Connect with us

জীবন ও কর্ম

সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেলেন বাঁধন

Published

on

Dental Times

বাঁধনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ইসরায়েলের আলেনা ওয়াইভি, রাশিয়ার ভ্যালেন্তিনা রোমানোভা সিসকাইরি, অস্ট্রেলিয়ার লিয়া পার্সেল ও নিউজিল্যান্ডের এসি ডেভিস

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত “রেহানা মারিয়াম নূর” সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার “এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস”-এর ১৪ তম আসরে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন। প্রথম কোনো বাংলাদেশি অভিনেত্রী হিসেবে এ অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন পেলেন তিনি।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) অ্যাওয়ার্ডসের পুরস্কার কর্তৃপক্ষ মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে।

এ তালিকায় বাঁধনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ইসরায়েলের আলেনা ওয়াইভি, রাশিয়ার ভ্যালেন্তিনা রোমানোভা সিসকাইরি, অস্ট্রেলিয়ার লিয়া পার্সেল ও নিউজিল্যান্ডের এসি ডেভিস।

Advertisement
Click to comment

বিশেষ প্রতিবেদন

ডোপ টেস্টের কোনো নীতিমালা নেই : টেস্টে পজিটিভ মানে তাকে মাদকাসক্ত বলা যাবেনা’

Published

on

Dental Times

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্ট নিয়ে কথা বলেছেন৷ এই টেস্ট কীভাবে হওয়া উচিত, উপকারিতা কী, এসব নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ৷

এখন তো মাদকাসক্ত চিহ্নিত করতে পুলিশে ডোপ টেস্ট হচ্ছে, প্রশাসনেও হবে৷ তাহলে মাদকের সংজ্ঞা কী? মাদক বলতে আমরা কোন জিনিসগুলোকে বুঝব?

Dental Times

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ: প্রথমে বলে নিই যে ডোপ টেস্ট শব্দটি আমাদের ক্রীড়া পরিভাষার একটি অংশ৷ কোনো খেলোয়াড় যদি কোনো দ্রব্য ব্যবহার করে তাদের পারফরমেন্স বাড়ায় সেটা ডোপ টেস্টে ধরা পড়ে৷ এখন এখানে যেটা নিয়ে কথা হচ্ছে তা হলো কোনো ব্যক্তি মাদক গ্রহণ করছেন কিনা তা পরীক্ষা করা৷ তবে কেউ আসক্ত কিনা তা ডোপ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়না৷ আসক্তি আছে কিনা সেটা ক্লিনিক্যালি দেখতে হয়৷ চিকিৎসকের মাধ্যমে ইন্টারভিউ করতে হয়, লক্ষণ বিচার করতে হয়৷

চাকরি ক্ষেত্রে বা অন্য ক্ষেত্রে আমাদের দেশে যেসব মাদকের পরীক্ষা করা হয় তা তিন ধরনের৷ স্টিমুলেট জাতীয় মাদক৷ যেমন: ইয়াবা, এম্পিটামিন৷ আছে ডিপ্রেশন মাদক৷ যেমন: অ্যালকহল, ঘুমের ওষুধ, গাঁজা৷ কিছু আছে নারকোটিকস বা চেতনা নাশক৷ যেমন: প্যাথেডিন, মরফিন৷ এছাড়া মাদকাসক্তরাও মিশ্র মাদক স্থানীয়ভাবে তৈরি করে।

ডোপ টেস্টে সাধারণত ইউরিন পরীক্ষা করা হয়৷ এই পরীক্ষায় গাঁজা, ইয়াবা, মরফিন ও হেরোইনের অস্তিত্ব জানা যায়৷ ব্রেথ টেস্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কেউ অ্যালকহল খেলে তা জানা যায়৷

 এই পরীক্ষায় ফল পেতে কি নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে?

