Connect with us

Uncategorized

স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়ন ও এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

Published

on

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে রোগীর নিজস্ব অর্থ ব্যয় সবচেয়ে বেশি এবং এ ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের মাত্র ২৩ শতাংশ বহন করে সরকার; ১৯৯৭ সালে সরকারের অংশ ছিল ৩৭ শতাংশ। বেসরকারি এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ শতাংশ এবং দাতা সংস্থাগুলো অবস্থাভেদে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বহন করে থাকে। ফলে প্রতিদিন সাধারণ জনগণ আরো বেশি করে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়লেও তাতে সরকারের অংশ কমছে আর রোগীর খরচ বাড়ছে। নিজের পকেট থেকে খরচ করা টাকার ৭০ শতাংশ ব্যয় হয় ওষুধ কেনায়। হাসপাতালে নিরাময়মূলক চিকিত্সা পেতে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ খরচ হয়, বহির্বিভাগে ১০ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ ব্যয় হয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ। গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইকোনমিকস ইউনিট প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টস ১৯৯৭-২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ব্যয়ের এমন তথ্যই দেয়া হয়েছে।

গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্য-বিষয়ক বেশকিছু সূচকে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৪ ও ৫ অর্জনে বাংলাদেশ অনেকের কাছেই অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশু মৃত্যুহার রোধে বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে গড় প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৬৫ থেকে বেড়ে ৭২ বছর হয়েছে। কিন্তু ঠিক একই সময়ে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জনগণ ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে দূরত্ব ও মনোমালিন্য বেড়েছে। এখনো দেশের অধিকাংশ জনগণ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা অর্জন থেকে বঞ্চিত। দিন দিন বাড়ছে চিকিত্সা ব্যয়। এ ব্যয়ের প্রায় ৭৭ শতাংশ খরচ জনগণের পকেট থেকেই বহন করতে হয়। এ খরচের ৫ ভাগের ৩ ভাগ ব্যয় হয় ওষুধ কিনতে। এই ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর দারিদ্র্যের সম্মুখীন হচ্ছে অনেক মানুষ। অনেকেই সঠিক সময়ে চিকিত্সা করাতে না পেরে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। অথচ এই পরিস্থিতির বিপরীতে, সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে নাগরিকদের চিকিত্সা ব্যয় কমানোর তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। প্রতি বছর বাজেটে গুরুত্বহীন খাতের মতো অবহেলিতই থেকে যায় স্বাস্থ্য খাত। এ খাতে অর্থায়নের পরিমাণ বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় শোচনীয়।

কয়েক বছর ধরেই স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যাপারে বেশ কয়েক বছর ধরে জোর দাবি জানালেও বাজেটে সেই দাবির প্রতিফলন দেখা যায় না। বরং রেকর্ড আয়তনের বাজেটের অনুপাতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দও রেকর্ড পরিমাণ কমছে প্রতি বছর! ১৯৯০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে গড় বরাদ্দ হচ্ছে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। বর্তমান অর্থবছরে (২০১৭-২০১৮) স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ২ শতাংশ, গত অর্থবছরে যা ছিল মোট বাজেটের ৫ দশমিক ১ শতাংশ। শতকরা হিসাবে অনুপাত সামান্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় বরাদ্দ তেমন বাড়েনি। ফলে বলা যায়, বর্তমান বরাদ্দ আগের গড় বরাদ্দের চেয়েও কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি দেশের মোট বাজেটের অন্তত ১৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ থাকা উচিত। বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার প্রকল্প নিয়েছে। সে মানে পৌঁছতে স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের ১৫ শতাংশ না হলেও অন্তত ১০ শতাংশের বেশি বরাদ্দ দেয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জনপ্রতি বার্ষিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের স্বীকৃত পরিমাণ ৫৪ ডলারের সমান হলেও বাংলাদেশে তা ২৭ ডলার (২ হাজার ১৬৭ টাকা মাত্র)। এর মধ্যে সরকারের অবদান মাত্র ৬ ডলার। অর্থাত্ কমবেশি ৫০০ টাকা। হিসাব করলে দেখা যায়, মাথাপিছু দৈনিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় মাত্র ১ টাকা ৩৭ পয়সা।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তি পর্যায়ের ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে সরকারি বরাদ্দ দিন দিন কমছে। একটু পেছন ফিরে চলতি বছরের বাজেটের দিকে নজর দেয়া যাক। এ বছরের বাজেট বক্তব্যে আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে দুটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী। এই দুই অনুচ্ছেদের কোনোটিতেই স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে নতুন কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়নি। কমিউনিটি ক্লিনিক ও টেলিমেডিসিন সেবার সম্প্রসারণ এবং গরিব, দুস্থ ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ‘মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম’ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। অথচ এগুলোর সীমাবদ্ধতা ও যথার্থ প্রয়োগের ত্রুটি নিয়ে কোনো ধরনের আলোকপাত করা হয়নি।

মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটা কার্যকর করা গেলে তা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর, বিশেষত সুবিধাবঞ্চিত মায়েদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে। এ স্কিমের অধীনে মাতৃত্বকালীন ছুটির সময়ে কর্মজীবী মায়েদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিশেষ করে নারী পোশাক শ্রমিকদের এর আওতায় আনা গেলে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ১৩ হাজার ৩৩৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে আরো ৩৯২টি যোগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যদিও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে কার্যকর করার মতো পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবলের তীব্র অভাব রয়েছে। প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমাদের তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। অথচ জনগণকে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে হলে এ খাতে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি তথ্যমতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে মোট পদের শতকরা ৩৪ ভাগই শূন্য। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী জনবল বিবেচনায় সংকটাপন্ন ৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ দেশে এখনো রোগীর অনুপাতে চিকিত্সক ও নার্সের সংখ্যা অনেক কম। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মান হচ্ছে ১ অনুপাত ৩। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে ১ অনুপাত শূন্য দশমিক ৪৮, যা সত্যিই আশঙ্কাজনক। ১০ হাজার রোগীর জন্য এখানে চিকিত্সক আছেন মাত্র তিনজন। তাই পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল তৈরি ও তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গ্রাম ও শহরের মধ্যে জনবলের তীব্র বৈষম্য বিদ্যমান। শহরে চিকিত্সা পেশাজীবীদের আধিক্য থাকলেও গ্রামে তাদের সংখ্যা অনেক কম। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিরাপত্তার অভাব, যাতায়াতের অসুবিধা, বিদ্যুত্ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রকট সংকটই উপজেলা পর্যায়ে চাকরির ব্যাপারে চিকিত্সকদের অনীহার প্রধান কারণ।

২০১৫ সালে সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫৮ জন এবং জরুরি বিভাগে ৭৪ লাখ ২৫ হাজার ৫৪১ জন চিকিত্সাসেবা গ্রহণ করে। অপ্রতুল জনশক্তি ও স্বল্প বরাদ্দের কারণে এই বিশাল সংখ্যক রোগীকে মানসম্পন্ন ও পর্যাপ্ত চিকিত্সাসেবা দেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জনগণের অভিযোগ থেকেই যায়। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার এ ধরনের দুর্বলতায় জনগণকে বাধ্য হয়েই বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। এরই মধ্যে আমাদের চিকিত্সা ব্যবস্থা বেসরকারি হাসপাতালনির্ভর হয়ে উঠেছে। এটা স্বাস্থ্য খাতের গুরুতর অবনতি বোঝা যায়। সরকারি বাজেট যদি না থাকে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন সেবা ও ওষুধ সরবরাহ ঠিকমতো না থাকে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকে, তবে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মান গুরুতর হুমকির মুখে পড়ে যাবে। এসব কিছুর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আমাদের দেশে প্রতি বছর ৬৪ লাখ লোক চিকিত্সা ব্যয় বহন করতে গিয়ে গরিব হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ বাংলাদেশে মোট চিকিত্সা ব্যয়ের ৭৭ শতাংশই জনগণ নিজের পকেট থেকে বহন করে আর সরকার খরচ করে মাত্র ২৩ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জনগণের নিজস্ব খরচ কোনোভাবেই ৩২ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত অন্যতম একটা পরিকল্পনা ছিল জনগণের চিকিত্সা ব্যয় কমিয়ে ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। সেক্ষেত্রে চিকিত্সা খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো হবে। কিন্তু পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়ন কখনই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ২০১১ সালে গৃহীত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগত চিকিত্সা ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিত্সাবীমা এবং গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ প্রচলন করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে এই ইস্যুগুলো পুরোপুরি উপেক্ষিতই থেকে যায়। দেশের জনসাধারণের সুস্থতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই বিষয়গুলোয় বিশেষ নজর দিতে হবে। বিশেষ করে, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পুষ্টির ঘাটতিজনিত স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। 

