Connect with us

Uncategorized

হ্যালো লিসনার্স আমি আরজে সাব্বির বলছি (ডিডিসি ডি-৪৬)

DENTALTIMESBD.com

Published

on

DentalTimes

মনে আছে ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ মুভির অয়নকে? যে ভুল করে নিজের মোবাইল হারিয়ে ফেলে বলে নিজের প্রেমিকার ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হয়ে যায়? কিংবা ‘মনসুবা জংশন’ এর ঐ কথাবন্ধুকে মনে পড়ে? যার “লাইটহাউজ অফ লাভ” শো এর মাধ্যমেই নায়ক ডেকেছিল নায়িকাকে প্রতীক্ষিত স্থানে? চোখের চশমা আর মুখের মিষ্টি হাসি- একঝাঁক মানুষের মাঝেও যেন আলাদা করে চেনা যায় তাকে!

আরজে সাব্বির। পুরো নাম সাব্বির হাসান লিখন। ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ডি-৪৬ ব্যাচের ছাত্র। হঠাৎ রাস্তায় দেখা হলে যাকে কোন গ্রিক উপকথার চরিত্র ভেবে ভ্রম হয়। যার কণ্ঠের মাদকতা শ্রোতাদের রাতজাগা পাখি করে। বাস্তব জীবনে দাঁত আর মাড়ি নিয়ে কাজ করা লোকটা কি করে যে এত চমৎকার কথা বলতে পারে সেটা রহস্যই থেকে গেল! 

আমাদের পক্ষ থেকে ইন্টারভিউ নেবার শুরুতেই জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি কি জানতে চাই!’

বললাম “খুঁটিনাটি সব কিছু জানতে চাই”।

“আমার আবার খুঁটিনাটি কি?” বলে হেসে উড়িয়ে দিলেন কথা।

কিন্তু পাক্কা ১ ঘণ্টা ২৬ মিনিটের ইন্টারভিউতে সত্যিই উঠে আসল অনেক খুঁটিনাটি গল্প।

অন্তর্মুখী সেই ছেলেটা

ছেলেবেলা কেটেছে রংপুরে। বাবা ছিলেন হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়ার। ইঞ্জিনিয়ার বাবার ছেলে দাঁতের ডাক্তার হবে! পরিবারের এরকম স্বপ্নের পেছনের গল্পটা কিন্তু মজার। সাব্বিরদের বাসায় জোবেদা বলে এক আপু কাজ করতেন। একদিন তিনি কাপড় নাড়ছিলেন ছাদে।

সেসময় ছোট্ট সাব্বির সিরিঞ্জে পানি ভরে আপুকে পিছন থেকে পায়ে পুশ করে দিল। আপু তো ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল। আর সাব্বির খেলেন মায়ের হাতে প্রচুর মার। তবে তারপর থেকে পরিবারের সবাই ভাবতে লাগল “ছেলে সূচ, কাঁচি পছন্দ করছে খুব। ছেলেকে ডাক্তার বানাতেই হবে”। DentalTimes

এর পরের গল্প সংক্ষেপে- রংপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি আর রংপুর ক্যান্ট পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি। তারপর ঢাকায় এসে ভর্তি হলেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজে।

ছোটবেলায় প্রচণ্ড অন্তর্মুখী ছিল ছেলেটা। কলেজ লাইফে এসে তার মনে হল “নাউ ইটজ টাইম টু এক্সপ্লোর”। িটুকটাক গান গাওয়া, উপস্থাপনা আর বিতর্ক করা শুরু করলেন। ছোটবেলায় কালচারাল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে লজ্জা পেতেন, তাহলে হুট করে কলেজে এসে এই বদল ঘটল কেন? “সে অনেক বড় গল্প, পরে একদিন বলব”। কিছু কি এড়িয়ে গেলেন সাব্বির?  

বড় ভাই রংপুর রেডিওতে কাজ করতেন। বড় ভাইয়ের কথা বলাতে একটা স্টাইল ছিল যেটা তাকে খুব টানত।একবার একজন অচেনা লোক ফোন করেছিলেন বাসায়, ফোনটা ধরেছিলেন সাব্বির। ফোনটা আসলে ছিল বড় ভাইয়ের জন্য। কিন্তু গলার স্বর আর কথাবার্তার মিল থাকার কারণে ঐ প্রান্ত বুঝতে পারেন নি ফোনটা কে ধরেছে!