Dental Times

কেউ গাঁজা সেবন করলে তার উপস্থিতি শরীরে ছয় মাস পর্যন্ত থাকতে পারে৷ ইউরিন টেস্টে সেটা ধরা পড়বে৷ ফেনসিডিল, হেরোইন, মরফিন এই জাতীয় মাদক কিন্তু ২৪- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা না করলে ধরা পড়েনা৷ আর ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে তিনি আসক্ত সেটা বলা যাবেনা৷ তিনি মাদক গ্রহণ করেছেন সেটা বলা যাবে৷ আবার নেগেটিভ হলেই নিশ্চিত হওয়া যাবেনা যে তিনি আগে মাদক গ্রহণ করেননি৷

এটা কীভাবে করা উচিত? গোয়েন্দাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে না চিকিৎসকদের পরামর্শে?

এটা অবশ্যই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপনায় করতে হবে৷ কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী মাদকাসক্তি একটা রোগ৷ এটা মস্তিস্কের ক্রনিক রোগ৷ এটা বার বার হতে পারে৷ তাই এটা চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপনায়ই করতে হবে৷ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে করা হলে এটার অপব্যবহার হতে পারে, অতি ব্যবহার হতে পারে এবং কোনো কোনো সময় সত্যিকার মাদকাসক্তের ডোপ টেস্ট নেগেটিভ হয়ে যেতে পারে৷

Dental Times

ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখেন?
এটা এক দিক দিয়ে ভালো উদ্যোগ৷ তরুণদের মধ্যে, চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে একটা সচেতনা তৈরি হবে৷ তাদের মধ্যে ভীতি তৈরি হবে যে মাদক গ্রহণ করলে চাকরি হবেনা৷ তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে কিন্তু বিতর্ক থেকেই যায়৷ ডোপ টেস্ট দিয়েই কি সব মাদকাসক্তকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে? না, সম্ভব হবেনা৷ আবার ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলেই কি সে মাদকাসক্ত? না, সে মাদক গ্রহণকারী৷ মাদকাসক্ত আর মাদক গ্রহণকারী এক নয়৷ আবার কেউ মাদকাসক্ত হলেই কি তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া ঠিক হবে? এটা তো একটা রোগ৷ চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন তার অধিকার৷

বাংলাদেশে অ্যালকোহল গ্রহণের লাইসেন্স পাওয়ার নিয়ম কী?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণের অনুমোদন পাওয়া যায়৷ তবে এখানে নীতিমালা স্বচ্ছ নয়৷ আরো স্বচ্ছ করা উচিত৷

ডোপ টেস্ট এড়াতে কি আবার অ্যালকহল গ্রহণের লাইসেন্স নেয়ার হিড়িক পড়ে যাবে?
প্রথমত, ডোপ টেস্টে অ্যালকোহল দেখা হয়না৷ ডোপ টেস্টে দেখা হয় ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল প্রভৃতি৷ অ্যালকহল বোঝা যায় গ্রহণের চার-পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ব্রেথ টেস্ট করে৷ ফলে চাকরিপ্রার্থীদের অ্যালকোহল টেস্ট করা হয়না৷

আর ডোপ টেস্টের কোনো নীতিমালা নেই৷ ব্যক্তিকে সনাক্ত করার বিধান নেই৷ একজনের নামে আরেকজন ডোপ টেস্ট করিয়ে নিতে পারে৷ নেগেটিভ ব্যাক্তির রেজাল্ট পজিটিভ ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারে৷ তাই আগে প্রয়োজন নীতিমালা৷ কোথায় ডোপ টেস্ট করা যাবে তাও নির্দিষ্ট করতে হবে৷

কোনো কোনো মাদক নিরাময় কেন্দ্রেই নাকি মাদকাসক্ত হয়? তারা নাকি মাদকের ব্যবসাও করে?

মাদক নিরাময় কেন্দ্র হলো চিকিৎসা কেন্দ্র৷ এই কেন্দ্রের সাথে চিকিৎসকদের জড়িত থাকতে হবে৷ কিন্তু আমরা দেখি বাংলাদেশের অধিকাংশ নিরাময় কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই, কোনো নার্স নেই৷ সেগুলো পরিচালিত হচ্ছে সাবেক মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে৷ তাহলে ওইসব নিরাময় কেন্দ্রে মাদক ব্যবসার অভিযোগ অমূলক নয়৷

Continue Reading

অর্জন

কান দর্শকদের ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ : দর্শকের করতালিতে কাঁদলেন বাঁধন