স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে ওষুধনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৮২ সালের পর এ দেশে ওষুধনীতির কোনো পরিবর্তন বা আধুনিকায়ন হয়নি। ২০০৫ সালে সরকার একটি খসড়া ওষুধনীতি তৈরি করে। কিন্তু গত ১০ বছরেও তা গৃহীত হয়নি। গত কয়েক বাজেটে অর্থমন্ত্রী নতুন ওষুধনীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কাঙ্ক্ষিত কোনো ফলাফল চোখে পড়েনি। গত বছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থবছরের শেষ দিকে এসে তড়িঘড়ি করে কয়েকটি মডেল ফার্মেসি স্থাপন ছাড়া এ বিষয়ে তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। কার্যকর ওষুধনীতি প্রণয়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আমাদের সচেতন হতে হবে। কারণ স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে এ বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার মোকাবেলা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে। কেননা জলবায়ুর পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগবালাই বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য উদ্বেগজনক বিষয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশেও যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। ২০১১ সালে গৃহীত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য বিপর্যয় ও রোগব্যাধির গতি-প্রকৃতি লক্ষ রাখা ও তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় উদ্ভাবন’ করার কথা বলা আছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে এগুলো নিয়ে বেশি দূর এগোনো যায়নি।

মনে রাখতে হবে, ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ অর্জনে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিশ্ব একসঙ্গে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ নিয়ে কাজ করবে। এ সময়সীমার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে গেলে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে চিকিত্সা ব্যয় কমাতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহারের দিকেও নজর দিতে হবে। তা না হলে অবহেলিত স্বাস্থ্য খাত একটি বিকলাঙ্গ জাতির পরিণতির দিকেই এগিয়ে নিবে আমাদের।

লেখক পরিচিতি

ডা: মো. শাহিনুল আলম,
সহযোগী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়;

ডা: আবু হেনা আবিদ জাফর,
মেডিকেল ডিরেক্টর, ক্রিসেন্ট গ্যাস্ট্রোলিভার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল;

ডা: তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া  
ইন্টার্ন চিকিৎসক, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।

Advertisement

Uncategorized

দেশে করোনায় আক্রান্ত ৩৭১ চিকিৎসক, শীর্ষে ঢাকা

Published

on

চিকিৎসক

রাজধানীসহ সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরাই আক্রান্ত হচ্ছেন প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে। শীর্ষে ঢাকা ।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজের (এফডিএসআর) তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৬ এপ্রিল) পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগে মোট ৩৭১ জন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৩০৫ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে- বরিশালে ৯ জন, চট্টগ্রামে ১৫, সিলেটে ৫, খুলনায় ১০, রংপুরে তিন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২৪ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হন।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ নামক একটি সংগঠনটি সারাদেশের চিকিৎসকদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরছে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪৫ জনে। আক্রান্ত হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪১৮ জন। এতে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪১৬। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও নয়জন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১২২ জনে।