পরে বড় ভাইয়ের কাছে সাব্বির ফোনটা দেওয়ার পর ফোনের ঐ প্রান্তে থাকা আঙ্কেল বলেন, “তোমার ছোটভাইয়ের গলাটাও খুব ভাল। ওকে রেডিওতে পারফর্ম করাও”। এই ছোট্ট প্রশংসাটা সাব্বিরকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করল। সেও তখন বড় ভাইয়ের মত রেডিওতে উপস্থাপনা করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন।

আরজে হবার শুরুর দিনগুলি

ঢাকাতে ডেন্টাল কলেজে পড়তে এসে সাব্বিরের খুব বেশী এফএম রেডিওগুলো শোনা হত। সময়টা ২০১০ এর দিকে। তখন এফএমের যাত্রা মাত্র শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। এফএম শুনতে শুনতে একসময় সাব্বিরের মনে হতে লাগল, তিনিও এরকমভাবে কথা বলতে পারবেন। সেই অচেনা আঙ্কেলের প্রশংসা, নিজের আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্নের জোরে তিনি বিভিন্ন রেডিও ষ্টেশনগুলোতে গিয়ে গিয়ে সিভি (হার্ড কপি) ড্রপ করে আসেন।

সাব্বির বলেন, “প্রত্যেক রেডিওতে বছরে দুইবার তিনবারের মত আরজে হান্ট হয়। এইচআর ডিপার্টমেন্টের কাছে সিভিগুলো পৌঁছালে তারা তাদের প্রয়োজন মত অডিশন নেবার জন্য ফোন করেন। অডিশনে ডাকার ক্ষেত্রে রেডিও মূলত ফ্রেশারদেরকেই প্রাধান্য দেয়। স্যালারি কম থাকার জন্য ফ্রেশারকেই তারা বেশী উপযুক্ত মনে করে। তবে অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে স্কুল ও কলেজ লাইফে অনস্টেজ আবৃত্তি, বিতর্ক ও উপস্থাপনা থাকলে সেটা আলাদা সুবিধা দেয়”।

রেডিও টুডে’র সাব্বির     

সাব্বিরের এই কথাবন্ধু হবার পথে মজার কিছু গল্প আছে। একবার চীন-মৈত্রী সম্মেলনে অনলাইন এক রেডিওর জন্য আরজে হান্ট হচ্ছিল। সাব্বির সিভি জমা দেন। ডাকও পান। বলা হয় তাকে ঐ দিন রাতের শোতেই বসতে হবে। কিন্তু আরজে হিসেবে সফটওয়্যার পরিচালনা করার মত কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না তার।

তাই ঐ অনলাইন রেডিও থেকে তাকে নেওয়া হল না। এরপর সাব্বির সুযোগ পান রেডিও টুডেতে। একসময় নিয়মিত এবং তারকা কথাবন্ধু হয়ে উঠেন তিনি। ঠিক সেই সময়ের এক ঘটনা! যে ভাইয়া অনলাইন রেডিও তে তাকে চান্স দেননি তারই অডিশন নিতে হল সাব্বিরকে! এই ঘটনা মনে পড়ে এখনও হাসি পায় তার।

রেডিও টুডেতে একদিনে জনপ্রিয় হননি। তিন তিনটি মাস ট্রেনিং করতে হয়েছিল তাকে। এই তিনমাসে কোন খরচ তিনি পেতেন না। তারপরও স্থায়ী চাকরি পাবার সম্ভাবনা ছিল অনিশ্চিত। তিন মাস পরে রেডিও টুডেতে কথাবন্ধু হিসেবে স্থায়ীভাবে জয়েন করেন সাব্বির। কষ্টের বিষয় ছিল তখন তার প্রায় সব প্রোগ্রাম ছিল রাত ১টার পরে।

এমনও দিন গেছে রাত ৪টায় শো শেষ হলে ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত। পরবর্তী আরজের হাতে অনুষ্ঠান দিয়ে আসার জন্য। সাব্বিরের ভাষায় “যখন ৬ টার সময় শো হ্যান্ডওভার করে হলে ব্যাক করতাম। তখন দেখতাম সবাই ক্লাস করার জন্য বের হচ্ছে। আর আমি মাত্র হলে ঢুকেছি”। এরপরেও খুব নিষ্ঠার সঙ্গে ক্লাস, এক্সাম সব ঠিকঠাক ভাবে করে গেছেন।

কোর্স করে আরজে হওয়া যায় না!