Published

on

Dental Times

কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের পরিচালনায় সিনেমাটি কানে প্রদর্শীত হওয়ার পর ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ পেয়েছে। এসময় কেঁদে ফেলেন চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা আজমেরী হক বাঁধন।

এখন একটি সিনেমা মুক্তির পর হলে প্রথম শোতে কতজন দর্শক আশা করা হয়? প্রশ্নটি যদি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে হয় উত্তর হবে এক-দেড়শ। আর যদি বাংলাদেশী ছবি বিদেশী কোনো প্রদর্শনীতে হয় তাহলে তো দর্শক আরো কমে যাবে। কিন্তু চলচ্চিত্রের বিশ্বকাপখ্যাত কান উৎসবে বাংলাদেশের ছবি রেহেনা মরিয়ম সব হিসাব উল্টে দিয়েছে। ৭৪তম আসরের আঁ সার্তে রিগা বিভাগে প্রথম প্রদর্শনীতে এক হাজার ৬৮ জন দর্শক পিনপতন নীরবতায় সিনেমাটি উপভোগ করেন।

কানের ডবসি থিয়েটারে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ১৫ মিনিট) সিনেমাটির প্রদর্শনী শুরু হয়।

Dental Times

সিনেমাটি শেষ হওয়ার পর দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং হাততালিতে মুখরিত করেন ডবসি থিয়েটার। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিল ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এর পুরো টিম।

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ নির্মিত ছবিটি দেখতে আগে থেকেই বেশ লম্বা লাইন ছিল ডেবুসি হলের সামনে। প্রদর্শনীতে সিনেমাটির পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ ছাড়াও অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, ছবিটির সিঙ্গাপুরের প্রযোজক জেরেমি চুয়া, চিত্রগ্রাহক তুহিন তমিজুল, প্রডাকশন ডিজাইনার আলী আফজাল উজ্জল, শব্দ প্রকৌশলী শৈব তালুকদার, কালারিস্ট চিন্ময় রয় এবং নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু উপস্থিত ছিলেন।

দর্শক প্রতিক্রিয়ায় অভিভূত রেহানা মরিয়ম নূর চরিত্র রূপদানকারী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন এ সময় আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বাঁধন বলেন, ‘এখানে আসার মতো এত বড় স্বপ্ন দেখার সাহসও আমার ছিল না। যে সম্মান পেলাম তার পুরো কৃতিত্ব টিমের ও পরিচালকের। আমি শুধু তাকে বিশ্বাস করেছি আর তার কথামতো পরিশ্রমটা করেছি। আজ যে রেসপন্স পেয়েছি, আমি জানি না এরপর আমার আর কী পাওয়ার থাকতে পারে।’

দর্শক যখন দাঁড়িয়ে সম্মান জানাচ্ছিল, সে মুহূর্তের অনুভূতি সম্পর্কে বাঁধন বলেন, ‘এত সম্মান, আমি জানি না…আমি সত্যিই সম্মানিত, অনেক আনন্দিত। এই সম্মানটা শুধু তো আমাদের নয়, আমাদের দেশের সম্মান। সবাই যখন দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছিল, তখন…আসলে তো আমরা আমাদের দেশটাকে সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম। এটা দেশের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে দর্শক আমাদের স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিয়েছে। সেই সঙ্গে সবার হাততালিতে মুখরিত ছিল হল রুম। এটা অসাধারণ এক অনুভূতি, বলে বোঝাতে পারব না। নিজের অজান্তে গর্বে আমার চোখে পানি চলে এসেছে।’

Dental Times

এই উৎসবে যোগ দেয়া একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, সিনেমাটির প্রদর্শনী শেষে তিনি দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দর্শকরা একবাক্যে সিনেমাটি নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। ইংরেজি সাবটাইটেল দেয়া ছবিটি বুঝতে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি বলেও জানিয়েছেন। হলভর্তি পুরো অডিয়েন্স যেভাবে বাংলাদেশের সিনেমাটিকে স্বাগত জানিয়েছে, তা অভাবনীয়।

