Connect with us

Uncategorized

স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়ন ও এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

DENTALTIMESBD.com

Published

on

DentalTimes

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে রোগীর নিজস্ব অর্থ ব্যয় সবচেয়ে বেশি এবং এ ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের মাত্র ২৩ শতাংশ বহন করে সরকার; ১৯৯৭ সালে সরকারের অংশ ছিল ৩৭ শতাংশ। বেসরকারি এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ শতাংশ এবং দাতা সংস্থাগুলো অবস্থাভেদে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বহন করে থাকে। ফলে প্রতিদিন সাধারণ জনগণ আরো বেশি করে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়লেও তাতে সরকারের অংশ কমছে আর রোগীর খরচ বাড়ছে। নিজের পকেট থেকে খরচ করা টাকার ৭০ শতাংশ ব্যয় হয় ওষুধ কেনায়। হাসপাতালে নিরাময়মূলক চিকিত্সা পেতে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ খরচ হয়, বহির্বিভাগে ১০ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ ব্যয় হয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ। গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইকোনমিকস ইউনিট প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টস ১৯৯৭-২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ব্যয়ের এমন তথ্যই দেয়া হয়েছে।

গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্য-বিষয়ক বেশকিছু সূচকে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৪ ও ৫ অর্জনে বাংলাদেশ অনেকের কাছেই অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশু মৃত্যুহার রোধে বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে গড় প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৬৫ থেকে বেড়ে ৭২ বছর হয়েছে। কিন্তু ঠিক একই সময়ে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জনগণ ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে দূরত্ব ও মনোমালিন্য বেড়েছে। এখনো দেশের অধিকাংশ জনগণ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা অর্জন থেকে বঞ্চিত। দিন দিন বাড়ছে চিকিত্সা ব্যয়। এ ব্যয়ের প্রায় ৭৭ শতাংশ খরচ জনগণের পকেট থেকেই বহন করতে হয়। এ খরচের ৫ ভাগের ৩ ভাগ ব্যয় হয় ওষুধ কিনতে। এই ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর দারিদ্র্যের সম্মুখীন হচ্ছে অনেক মানুষ। অনেকেই সঠিক সময়ে চিকিত্সা করাতে না পেরে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। অথচ এই পরিস্থিতির বিপরীতে, সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে নাগরিকদের চিকিত্সা ব্যয় কমানোর তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। প্রতি বছর বাজেটে গুরুত্বহীন খাতের মতো অবহেলিতই থেকে যায় স্বাস্থ্য খাত। এ খাতে অর্থায়নের পরিমাণ বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় শোচনীয়।

কয়েক বছর ধরেই স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যাপারে বেশ কয়েক বছর ধরে জোর দাবি জানালেও বাজেটে সেই দাবির প্রতিফলন দেখা যায় না। বরং রেকর্ড আয়তনের বাজেটের অনুপাতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দও রেকর্ড পরিমাণ কমছে প্রতি বছর! ১৯৯০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে গড় বরাদ্দ হচ্ছে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। বর্তমান অর্থবছরে (২০১৭-২০১৮) স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ২ শতাংশ, গত অর্থবছরে যা ছিল মোট বাজেটের ৫ দশমিক ১ শতাংশ। শতকরা হিসাবে অনুপাত সামান্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় বরাদ্দ তেমন বাড়েনি। ফলে বলা যায়, বর্তমান বরাদ্দ আগের গড় বরাদ্দের চেয়েও কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি দেশের মোট বাজেটের অন্তত ১৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ থাকা উচিত। বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার প্রকল্প নিয়েছে। সে মানে পৌঁছতে স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের ১৫ শতাংশ না হলেও অন্তত ১০ শতাংশের বেশি বরাদ্দ দেয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জনপ্রতি বার্ষিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের স্বীকৃত পরিমাণ ৫৪ ডলারের সমান হলেও বাংলাদেশে তা ২৭ ডলার (২ হাজার ১৬৭ টাকা মাত্র)। এর মধ্যে সরকারের অবদান মাত্র ৬ ডলার। অর্থাত্ কমবেশি ৫০০ টাকা। হিসাব করলে দেখা যায়, মাথাপিছু দৈনিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় মাত্র ১ টাকা ৩৭ পয়সা।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তি পর্যায়ের ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে সরকারি বরাদ্দ দিন দিন কমছে। একটু পেছন ফিরে চলতি বছরের বাজেটের দিকে নজর দেয়া যাক। এ বছরের বাজেট বক্তব্যে আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে দুটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী। এই দুই অনুচ্ছেদের কোনোটিতেই স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে নতুন কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়নি। কমিউনিটি ক্লিনিক ও টেলিমেডিসিন সেবার সম্প্রসারণ এবং গরিব, দুস্থ ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ‘মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম’ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। অথচ এগুলোর সীমাবদ্ধতা ও যথার্থ প্রয়োগের ত্রুটি নিয়ে কোনো ধরনের আলোকপাত করা হয়নি।

মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটা কার্যকর করা গেলে তা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর, বিশেষত সুবিধাবঞ্চিত মায়েদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে। এ স্কিমের অধীনে মাতৃত্বকালীন ছুটির সময়ে কর্মজীবী মায়েদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিশেষ করে নারী পোশাক শ্রমিকদের এর আওতায় আনা গেলে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ১৩ হাজার ৩৩৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে আরো ৩৯২টি যোগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যদিও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে কার্যকর করার মতো পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবলের তীব্র অভাব রয়েছে। প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমাদের তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। অথচ জনগণকে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে হলে এ খাতে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি তথ্যমতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে মোট পদের শতকরা ৩৪ ভাগই শূন্য। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী জনবল বিবেচনায় সংকটাপন্ন ৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ দেশে এখনো রোগীর অনুপাতে চিকিত্সক ও নার্সের সংখ্যা অনেক কম। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মান হচ্ছে ১ অনুপাত ৩। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে ১ অনুপাত শূন্য দশমিক ৪৮, যা সত্যিই আশঙ্কাজনক। ১০ হাজার রোগীর জন্য এখানে চিকিত্সক আছেন মাত্র তিনজন। তাই পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল তৈরি ও তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গ্রাম ও শহরের মধ্যে জনবলের তীব্র বৈষম্য বিদ্যমান। শহরে চিকিত্সা পেশাজীবীদের আধিক্য থাকলেও গ্রামে তাদের সংখ্যা অনেক কম। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিরাপত্তার অভাব, যাতায়াতের অসুবিধা, বিদ্যুত্ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রকট সংকটই উপজেলা পর্যায়ে চাকরির ব্যাপারে চিকিত্সকদের অনীহার প্রধান কারণ।

২০১৫ সালে সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫৮ জন এবং জরুরি বিভাগে ৭৪ লাখ ২৫ হাজার ৫৪১ জন চিকিত্সাসেবা গ্রহণ করে। অপ্রতুল জনশক্তি ও স্বল্প বরাদ্দের কারণে এই বিশাল সংখ্যক রোগীকে মানসম্পন্ন ও পর্যাপ্ত চিকিত্সাসেবা দেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জনগণের অভিযোগ থেকেই যায়। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার এ ধরনের দুর্বলতায় জনগণকে বাধ্য হয়েই বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। এরই মধ্যে আমাদের চিকিত্সা ব্যবস্থা বেসরকারি হাসপাতালনির্ভর হয়ে উঠেছে। এটা স্বাস্থ্য খাতের গুরুতর অবনতি বোঝা যায়। সরকারি বাজেট যদি না থাকে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন সেবা ও ওষুধ সরবরাহ ঠিকমতো না থাকে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকে, তবে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মান গুরুতর হুমকির মুখে পড়ে যাবে। এসব কিছুর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আমাদের দেশে প্রতি বছর ৬৪ লাখ লোক চিকিত্সা ব্যয় বহন করতে গিয়ে গরিব হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ বাংলাদেশে মোট চিকিত্সা ব্যয়ের ৭৭ শতাংশই জনগণ নিজের পকেট থেকে বহন করে আর সরকার খরচ করে মাত্র ২৩ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জনগণের নিজস্ব খরচ কোনোভাবেই ৩২ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত অন্যতম একটা পরিকল্পনা ছিল জনগণের চিকিত্সা ব্যয় কমিয়ে ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। সেক্ষেত্রে চিকিত্সা খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো হবে। কিন্তু পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়ন কখনই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ২০১১ সালে গৃহীত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগত চিকিত্সা ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিত্সাবীমা এবং গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ প্রচলন করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে এই ইস্যুগুলো পুরোপুরি উপেক্ষিতই থেকে যায়। দেশের জনসাধারণের সুস্থতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই বিষয়গুলোয় বিশেষ নজর দিতে হবে। বিশেষ করে, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পুষ্টির ঘাটতিজনিত স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। 

স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে ওষুধনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৮২ সালের পর এ দেশে ওষুধনীতির কোনো পরিবর্তন বা আধুনিকায়ন হয়নি। ২০০৫ সালে সরকার একটি খসড়া ওষুধনীতি তৈরি করে। কিন্তু গত ১০ বছরেও তা গৃহীত হয়নি। গত কয়েক বাজেটে অর্থমন্ত্রী নতুন ওষুধনীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কাঙ্ক্ষিত কোনো ফলাফল চোখে পড়েনি। গত বছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থবছরের শেষ দিকে এসে তড়িঘড়ি করে কয়েকটি মডেল ফার্মেসি স্থাপন ছাড়া এ বিষয়ে তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। কার্যকর ওষুধনীতি প্রণয়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আমাদের সচেতন হতে হবে। কারণ স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে এ বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার মোকাবেলা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে। কেননা জলবায়ুর পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগবালাই বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য উদ্বেগজনক বিষয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশেও যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। ২০১১ সালে গৃহীত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য বিপর্যয় ও রোগব্যাধির গতি-প্রকৃতি লক্ষ রাখা ও তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় উদ্ভাবন’ করার কথা বলা আছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে এগুলো নিয়ে বেশি দূর এগোনো যায়নি।