অন্যান্য

Continue Reading

Uncategorized

উত্তপ্ত ইউএসটিসি , ৩৪ স্বাস্থ্যকর্মীকে চাকুরিচ্যুতের প্রতিবাদে ধর্মঘট

Published

on

করোনাভাইরাসের থাবায় যখন সবাই দিশেহারা হয়ে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতদের দিকে চেয়ে আছে, ঠিক সেই সময়ে চট্টগ্রামের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসির অধীন বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে ১৯ জন নার্স এবং ১১ জন ক্লিনার ও ৪ জন আয়াকে আকস্মিক চাকরিচ্যূত করেছে কর্তৃপক্ষ। চাকরিচ্যূতির কোন ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে ‘কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে’।

চাকুরিচ্যুত করার প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি)’ প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল ১৯ জন নার্স এবং ১৫ জন আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রতিষ্ঠানটি। নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে প্রথমে বেতন ভাতাও আটকে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে অবশ্য বেতন পরিশোধ করা হলেও চাকুরিচ্যুত করার নির্দেশনা জারি রাখা হয়।

ইউএসটিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সোলায়মান চট্টগ্রামের একটি গণমাধ্যমে বলেন, ইউএসটিসিতে কোন শৃঙ্খলা নেই। এখানে দুই বার দুইজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডিরেক্টর হিসেবে এসেছিলেন। মালিকপক্ষের এসব অনিয়মের কারণে উনারা চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর থেকে মালিকপক্ষ তাদের পোষা লোকজনকে চেয়ারে বসায়, যাদের কোন ব্যক্তিত্ব নেই। মালিকের কথায় উঠবে, বসবে। এখন তারা অভিজ্ঞ নার্স, আয়া, স্টাফদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিদায় করার নোটিশ দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে অনেককে চাকরিচ্যূত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ৮ এপ্রিল চাকরিচ্যূতির নোটিশে আমরা অবাক হয়েছি। নোটিশে কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এভাবে কাউকে চাকরিচ্যূত করা যায় না। চাকরিচ্যূতদের অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমরা এর প্রতিবাদে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর পুলিশের কমিশনার, জেলা প্রশাসক, খুলশী থানাসহ, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছি। করোনা পস্থিতিতে আমরা এই মুহুর্তে আন্দোলনে যেতে না পারলেও আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অগ্রসর হবো।

চাকরিচ্যূত নার্স হামিদা আক্তার বলেন, ‘আমরা ডিপ্লোমাধারী না হলেও আমাদের দিয়েই ইউএসটিসি সৃষ্টি। সরকারতো ডিপ্লোমা ছাড়া নার্স নিয়োগ দিতে নিষেধ করেছে। আমাদেরকে তো চাকরি থেকে বাদ দিতে বলেনি।’

চাকরিচ্যূতির শিকার আরেক নার্স রেহানা আক্তার বলেন, ‘আমার চাকরির বয়স ১৯ বছর। আমি বাইরে ডিপ্লোমা করেছি। নার্সিং কাউন্সিলের নাম্বার ছিল না। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা করেছি তাদের নাম্বার ছিল। সেটা ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি।’

এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কামরুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, আমাদের মোট ৭৮ জন নার্স কর্মরত আছেন। যাদের বিদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী তাদের যোগ্যতায় ঘাটতি আছে। আগ থেকেই এদের নিয়োগ নিয়ে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আপত্তি ছিল। গত ডিসেম্বর থেকে তাদের বিদায় দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিপরীতে ডিপ্লোমাধারী ২২ জন নার্স আমরা নিয়োগও দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, নার্স-আয়া-স্টাফ মিলে যে ৩৪ জনকে বিদায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের যাবতীয় পাওনা দিয়ে আমরা বিদায় দিচ্ছি। তাদের যে এসোসিয়েশনগুলো আছে ওগুলোর সাথে আমরা আগে বসেছি, তাদের সাথে বসেছি যে তারা কোন শর্তে যে চায়। সে সব শর্ত মেনেই তাদের আমরা বিদায় দিচ্ছি। তারা যাবতীয় পাওনা নিয়েই যাবেন। আর একমাস সময় আমরা হাতে রেখেছি। এই এক মাসের বেতনও তারা পাচ্ছেন।