কান চলচ্চিত্র উৎসবকে ‘সিনেমার অলিম্পিক’ হিসেবেও ধরা হয়। দক্ষিণ ফ্রান্সের কান শহরের সাগর উপকূলে পালে দে ফেস্টিভাল ভবনে গত মঙ্গলবার ৭৪তম উৎসবের পর্দা উঠেছে। উৎসব চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত।

উৎসবের মূল পর্বে দেখানো হবে ৪৪টি চলচ্চিত্র। প্রতিযোগিতা বিভাগে ২৪টি। আঁ সার্তে রিগা বিভাগে ২০টি চলচ্চিত্র স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’।

বাস্তব জীবনও ডাঃ আজমেরী হক বাঁধন একজন চিকিৎসক (ডেন্টাল সার্জন), অভিনয় করেছেন একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেহানা মরিয়ম নূর চরিত্রে। যাকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির গল্প। কর্মস্থলে ও পরিবারে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। শিক্ষক, চিকিৎসক, বোন, কন্যা ও মা হিসেবে জটিল জীবন যাপন করেন তিনি। এক সন্ধ্যায় একজন অধ্যাপকের কক্ষ থেকে এক ছাত্রীকে কাঁদতে কাঁদতে বের হতে দেখেন রেহানা। এ ঘটনার পর ক্রমে একরোখা হয়ে ওঠেন তিনি। ওই ছাত্রীর পক্ষ হয়ে সহকর্মীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। একই সময়ে তার ছয় বছর বয়সী মেয়ের বিরুদ্ধে স্কুল থেকে রূঢ় আচরণের অভিযোগ ওঠে। অনড় রেহানা তথাকথিত নিয়মের বাইরে গিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও নিজের মেয়ের জন্য ন্যায়বিচারের লড়াই করতে থাকেন।

একটি মেডিক্যাল কলেজে পুরো চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে। পুরো সিনেমাতেই এক ধরনের অনুজ্জ্বল নীলাভ-সাদা আলো বেছে নেওয়া হয়েছে। ভবনের ভেতরে বা বাইরে কোথাও কখনো উজ্জ্বল আলো দেখা যায়নি। আলো-আঁধারির যে খেলা সিনেমায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা রেহানার গল্পের সাথেও মানানসই। পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যত্ন করে আলোর বিষয়টি মাথায় রাখা হয়েছে। কোনো চরিত্রই তেমন উজ্জ্বল কাপড় পরেনি। বরং সমাজে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন এবং এ নিয়ে যে লুকোচুরি এবং হুশ-হাশ চুপ-চুপের অবতারণা করা হয়, সিনেমার লাইটিং তাকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছে। ভালো একটি দৃশ্যের জন্য ক্যামেরার যে কয়টি নিয়ম মানার কথা বলা হয়ে থাকে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার কোনোটির ধার ধারেননি সাদ। রেহানা মরিয়ম নূরে ট্রাইপড বা অন্য কোনো ডিভাইস ব্যবহার করে দৃশ্যকে স্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টাই করা হয়নি।

বাংলা ভাষায় নির্মিত এক ঘণ্টা ৪৭ মিনিটের এই ছবিতে ইংরেজি সাবটাইটেল দেয়া হয়েছে। চলচ্চিত্রটি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে মুক্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্রটির নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু।

৩৭ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের হাত ধরেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে কোনো চলচ্চিত্র অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা পেল। এর আগে ১৯৯৪ সালে ‘আঁ সার্তে রিগা’ বিভাগে ভারতীয় চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘উত্তরণ’ নির্বাচিত হয়েছিল। কানের অফিশিয়াল সিলেকশনের চার বিভাগের বাইরে প্যারালাল বিভাগের ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে ২০০২ সালে উৎসবের ৫৫তম আসরে নির্বাচিত হয়েছিল প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ পরিচালিত ‘মাটির ময়না’। ছবিটি সেবার পুরস্কৃত হয়েছিল।

Continue Reading

অর্জন

গবেষণায় একুশে পদক পাচ্ছেন অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সাহা

Published

on

Dental Times

করোনার জিনোম সিকোয়েন্স উদ্ভাবনের স্বীকৃতি স্বরূপ এ বছর একুশে পদক পাচ্ছেন অণুজীববিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সাহা। বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গবেষণা ক্যাটাগরিতে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (অনুষ্ঠান) অসীম কুমার দে স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক চলতি বছর (২০২১) একুশে পদক পাচ্ছেন। 

