মাদক স্থানীয়ভাবে তৈরি করে।

ডোপ টেস্টে সাধারণত ইউরিন পরীক্ষা করা হয়৷ এই পরীক্ষায় গাঁজা, ইয়াবা, মরফিন ও হেরোইনের অস্তিত্ব জানা যায়৷ ব্রেথ টেস্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কেউ অ্যালকহল খেলে তা জানা যায়৷

 এই পরীক্ষায় ফল পেতে কি নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে?

Dental Times

কেউ গাঁজা সেবন করলে তার উপস্থিতি শরীরে ছয় মাস পর্যন্ত থাকতে পারে৷ ইউরিন টেস্টে সেটা ধরা পড়বে৷ ফেনসিডিল, হেরোইন, মরফিন এই জাতীয় মাদক কিন্তু ২৪- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা না করলে ধরা পড়েনা৷ আর ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে তিনি আসক্ত সেটা বলা যাবেনা৷ তিনি মাদক গ্রহণ করেছেন সেটা বলা যাবে৷ আবার নেগেটিভ হলেই নিশ্চিত হওয়া যাবেনা যে তিনি আগে মাদক গ্রহণ করেননি৷

এটা কীভাবে করা উচিত? গোয়েন্দাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে না চিকিৎসকদের পরামর্শে?

এটা অবশ্যই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপনায় করতে হবে৷ কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী মাদকাসক্তি একটা রোগ৷ এটা মস্তিস্কের ক্রনিক রোগ৷ এটা বার বার হতে পারে৷ তাই এটা চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপনায়ই করতে হবে৷ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে করা হলে এটার অপব্যবহার হতে পারে, অতি ব্যবহার হতে পারে এবং কোনো কোনো সময় সত্যিকার মাদকাসক্তের ডোপ টেস্ট নেগেটিভ হয়ে যেতে পারে৷

Dental Times

ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখেন?
এটা এক দিক দিয়ে ভালো উদ্যোগ৷ তরুণদের মধ্যে, চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে একটা সচেতনা তৈরি হবে৷ তাদের মধ্যে ভীতি তৈরি হবে যে মাদক গ্রহণ করলে চাকরি হবেনা৷ তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে কিন্তু বিতর্ক থেকেই যায়৷ ডোপ টেস্ট দিয়েই কি সব মাদকাসক্তকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে? না, সম্ভব হবেনা৷ আবার ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলেই কি সে মাদকাসক্ত? না, সে মাদক গ্রহণকারী৷ মাদকাসক্ত আর মাদক গ্রহণকারী এক নয়৷ আবার কেউ মাদকাসক্ত হলেই কি তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া ঠিক হবে? এটা তো একটা রোগ৷ চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন তার অধিকার৷

বাংলাদেশে অ্যালকোহল গ্রহণের লাইসেন্স পাওয়ার নিয়ম কী?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণের অনুমোদন পাওয়া যায়৷ তবে এখানে নীতিমালা স্বচ্ছ নয়৷ আরো স্বচ্ছ করা উচিত৷

ডোপ টেস্ট এড়াতে কি আবার অ্যালকহল গ্রহণের লাইসেন্স নেয়ার হিড়িক পড়ে যাবে?
প্রথমত, ডোপ টেস্টে অ্যালকোহল দেখা হয়না৷ ডোপ টেস্টে দেখা হয় ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল প্রভৃতি৷ অ্যালকহল বোঝা যায় গ্রহণের চার-পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ব্রেথ টেস্ট করে৷ ফলে চাকরিপ্রার্থীদের অ্যালকোহল টেস্ট করা হয়না৷

আর ডোপ টেস্টের কোনো নীতিমালা নেই৷ ব্যক্তিকে সনাক্ত করার বিধান নেই৷ একজনের নামে আরেকজন ডোপ টেস্ট করিয়ে নিতে পারে৷ নেগেটিভ ব্যাক্তির রেজাল্ট পজিটিভ ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারে৷ তাই আগে প্রয়োজন নীতিমালা৷ কোথায় ডোপ টেস্ট করা যাবে তাও নির্দিষ্ট করতে হবে৷

কোনো কোনো মাদক নিরাময় কেন্দ্রেই নাকি মাদকাসক্ত হয়? তারা নাকি মাদকের ব্যবসাও করে?

মাদক নিরাময় কেন্দ্র হলো চিকিৎসা কেন্দ্র৷ এই কেন্দ্রের সাথে চিকিৎসকদের জড়িত থাকতে হবে৷ কিন্তু আমরা দেখি বাংলাদেশের অধিকাংশ নিরাময় কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই, কোনো নার্স নেই৷ সেগুলো পরিচালিত হচ্ছে সাবেক মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে৷ তাহলে ওইসব নিরাময় কেন্দ্রে মাদক ব্যবসার অভিযোগ অমূলক নয়৷

Continue Reading

করোনা পরিস্থিতি

সিনোফার্মের ৩০ লাখ টিকা ঢাকায়

Published

on

Dental Times

চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে কেনা ৩০ লাখ করোনাভাইরাসের টিকা ঢাকায় এসেছে।