মনে রাখতে হবে, ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ অর্জনে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিশ্ব একসঙ্গে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ নিয়ে কাজ করবে। এ সময়সীমার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে গেলে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে চিকিত্সা ব্যয় কমাতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহারের দিকেও নজর দিতে হবে। তা না হলে অবহেলিত স্বাস্থ্য খাত একটি বিকলাঙ্গ জাতির পরিণতির দিকেই এগিয়ে নিবে আমাদের।

লেখক পরিচিতি

ডা: মো. শাহিনুল আলম,
সহযোগী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়;

ডা: আবু হেনা আবিদ জাফর,
মেডিকেল ডিরেক্টর, ক্রিসেন্ট গ্যাস্ট্রোলিভার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল;

ডা: তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া  
ইন্টার্ন চিকিৎসক, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।

Continue Reading

Uncategorized

যশোর : ২২ চিকিৎসক-নার্সসহ ২৮ জন কোয়ারেন্টাইনে

DENTALTIMESBD.com

Published

on

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে আসায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের ১১ চিকিৎসক, ১১ নার্স মোট ২৮ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বুধবার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের জারি করা অফিস আদেশে এই কথা জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো এসব ডাক্তার ও নার্স করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীদের কনটাক্টে এসেছিলেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্যায়ক্রমে এই হাসপাতালের সবার নমুনা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, করোনা আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে যেসব ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী এসেছিলেন তাদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ১১ জন ডাক্তার ও ১১ জন নার্স ছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ড বয় ও আয়া মিলিয়ে মোট ২৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ হবে ১৪ দিন। এই সময়কালে তাদের সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে করোনারি কেয়ার ইউনিট ও মেডিসিন ওয়ার্ড লকডাউন করে দেন। গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট দুটি জীবাণুমুক্ত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়। ওই দুই স্থানে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্থানান্তর করা হয় অন্য ওয়ার্ডে।

গত কয়েকদিনে শনাক্ত হওয়া করোনা পজেটিভদের বেশ কয়েকজনকে যশোর টিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। যারা ওই হাসপাতালে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

যশোর টিবি হাসপাতালকে অস্থায়ী করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সেবার কাজে নিয়োজিতরা পাশেই নাজির শঙ্করপুরে অবস্থিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ডরমেটরিতে অবস্থান করছেন।

Continue Reading

Uncategorized

যে চারটি বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

DENTALTIMESBD.com

Published

on

বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

দেশে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ বাড়তে থাকায় পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর জন্য প্রথমবারের মত চারটি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা এবং চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল (সাবেক অ্যাপোলা), স্কয়ার হাসপাতাল ও ইউনাইটেড হাসপাতাল শুধু তাদের ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করবে।

আর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল বাইরের রোগীদের নমুনাও পরীক্ষা করতে পারবে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, “তারা যে নমুনা পরীক্ষা করবেন আমরা তা আগামীকাল থেকে অথবা যখন তারা কাজ শুরু করবেন তখন থেকে হিসাবে যুক্ত করব।”

তিনটি হাসপাতালকে বাইরের রোগীর নমুনা পরীক্ষার অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাসিমা সুলতানা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে ফলোআপে সমস্যা হতে পারে, সে কারণে তাদের এখনও তাদের আউটডোর পেশেন্টের নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

এই চারটি বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে দেশে সব মিলিয়ে এখন ২৯টি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হল।

বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড ৬৪১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ৭১০৩ জন হয়েছে। এই সময়ে আরও আটজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৩ জন হয়েছে।

Continue Reading

Uncategorized

২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৬৪১

DENTALTIMESBD.com

Published

on

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ১৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৪১ জন। ফলে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ১০৩ জন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার হাজার ৯৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭০১টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৬৪১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ১০৩ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও আটজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১১ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫০ জন।

যারা নতুন করে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং দুজন নারী। ছয়জন ঢাকার বাসিন্দা এবং দুজন ঢাকার বাইরের। বয়সের দিক থেকে চারজন ষাটোর্ধ্ব, দুজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং দুজন ত্রিশোর্ধ্ব।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

প্রায় চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার। তবে নয় লাখ ৬১ হাজারের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যান্য

Continue Reading

জনপ্রিয়