ড. সমীর কুমার সাহা ১৯৫৫ সালে নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা চন্দ্রকান্ত সাহা ও মা দুলালী প্রভা সাহা। চন্দ্রকান্ত সাহা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। পেশাগত কারণে চন্দ্রকান্ত সাহাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকতে হতো। সেই সুবাদে ড. সমীর কুমার সাহার শৈশব ও স্কুলজীবন কেটেছে রাজশাহীতে। রাজশাহীর চারঘাট থানার আড়ানী গ্রামের মনমোহিনী হাইস্কুলে স্কুলজীবন করেন। চৌমুহনীর মদনমোহন হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর চন্দ্রকান্ত সাহা সপরিবারে চাঁদপুর চলে আসেন। সেখানে জেলার সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন সমীর কুমার সাহা। কলেজে পড়াকালীন সময়ে তিনি রামকৃষ্ণ আশ্রমে থাকতেন। 

১৯৭৫ সালে এইচএসসি শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৮৩ সালে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতক করার পর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। 

এরপর তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজিতে যোগ দেন। ১৯৮৯ সালে ভারতের বানারসে ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স থেকে মেডিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে আবার ঢাকা শিশু হাসপাতালে ফিরে আসেন।

ঢাকা শিশু হাসপাতালে ফিরে আসার পর এখানে সীমিত পরিসরে গবেষণার জন্য দল গঠন করেন তিনি। সেই সময় শিশুরা ডায়রিয়ার থেকে বেশি মারা যেতো নিউমোনিয়া, টাইফয়েড ও মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে। তখন তিনি নিউমোনিয়ার নির্দিষ্ট দুটি জীবাণু নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। একই সঙ্গে টাঙ্গাইলে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতাল, রাজধানীর মিরপুরের শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল, চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতাল এবং সিলেটের বালুচরের গবেষণাগার থেকেও তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করেন।

তাঁর গবেষণার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সরকার শিশু মৃত্যু হার কমানোর জন্যে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে ভ্যাকসিন ‘হিব পেন্টাভ্যালেন্ট’ ও ‘নিউমোকক্কাস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শিশু মৃত্যুহার কমানোর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তিনি ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে প্রথম এশীয় হিসেবে জে. ফিনলে পুরস্কার অর্জন করেন ডা. সমীর। একই সঙ্গে অণুজীববিজ্ঞানীদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সংগঠন আমেরিকান সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজির পক্ষ থেকে সম্মানসূচক পুরস্কার পান। যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডার বাইরে এই পুরস্কার আগে দেওয়া হয়নি। 

মেডিভয়েস

Continue Reading

অর্জন

একুশে পদক পাচ্ছেন অধ্যাপক ডাঃ কাজী কামরুজ্জামান

Published

on

সমাজসেবায় একুশে পদক পাচ্ছেন অধ্যাপক ডাঃ কাজী কামরুজ্জামান

এবার একুশে পদক পাচ্ছেন ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ কাজী কামরুজ্জামান । সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিতে এবার একুশে পদক পাচেছন তিনি।

বৃহস্পতিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (অনুষ্ঠান) অসীম কুমার দে স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্পকলা, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য একুশে পদক দেওয়া হয়ে থাকে।

এতে বলা হয়, ‘সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে ২০২১ সালের একুশে পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

Dental Times

সাধারণ মানুষের আয়-সীমার মধ্যে একটি টেকসই, নিরাপদ এবং সংহত চিকিৎসা সেবা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্ট ৩ দশকের বেশি সময় ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসা প্রদান ছাড়াও চিকিৎসা শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচীর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ট্রাস্ট ইতিমধ্যে একটি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিট, নার্সিং কলেজ এবং প্যারামেডিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার অঙ্গীকার থেকে গ্রামের গরীব জনগণের জন্য চালু করেছে গ্রামীন স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচী, বিভিন্ন শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য শিল্প স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচী এবং দরিদ্র শিশু-কিশোরদের জন্য স্কুল স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচী ।