বাংলাদেশ বিমানের তিনটি পৃথক ফ্লাইটে এই টিকা গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ও আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকায় আসে। বাংলাদেশ বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার আজ সকালে এ তথ্য জানান।

তাহেরা খন্দকার বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তিনটি পৃথক ফ্লাইটে মোট ৩০ লাখ সিনোফার্মের টিকা ঢাকায় এসেছে। টিকা নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি ঢাকায় আসে গতকাল রাত সোয়া ১০টার দিকে। দ্বিতীয় ফ্লাইটটি আসে গতকাল দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে। আর তৃতীয় ফ্লাইটটি আসে আজ ভোররাতে।

তাহেরা খন্দকার জানান, বিমানের ফ্লাইটগুলো ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিমানের পক্ষ থেকে সব ধরনের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সুবিধা প্রদান করা হয়।

গতকাল বাংলাদেশ বিমানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৩০ লাখ ডোজ টিকা দেশে আনতে ২৯ জুলাই বিমানের অত্যাধুনিক তিনটি ড্রিমলাইনার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এগুলোর মধ্যে ছিল একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ও দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮।

Continue Reading

জাতীয়

‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভাইভা ছাড়া ডাক্তার নার্স নিয়োগ হবে’

Published

on

Dental Times

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভাইভা ছাড়াই ডাক্তার নার্স নিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেছেন, আমাদের ডাক্তার নার্সরা ক্লান্ত হয়ে গেছে। আর কত দিন। প্রায় দুই বছর চলছে। তাই আমরা ৪ হাজার ডাক্তার এবং ৪ হাজার নার্স নিয়োগ দিতে যাচ্ছি দ্রুত। ভাইভা ছাড়াই ডাক্তার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে।

সোমবার (২৬ জুলাই) মন্ত্রীপরিষদ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, টিকার কার্যক্রম আরো জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়ার্ড পর্যায়ে জোর দেয়া হবে এখন।

তিনি আরও বলেন, প্রতি সপ্তাহে ২০০ টন অক্সিজেন আসবে। এই মুহূর্তে অক্সিজেনের সমস্যা নাই। আগামীতেও সমস্যা হবে না।

Continue Reading
Dental Times
জাতীয়1 day ago

স্কুলশিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক করোনার টিকা দেওয়া শুরু

Dental Times
আন্তর্জাতিক1 day ago

উহানবাসীর রক্তের নমুনা পরীক্ষা করবে চীন

Dental Times
আন্তর্জাতিক1 day ago

করোনার উৎস সন্ধানে ‘শেষ সুযোগ’ ডব্লিউএইচওর

Dental Times
জীবন ও কর্ম2 days ago

সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেলেন বাঁধন

Dental Times
পড়ালেখা2 days ago

২৯ অক্টোবরেই ৪৩তম বিসিএস প্রিলি

Dental Times
শিক্ষাঙ্গন5 days ago

ডেন্টিস্ট সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বনাম বাস্তবতা

BDF বিডিএফ
সংগঠন7 days ago

বিডিএফ এর ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

আত্মসমর্পণের পর জামিন : স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর1 week ago

আত্মসমর্পণের পর জামিন : স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদ

Dental Times
Campus News1 week ago

৫টি ডেন্টাল চেয়ার ক্রয়ে লুট পৌনে ২ কোটি টাকা

UDC 25th years Celebration
ঢাকা2 weeks ago

ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের ২৫ বছর পূর্তি

Dental Times
বিএমডিসি3 weeks ago

ছয় ভুয়া চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করলো বিএমডিসি

Dental Times
সংগঠন3 weeks ago

আইএপিডির সদস্য পদ পেলো বিএসপিডি

Dental Times
বিশেষ প্রতিবেদন4 weeks ago

ডোপ টেস্টের কোনো নীতিমালা নেই : টেস্টে পজিটিভ মানে তাকে মাদকাসক্ত বলা যাবেনা’

ঘাতক ড্রাইভারের শাস্তি চেয়ে পথে সরব ইউডিসি শিক্ষার্থীরা
ঢাকা1 month ago

ঘাতক ড্রাইভারের শাস্তি চেয়ে পথে সরব ইউডিসি শিক্ষার্থীরা

Dental Times
Dental Admission2 months ago

সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা ১০ সেপ্টেম্বর

Dental Times
আন্তর্জাতিক2 months ago

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পর এবার নতুন আতঙ্ক কলম্বিয়ান ভ্যারিয়েন্ট

Dental Times
করোনা পরিস্থিতি3 months ago

সিনোফার্মের ৩০ লাখ টিকা ঢাকায়

Dental Times
জাতীয়3 months ago

‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভাইভা ছাড়া ডাক্তার নার্স নিয়োগ হবে’

Dental Times
জাতীয়3 months ago

দেশে ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি – অধ্যাপক ডা. বুলবুল

Dental Times
জাতীয়3 months ago

একদিনে ঢাকায় আরও ৭৯ ডেঙ্গু রোগী

Advertisement

সম-সাময়িক

Subscribe for notification