জানা গেছে, ইউএসটিসির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ইফতেখার ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলামের ছেলে। তার স্ত্রী ডা. সাবা কাশ্মীরের নাগরিক। ৬ মাস আগে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এমবিবিএস পাস করে তিনিও ডিরেক্টর হিসেবে হাসপাতালে জয়েন করেছেন। এই আদেশের বিষয়ে অনেকে আঙ্গুল তুলছেন ডাঃ সাবা’uর দিকে। কিন্তু আরেক চিকিৎসক ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এসব সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যান, নার্সিং ইন্সটিটিউটসহ অন্য অথরিটির সম্মতিতে গ্রহণ করা হয়। একজনের ওপর চাপানোর কোন সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মিনহাজুর রহমান বলেন, কোন কারণ দর্শানো নোটিশ এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া কথায় কথায় চিকিৎসক, নার্স স্টাফ চাকরিচ্যূত করা ইউএসটিসির জন্মগত স্বভাব। করোনা সংকটে তারা অসচ্ছল স্টাফদের চাকরিচ্যূত করাটা অন্যায়। আমরা এই আদেশ প্রত্যাহার চাই।

বিষয়টিকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন দাবি করে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি গভর্নর আমিনুল হক বাবু বলেন, করোনা সংকটে পুরো জাতি যখন একে অপরের পাশে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে ইউএসটিসি তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নার্স, স্টাফ ছাঁটাই করছে— এটা অমানবিক, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধও। কর্তৃপক্ষ চাকরিচ্যূতির এই আদেশ প্রত্যাহার না করলে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়াবে।

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

Continue Reading

Uncategorized

তিন শর্তে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার নির্দেশ

Published

on

রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে শর্তসাপেক্ষে করোনা হাসপাতাল হিসেবে চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

২৫ এপ্রিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সহকারী স্বাস্থ্য-১ শাখার উপসচিব মো. আবু রায়হান মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তিনটি শর্তসাপেক্ষে হাসপাতালটিতে করোনাভাইরাসের চিকিৎসাসেবা চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করা হয়।

শর্ত তিনটি হলো-

১. হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সাথে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে হাসপাতালটি শুধু করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবার জন্য পরিচালিত হবে।

২. হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য পরিচালনা ব্যয় নির্ধারণ করা যাবে
৩. রোগীর চিকিৎসার ব্যয়বাবদ খরচ সরকার বহন করবে

Continue Reading

Uncategorized

কিট আসুক না আসুক, কাউকে ঘুষ দেবে না গণস্বাস্থ্য

Published

on

করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র যে কিট উদ্ভাবন করেছে, সেটা সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর নেয়নি উল্লেখ করে কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ব্যবসায়িক স্বার্থে জাতীয় স্বার্থের বিপক্ষে কাজ করছে। তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণ করেনি। আমরা জনগণের স্বার্থে শুধু সরকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কিটটি কার্যকর কি-না, তা দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারিভাবে প্রতি পদে পদে পায়ে শিকল দেয়ার চেষ্টা হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ কথা বলেন।

এর আগে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে একই জায়গায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ হস্তান্তর করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। আমন্ত্রণ জানানোর পরও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার্স ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত এ কিট গ্রহণের জন্য যায়নি সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান। পরদিনই এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানান, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কার্যালয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা কিটের উদ্ভাবক ড. বিজন কুমার শীলসহ তিনজন এটি জমা দিতে যান। তবে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর তা গ্রহণ করেনি। এমনকি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিনজনের একজনকে ওষুধ প্রশাসনের কার্যালয়ে প্রবেশও করতে দেয়া হয়নি।

‘কর্তৃপক্ষ জমা নেবেন না। আমরা গিয়েছিলাম, তারা জমা নেননি। বললেন যে সিআরও নিয়ে আসেন। তারপরে বললেন, এটা আপনারা ভেরিফিকেশন করে আনেন সিআরও থেকে। সিআরও হলো চুক্তিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ওখানে পয়সা দিতে হবে। কত খরচ লাগবে, তা উনারা (সিআরও) বাজেট দেবেন। পরে আইসিডিডিআর,বি থেকে ভেরিফিকেশন করিয়ে আনার কথা বলেন। আইসিডিডিআর,বি লকডাউন থাকায় তারা বিএসএমএমইউ, আইইডিসিআর কিংবা আর্মি প্যাথলজি ল্যাবরেটরি থেকে কার্যকারিতা আছে কি-না পরীক্ষা করে দেখার প্রস্তাব দিলেও তা মানা হয়নি।’