স্কুল স্বাস্থ্য কর্মসূচী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দরিদ্র ও শ্রমজীবী শিশু কিশোরদের জন্য সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে পরিচালিত বিদ্যালয়সমূহে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম যা ২ দশকেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত আছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের “যখন তখন শিক্ষা” নামে পরিচালিত ৬ টি স্কুল, মহিলা সমিতি পরিচালিত শিশুদের স্কুল, সুলতান-ছফা পাঠশালা, ইউসুফ স্কুল, শিশু স্বর্গ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে এই সেবাটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

এছাড়া, পিতৃমাতৃহীন বা পিতৃহীন এতিম শিশুদের ভরণপোষণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং উপযুক্ত মর্যাদায় সমাজে পুনর্বাসনের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে সরকারি শিশু পরিবার পরিচালনা করছে। দৃষ্টি , শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী দরিদ্র শিশু-কিশোরদের জন্য পরিচালনা করছে আবাসিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহ ।

গত ডিসেম্বর’২০ মাস থেকে সমাজ সেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ঢাকা শহরের অনাথ, উদ্বাস্তু ও প্রতিবন্ধী শিশু কিশোরদের ৭টি স্কুল ডিসিএইচ ট্রাস্টের স্কুল স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচীর সাথে যুক্ত হয়েছে। স্কুল গুলো হলো সরকারী শিশু পরিবার (বালক), সরকারী শিশু পরিবার (বালিকা), ছোট মনি নিবাস, দিবাকালীন শিশু যতকেন্দ্র, সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম, সরকারী বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও সরকারী আশ্রয় কেন্দ্র।

Continue Reading

গুণীজন

গুগল ডুডলে স্মরণ প্রথম বাঙালি মুসলিম নারী চিকিৎসককে

Published

on

গুগল ডুডলে স্মরণ প্রথম বাঙালি মুসলিম নারী চিকিৎসককে

আজ গুগলের সার্চ পেজে গেলেই চোখে পড়বে গুগল লেখাটির মাঝে একজন নারী চিকিৎসকের প্রতিকৃতি। তিনি জোহরা বেগম কাজী। আজ ১৫ অক্টোবর তাঁর ১০৮ তম জন্মদিন। গুগল বিশেষ ডুডল তৈরির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করছে। গুগলের ডুডল পেজে তাঁর জীবনী তুলে ধরা হয়েছে।

সার্চ পেজে দেখানো ডুডলটিতে ক্লিক করলে কাজী জোহরা বেগম সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুসন্ধান ফলাফল দেখাচ্ছে গুগল।

বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুগলে (www. google. com) গেলে কিংবা সরাসরি (www. google. com. bd) ঠিকানায় ঢুকলে চোখে পড়বে জোহরা কাজীকে নিয়ে করা ডুডলটি। এতে গুগলের অক্ষরগুলোকে সাজানো হয়েছে বিশেষভাবে। যেখানে দেখা যাচ্ছে জোহরা বেগম কাজীর গলায় স্টেথোসকোপ এবং মাথার ওপর গাছের ছায়া। গায়ে জড়ানো হলুদ রঙের একটি পোশাক।

বিশেষ দিন, ঘটনা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানাতে বা স্মরণ করতে গুগল তাদের হোমপেজে বিশেষ লোগো প্রদর্শন করে। এটা ডুডল হিসেবে পরিচিত। গুগল সার্চের মূল পাতায় প্রদর্শিত লোগোটির নিচে থাকে সার্চ বার। এখানে জোহরা কাজী সংক্রান্ত নানা তথ্য পাওয়া যাবে।

এর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, প্রখ্যাত স্থপতি এফ আর খান, হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিনসহ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ডুডল প্রকাশ করেছে গুগল।

Dental Times

ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজনানগাঁওয়ে ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আদি পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার গোপালপুর গ্রামে। ‘ব্রিটিশ খেদাও’ আন্দোলনের পুরো সময়টাতে মহাত্মা গান্ধী প্রতিষ্ঠিত সেবাশ্রম ‘সেবাগ্রাম’-এ মানবতাবাদী বাবা ডা. কাজী আব্দুস সাত্তারের কর্মস্থলে তাঁর শৈশব-কৈশোর কাটে। কাজী আব্দুস সাত্তার ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী একজন আধুনিক মানুষ। মা আঞ্জুমান নেসা ছিলেন খুব সাদাসিধে কর্মিষ্ঠ এক নারী। তিনি রায়পুর পৌরসভার প্রথম নারী কমিশনার নিযুক্ত হয়েছিলেন।