সাড়ে তিনবছর আরজে ছিলেন রেডিও টুডেতে। কথাবন্ধু হিসেবে ক্যারিয়ার ৬ বছরের। এই দীর্ঘ ক্যারিয়ার থেকে তিনি বুঝেছেন যে “কোর্স করে কেউ আরজে হতে পারেনা”। সাব্বির জানান “কারও যদি ইনার কোয়ালিটি না থাকে কথা বলার, তাহলে কোর্স করে তাকে কথাবন্ধু বানানো যাবে না। হ্যাঁ, গ্রামার কিছু আছে। কিভাবে শুরু বা শেষ করতে হয় এসব কোর্সে শেখানো হয়। কিন্তু আমি কোর্স করে একটা মানুষকে কথা বলা শিখাতে পারব না”।

তিনি মনে করেন, এসব আরজে কোর্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে অনেকটা ব্যবসা করার তাগিদে। কথাবন্ধু হবার ক্রেজ আছে তরুণদের মধ্যে। ব্যবসায়ীরা এই ক্রেজটাকে কাজে লাগাচ্ছেন। তাছাড়া কথাবন্ধু হিসেবে নিয়োগ দেবার পরে বিভিন্ন রেডিও ষ্টেশন নিজেরাই কোর্স করান তাদের আরজেদেরকে। তাই এসব কোর্সের কোন দরকার নেই।

কথাবন্ধু যখন ক্যারিয়ার

ক্যারিয়ার হিসেবে কথাবন্ধু কতটা নির্ভরযোগ্য? এই প্রসঙ্গে সাব্বির বলেছেন, “পার্ট টাইম হিসেবে কথাবন্ধু বেস্ট। একজন স্টুডেন্ট কথাবন্ধু হিসেবে যা আয় করেন তা তার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু ফুলটাইম জব হিসেবে কথাবন্ধু হওয়াটা ঠিক সঠিক সিদ্ধান্ত না। কারণ এখন একজন কথাবন্ধুকে যা বেতন দেওয়া হচ্ছে সেটা বর্তমান প্রেক্ষাপটে জীবন অতিবাহনের জন্য যথেষ্ট না। যদি এখনকার স্যালারি ৩ গুণ করা হয় ভবিষ্যতে, তাহলে মানুষ ক্যারিয়ার হিসেবে প্রফেশনাল আরজে হওয়াকে চয়েজ করতে পারবে”।

 

বাংলিশ ভাষায় আরজেরা কেন?

খুব দ্বিধা নিয়েই জিজ্ঞেস করলাম “আরজে ভাষাতে প্রচুর ইংরেজি শব্দের ব্যবহার, বাংলাকে বিকৃতি করা, র কে ঢ় বলা, কিভাবে দেখেন বিষয়টাকে?” প্রশ্ন শুনে একটু সিরিয়াস হয়ে গেলেন সাব্বির। তারপর বললেন “আমাদের ভাষা নিয়ে যত সমস্যা, তা কেবল বছরে এক মাসে উঠে আসে।

ফেব্রুয়ারি মাস এলেই “আরজেদের ভাষা এই সেই” এইসব কথা উঠে আসে। সারা বছর কিচ্ছু বলা হয় না। আরজে ভাষা পপুলার হচ্ছে। এবং পপুলার কিন্তু করেছে শ্রোতারাই”। মানে দাঁড়াচ্ছে, আরজে ভাষা শুনছে শ্রোতারা। ব্যবহার করছে। জনপ্রিয় করছে আবার একই সাথে তীক্ষ্ণ সমালোচনাও করছে।

তবে ইংরেজি শব্দের আধিক্য কি বাংলা ভাষাকে শ্রুতিকটু করে না? “দেখুন, আমাদের স্টুডেন্টদের প্রায় সবার কারিকুলাম ইংলিশে। তাদের সারাদিন ইংলিশে পড়াশুনা করতে হয়। তাই বাংলা ভাষার ফাঁকফোকরে ইংরেজি শব্দ আসাটা অস্বাভাবিক না। তবে বাংলাকে বাংলার মত বললে, এবং ইংলিশকে ইংলিশের মত করে বললেই কোন সমস্যা থাকে না। বাংলা শব্দকে ইংরেজি শব্দের সঙ্গে মিশিয়ে বিকৃত উচ্চারণ আমি নিজেও সমর্থন করি না”।