তিনি বলেন, জাতির এ দুর্যোগের সময় যুগান্তকারী আবিষ্কার এ কিট কাজে লাগানো যাচ্ছে না। যেখানে ইরানে এ ধরনের কিট প্রতিদিন ১০ লাখ তৈরি ও ব্যবহৃত হচ্ছে, সেখানে তারা কিট জমাই রাখেননি। যে কোনো ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষাতে আপত্তি নেই। কিন্তু জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে তারা এখন বাজেট ঠিক করবেন, তারপর সিআরও’র মাধ্যমে রিপোর্ট নেবেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে, কিভাবে তারা ব্যবসায়িক স্বার্থকে রক্ষা করছেন। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর অনৈতিক কাজ করছে, দেশের ক্ষতি করছে। তারা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে রেখে চলেন, তাতে তাদের লেনদেনে সুবিধা হয়।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এ প্রধান বলেন, প্রথমে আমাদের বললো, অনুমোদন নেই দেখে আমরা আসতে পারব না। আমরা তো আপনাদের হাতে দিতে চাই, যাতে আপনারা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। আমাদের গতকাল বলা হলো, তারা আসবেন না। ঠিক আছে, আজকে আমরা গেলাম। আজকে গণস্বাস্থ্যের ড. বিজন কুমার শীলসহ তিনজন গেলেন। তারপরও দেখেন, কেমন আমলাতান্ত্রিকতা। দুজনকে ঢুকতে দেবে, আরেকজনকে দেবে না। অথচ বাইরের তিনজন লোককে ভেতরে বসিয়ে রেখেছেন। তাদের ব্যবসা সংশ্লিষ্ট লোকদের ভেতরে বসিয়ে রেখেছেন। ফিরোজ, তিনি হেড অব এ ডিপার্টমেন্ট অব নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পদমর্যাদায় ওই ডিজি সাহেবের সমতুল্য তিনি। এ জাতীয় লোককে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি যুক্তিতর্কে হেরে যাওয়ার ভয়ে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গতকাল আমরা এখানে কিট হস্তান্তরের একটি উদ্যোগ নিয়েছিলাম, এটার অনুমোদনের জন্য। এটা অনুমোদন করার দায়িত্ব হলো ওষুধ প্রশাসনের। দুর্ভাগ্যবশত, ওষুধ প্র্রশাসন এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, তারা না ফার্মাসিস্ট, না ফার্মাকোলজিস্ট। তার ফলে এই জিনিসগুলির গুরুত্ব সেভাবে তারা উপলব্ধি করতেই সক্ষম হচ্ছেন না। তারা সম্পূর্ণ ব্যবসায়ী স্বার্থ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন।

‘বিজ্ঞানীরা জনস্বার্থে এটি আবিষ্কার করেছেন। এটি ব্যবহারে যত দেরি হবে তত জনগণের ক্ষতি বেশি হবে। এ গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের গুরুত্ব আমরা ওষুধ প্রশাসনকে বোঝাতে পারছি না। সিআরও নামের এজেন্টকে পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। আমরা চাই এটির মূল্য ২৫০ থেকে ২০০ টাকা নামাতে, আর তারা ব্যবসায়িক স্বার্থে নানা অজুহাতে ৫০০ টাকা দাম করতে চায়। ওষুধ প্রশাসন থেকে বলা হয়, দাম বাড়লে বাড়বে। এটা কি জনস্বার্থে কথা হলো? আমার ধারণা একটা শ্রেণী সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।’