ভারতবর্ষকে ভাগ করে পাকিস্তান নামক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধী মৌলানা আবুল কালাম আজাদের আদর্শের প্রতি তাঁর বাবা আব্দুস সাত্তারের পূর্ণ সমর্থন ছিল। মানুষে মানুষে ভেদাভেদের রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন না। ফলে সমকালীন ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী রাজনৈতিক মূল্যবোধ গ্রন্থিত হতে থাকে অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত কিশোরী জোহরার মানবিক বোধ ও চেতনায়। ডা. জোহরা বেগম কাজীর মেধা-মননে ধীরে ধীরে রূপ পেতে থাকে ভবিষ্যতের আধুনিক চিন্তা-চেতনাসমৃদ্ধ কর্মিষ্ঠ এক চিকিৎসাবিজ্ঞানী। রাজনানগাঁওয়ের রানি সূর্যমুখী প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের টোল ‘পুত্রিশালায়’ ডা. জোহরার হাতেখড়ি হয়। পড়ালেখায় ছিলেন তুখোড়। ক্লাসে সব সময় প্রথম হতেন। ১৯২৯ সালে তিনি আলীগড় মুসলিম মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে কলেজের পড়া শেষ করেন। দিল্লির লেডি হার্ডিং মেডিকেল কলেজ ফর ওমেন থেকে প্রথম বাঙালি মুসলিম ছাত্রী হিসেবে ১৯৩৫ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমবিবিএস পাস করেন।

গুগল ডুডলে স্মরণ প্রথম বাঙালি মুসলিম নারী চিকিৎসককে

সাতচল্লিশ-পরবর্তী সময় মানবকল্যাণমূলক সমাজ গঠন-প্রক্রিয়ার একটা উল্লেখযোগ্য সময়। এই কালপর্বটিকে বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞান শাস্ত্রের গঠনপর্ব বললে অত্যুক্তি হবে না। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রূপরেখা নির্মাণের সেই অসাধারণ কালপর্বে চিকিৎসাশাস্ত্রে বাঙালি নারী চিকিৎসকদের অগ্রপথিক মানবতাবাদী, সমাজ-সংস্কারক যেসব নারীর নাম সর্বাগ্রে সবার মানসপটে ভেসে ওঠে, তাঁদের মধ্যে জোহরা বেগম কাজী একজন। ১৯৪৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যোগদান করেই স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিভাগটি গড়ে তোলেন। গর্ভবতী মায়েরা যাতে হাসপাতালে এসে চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন, সে জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনিই প্রথম নারীদের পৃথকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি গাইনোকোলজি বিভাগের প্রধান ও অনারারি প্রফেসর ছিলেন।

পশ্চাৎপদ নারীসমাজের জাগরণে বিশেষ করে চিকিৎসাশাস্ত্রে নারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করেন জোহরা বেগম কাজী।

আজ ডাঃ কাজী প্রদর্শিত আদর্শের পথে অগ্রসর হয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অসংখ্য নারী তাঁদের অসাধারণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। জীবনের প্রাথমিক কালপর্ব থেকে শুরু করে সময়ের ধারাপাতে কর্মমুখর জীবনে মহাত্মা গান্ধী ও তাঁর পত্নী কন্তুরাবার অশেষ স্নেহধন্য জোহরা কাজী পরবর্তীকালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ, ডা. কাজীর অগ্রজ অধ্যাপক কাজী আশরাফ মাহমুদ, অনুজা ডা. শিরিন কাজী, অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন, মহাত্মা গান্ধীর অনুসারী কংগ্রেসের অন্যতম কর্মী ডা. সুশীলা নায়ার প্রমুখ মানবতাবাদী সংগ্রামী মানুষের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।