মনসুবা জংশন: ক্যামেরার সামনে প্রথম

“অভিনয় আমি ঠিক পারি না! এলাকায় বন্ধুরা মিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যে নাটকগুলো করতো তাতে বরাবর কেবল পুলিশের রোল পেতাম” হাসতে হাসতে জানালেন সাব্বির।

শিহাব শাহীনের ‘ভালবাসি তাই ভালবেসে যাই’ দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে একটা মেসেজও পাঠিয়ে রেখেছিলেন ফেসবুকে। কিন্তু শিহাব শাহীন তা আর দেখেননি। পরে দেড় বছর পর এক কুরবানি ঈদে ‘মনসুবা জংশন’ নাটকের আরজে চরিত্রের জন্য অভিনেতা খুঁজছিলেন। সেইসময় শিহাব শাহীন খুঁজে পান সাব্বিরকে। তিনি নিজেই ফেসবুকে মেসেজে পাঠান চরিত্রটি করার জন্য।

ততদিনে কথাবন্ধু হিসেবে শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছেন। কিন্তু ক্যামেরার সামনে অভিনয়! সেটা বরাবরই নার্ভাসের বিষয় তার জন্য। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতন, প্রথম অভিনয় পড়ল অভিনেতা তাহসানের সঙ্গে। তাহসানের সঙ্গে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা নিয়ে সাব্বির বললেন, “তুই-তুকারি করে তাহসান ভাই-ই আমাকে সহজ করলেন। বনানী আর গুলশানে রিহার্সেল করলাম। খুব ইজিলি হয়ে গেল কাজটা”।

পিঁপড়াবিদ্যার অয়ন

মনসুবা জংশনে অভিনেত্রী তিশা অভিনয় করেছিলেন। সাব্বিরের অভিনয় দেখে তার ভালো লাগল। আবার ২০১৩’র ভ্যালেন্টাইন ডে’তে রেডিও টুডের সাব্বিরের শোতে তিশা-ফারুকী গেস্ট ছিলেন। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পিঁপড়াবিদ্যাতে অয়ন চরিত্রের জন্য অভিনেতা খুঁজছিলেন। তিশা সাব্বিরের কথা বললেন। এইভাবে প্রথম চলচ্চিত্রটাও করে ফেললেন তিনি।

‘ইয়া ঢিসুম ঢিসুম’ ফর্মুলা নির্ভর ছবি করতে একদম আগ্রহী না সাব্বির। অন্যরকম, ভাল গল্পের, ভাল চরিত্রের ছবিগুলোই তিনি কেবল করবেন। দেশের অভিনেতার মধ্যে চঞ্চল চৌধুরী এবং মোশাররফ করিমের ভীষণ ফ্যান তিনি। টাইটানিকে ক্যাপ্রিওর অভিনীত জ্যাক আর ‘কাল হো না হো’তে শাহরুখ খানের অভিনীত চরিত্রটি তার স্বপ্নের চরিত্র। সালমান শাহের ভীষণ ভক্ত সাব্বির কভার করেছেন “ও আমার বন্ধুগো প্রিয় সাথী পথ চলা” গানটি। কভার করা গানটি লুফে নিয়েছে শ্রোতারা।

এছাড়াও আরএফএল হোমমেকার অফ দি ইয়ার এবং আরএফএল ঈদ বাজারে উপস্থাপনা করে ভীষণ প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। সাব্বির রবি, জুঁই ব্র্যান্ডের টিভি বিজ্ঞাপনেরও মডেল হয়েছেন। 

স্বপ্নেরা উঁকি দেয় মনে

কথাবন্ধু, অভিনেতা এত এত পরিচয় থাকার পরেও  ডা: সাব্বির  পরিচয়ে পরিচিত হতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সফল চিকিৎসক হতে চাওয়া এই তরুণ উত্তরাতে দিয়েছেন নিজের চেম্বার। আর রেডিও শো তো আছেই। ‘চল যাই’ নামের একটি মুভিতে অন্যরকম এক চরিত্রে অভিনয় করছেন।

কথাবন্ধু সাব্বিরের স্বপ্ন বাংলাদেশের সেরা উপস্থাপক হওয়া। গানটাকেও টুকটাক চালিয়ে যেতে চান তিনি।

“শর্টকাট চিন্তা না, সুদূরপ্রসারী একটি লক্ষ্য থাকা চাই। কাজ করার আগেই সময়সীমা নির্ধারণ করে নিতে হবে।আর সেই কাজ সফল করার জন্য ভীষণ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে”। তরুণদের জন্য এটাই সাব্বিরের পরামর্শ।