আপনারা গতকাল কিট হস্তান্তর করা হবে বলেছিলেন কেন? এ প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কিটটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে চেয়েছি। এখন আমার কাছে কিট থাকলেও সরকারের অনুমোদন ছাড়া আমরা পরীক্ষা করতে পারবো না।

তিনি বলেন, গত ১২ এপ্রিল কিটের যথার্থতা প্রমাণের জন্য সরকারের কাছে রক্ত চেয়েছি। কিন্তু পেয়েছি ২২ এপ্রিল, তাও আবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপের পর। আমার মতো লোক ২৫ বার ফোন করেছি।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালকের উদ্দেশে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আপনাদের সকল ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করে দেবো, তবে ঘুষ দেবো না। গণস্বাস্থ্যের ৪৮ বছরে কাউকে ঘুষ দেইনি, এতে প্রোডাক্ট বাজারে আসুক না আসুক, আমরা ঘুষ দেইনি, দেবো না। এই দুর্নীতির অংশীদার হইনি, হবো না। আমরা আন্দোলন করে যাবো।

Continue Reading

Uncategorized

দেশে করোনায় নতুন শনাক্ত ৪১৮, মৃত ৫ জন

Published

on

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

মহামারি করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৪১৮ জন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ হাজার ৪১৬ জনে। সেইসঙ্গে করোনায় আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জনে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৬ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। ৪১৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ জন।  সুস্থ হয়েছে ৯ জন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হন ৮ মার্চ এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মত তিনজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য জানায় আইইডিসিআর। 

এরপর ২৫ মার্চ প্রথমবারের মতো রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানায়, বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে।

Continue Reading
সংগঠন2 weeks ago

জিডিএফ বর্ষপূর্তি ও সাইন্টিফিক সেমিনারের পোস্টার উন্মোচন

জাতীয়3 weeks ago

চিকিৎসক বুলবুল হত্যা: পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট

জাতীয়1 month ago

প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি করলে ফার্মেসির লাইসেন্স বাতিল

ক্যারিয়ার1 month ago

জনস্বাস্থ্য ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে পদসৃজন -(নিপসম)

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়1 month ago

অ্যান্টিবায়োটিকের মোড়ক হবে লাল, যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে হচ্ছে আইন

জাতীয়1 month ago

দাউদকান্দিতে অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকের রমরমা বাণিজ্য

জাতীয়2 months ago

৭ ছাত্র নিরুদ্দেশ: চিকিৎসক শাকিরের সহযোগী ভিলার স্বীকারোক্তি

সিলেট বিভাগ2 months ago

চিকিৎসককে ছুরিকাঘাতের হুমকি দিয়ে ডেন্টাল চেম্বারে ছাত্রলীগ নেতার চাঁদাবাজি!

সংগঠন2 months ago

ডা: মোত্তাকিন আহমেদ স্মরণে বিএসপিডি’র দোয়া মাহফিল

সংগঠন2 months ago

চিকিৎসকদের জন্য লিডারশীপ এক্সেলেন্সি শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কলাম2 months ago

স্বাস্থ্য খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব

জাতীয়2 months ago

সংস্থা বলছে জঙ্গি – পরিবারের দাবি ডাঃ শাকির নির্দোষ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর2 months ago

দেশে রেকর্ড সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

জাতীয়2 months ago

প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কার্যক্রম কেউ ঠেকাতে পারবে না – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয়2 months ago

বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়2 months ago

ডেন্টাল সার্জন অবসরে, কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে চিকিৎসা দিচ্ছে টেকনিশিয়ান

জাতীয়2 months ago

সিআইডি পরিচয়ে ‘চিকিৎসক’ তুলে নেওয়ার অভিযোগ

জাতীয়2 months ago

ওষুধের দাম বাড়ায় বিপাকে সাধারণ মানুষ

পরামর্শ2 months ago

দাঁতের চিকিৎসার সময় যে তথ্যগুলো গোপন করবেন না!

জাতীয়2 months ago

হাসপাতালের ল্যাবে ইলিশ মাছ, সিলগালা করে দিলেন ম্যাজিস্ট্রেট

Advertisement

সম-সাময়িক

Subscribe for notification