ভাষা আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা প্রমাণ করে যে তিনি শুধু একজন চিকিৎসকই ছিলেন না; মাতৃভূমি, মাতৃভাষার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ সেই আগুনঝরা দিনগুলোর সক্রিয় আন্দোলনকারীদের একজন হিসেবেই নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। একজন ইতিহাস-সচেতন মানুষ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন। তাঁর কাছে মহাত্মা গান্ধীর লেখা ব্যক্তিগত পত্র সুদীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত সযতনে স্মৃতি-স্মারক হিসেবে রক্ষা করেছিলেন। বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাস বিনির্মাণে এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান দলিল। ২০০১ সালের ১১ জুলাই অধ্যাপক কাজী তাঁর কাছে গচ্ছিত মহাত্মা গান্ধীর ব্যক্তিগত ঐতিহাসিক পত্র, ভাইসরয় পদক, সনদসমূহ এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি-স্মারক জাতীয় জাদুঘরকে সংরক্ষণের জন্য উপহার হিসেবে দান করেন।

বিভিন্ন সংগঠন তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অসংখ্য পদকে ভূষিত করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রোকেয়া পদক, বিএমএ স্বর্ণপদক। ২০০৮ সালে সরকার জোহরা কাজীর আজীবন সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক একুশে পদক (মরণোত্তর, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৮) প্রদানে সম্মানিত করে।

২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর ৯৫ বছর বয়সে এই মহাপ্রাণ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Continue Reading
Dental Times
আন্তর্জাতিক1 min ago

উহানবাসীর রক্তের নমুনা পরীক্ষা করবে চীন

Dental Times
আন্তর্জাতিক12 mins ago

করোনার উৎস সন্ধানে ‘শেষ সুযোগ’ ডব্লিউএইচওর

Dental Times
জীবন ও কর্ম20 hours ago

সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেলেন বাঁধন

Dental Times
পড়ালেখা24 hours ago

২৯ অক্টোবরেই ৪৩তম বিসিএস প্রিলি

Dental Times
শিক্ষাঙ্গন4 days ago

ডেন্টিস্ট সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বনাম বাস্তবতা

BDF বিডিএফ
সংগঠন6 days ago

বিডিএফ এর ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

আত্মসমর্পণের পর জামিন : স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর1 week ago

আত্মসমর্পণের পর জামিন : স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদ

Dental Times
Campus News1 week ago

৫টি ডেন্টাল চেয়ার ক্রয়ে লুট পৌনে ২ কোটি টাকা

UDC 25th years Celebration
ঢাকা2 weeks ago

ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের ২৫ বছর পূর্তি

Dental Times
বিএমডিসি2 weeks ago

ছয় ভুয়া চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করলো বিএমডিসি

Dental Times
সংগঠন3 weeks ago

আইএপিডির সদস্য পদ পেলো বিএসপিডি

Dental Times
বিশেষ প্রতিবেদন3 weeks ago

ডোপ টেস্টের কোনো নীতিমালা নেই : টেস্টে পজিটিভ মানে তাকে মাদকাসক্ত বলা যাবেনা’

ঘাতক ড্রাইভারের শাস্তি চেয়ে পথে সরব ইউডিসি শিক্ষার্থীরা
ঢাকা4 weeks ago

ঘাতক ড্রাইভারের শাস্তি চেয়ে পথে সরব ইউডিসি শিক্ষার্থীরা

Dental Times
Dental Admission2 months ago

সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা ১০ সেপ্টেম্বর

Dental Times
আন্তর্জাতিক2 months ago

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পর এবার নতুন আতঙ্ক কলম্বিয়ান ভ্যারিয়েন্ট

Dental Times
করোনা পরিস্থিতি3 months ago

সিনোফার্মের ৩০ লাখ টিকা ঢাকায়

Dental Times
জাতীয়3 months ago

‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভাইভা ছাড়া ডাক্তার নার্স নিয়োগ হবে’

Dental Times
জাতীয়3 months ago

দেশে ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি – অধ্যাপক ডা. বুলবুল

Dental Times
জাতীয়3 months ago

একদিনে ঢাকায় আরও ৭৯ ডেঙ্গু রোগী

Dental Times
জাতীয়3 months ago

করোনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন শতাধিক

Advertisement

সম-সাময়িক

Subscribe for notification