মেহেদী মার্টে বসেছিল আড্ডাটা। আড্ডা যখন ভাঙ্গল তখন প্রায় সন্ধ্যা। আবছা আলোছায়ার সন্ধ্যায়  আত্মবিশ্বাসী যুবকটিকে বিদায় জানিয়ে ফেরার পথ ধরলাম। ৩০০ ফিটের রাস্তাটা কিন্তু একদম ক্লান্তিকর লাগছিল না তখন। টের পেলাম, সাব্বির আসলে শুধু কথাবন্ধু না! কথাশিল্পী! যার বকবক ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুনলেও কখনই ক্লান্তি আসবে না ‘

……………………………………………………………………..

ধন্যবাদ প্রাপ্য অনির্বাণ আবরারবিডি ইয়ুথ

Continue Reading
Advertisement

Uncategorized

যশোর : ২২ চিকিৎসক-নার্সসহ ২৮ জন কোয়ারেন্টাইনে

DENTALTIMESBD.com

Published

on

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে আসায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের ১১ চিকিৎসক, ১১ নার্স মোট ২৮ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বুধবার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের জারি করা অফিস আদেশে এই কথা জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো এসব ডাক্তার ও নার্স করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীদের কনটাক্টে এসেছিলেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্যায়ক্রমে এই হাসপাতালের সবার নমুনা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, করোনা আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে যেসব ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী এসেছিলেন তাদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ১১ জন ডাক্তার ও ১১ জন নার্স ছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ড বয় ও আয়া মিলিয়ে মোট ২৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ হবে ১৪ দিন। এই সময়কালে তাদের সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে করোনারি কেয়ার ইউনিট ও মেডিসিন ওয়ার্ড লকডাউন করে দেন। গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট দুটি জীবাণুমুক্ত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়। ওই দুই স্থানে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্থানান্তর করা হয় অন্য ওয়ার্ডে।

গত কয়েকদিনে শনাক্ত হওয়া করোনা পজেটিভদের বেশ কয়েকজনকে যশোর টিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। যারা ওই হাসপাতালে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

যশোর টিবি হাসপাতালকে অস্থায়ী করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সেবার কাজে নিয়োজিতরা পাশেই নাজির শঙ্করপুরে অবস্থিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ডরমেটরিতে অবস্থান করছেন।

Continue Reading

Uncategorized

যে চারটি বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

DENTALTIMESBD.com

Published

on

বেসরকারি হাসপাতালে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

দেশে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ বাড়তে থাকায় পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর জন্য প্রথমবারের মত চারটি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা এবং চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল (সাবেক অ্যাপোলা), স্কয়ার হাসপাতাল ও ইউনাইটেড হাসপাতাল শুধু তাদের ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করবে।

আর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল বাইরের রোগীদের নমুনাও পরীক্ষা করতে পারবে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, “তারা যে নমুনা পরীক্ষা করবেন আমরা তা আগামীকাল থেকে অথবা যখন তারা কাজ শুরু করবেন তখন থেকে হিসাবে যুক্ত করব।”

তিনটি হাসপাতালকে বাইরের রোগীর নমুনা পরীক্ষার অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাসিমা সুলতানা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে ফলোআপে সমস্যা হতে পারে, সে কারণে তাদের এখনও তাদের আউটডোর পেশেন্টের নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

এই চারটি বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে দেশে সব মিলিয়ে এখন ২৯টি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হল।

বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড ৬৪১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ৭১০৩ জন হয়েছে। এই সময়ে আরও আটজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৩ জন হয়েছে।

Continue Reading

Uncategorized

২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৬৪১

DENTALTIMESBD.com

Published

on

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ১৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৪১ জন। ফলে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ১০৩ জন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার হাজার ৯৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭০১টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৬৪১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ১০৩ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও আটজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১১ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫০ জন।

যারা নতুন করে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং দুজন নারী। ছয়জন ঢাকার বাসিন্দা এবং দুজন ঢাকার বাইরের। বয়সের দিক থেকে চারজন ষাটোর্ধ্ব, দুজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং দুজন ত্রিশোর্ধ্ব।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

প্রায় চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার। তবে নয় লাখ ৬১ হাজারের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যান্য

Continue Reading

জনপ্রিয়

Enable Notifications From DentalTimesBD    Ok No thanks