আক্কেল দাঁতে ব্যথা হওয়ার কারণ

ডেন্টাল টাইমস

মানুষের বেশির ভাগ স্থায়ী দাঁত কৈশোরের মধ্যেই উঠে যায়। তবে মুখের একেবারে পেছনের দাঁত, অর্থাৎ আক্কেল দাঁত, সাধারণত অনেক পরে ওঠে। বয়সের সঙ্গে মানুষের বুদ্ধি ও বিচারবোধ পরিণত হওয়ার ধারণা থেকেই বাংলায় এর এমন নাম হয়েছে।

সাধারণত ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে আক্কেল দাঁত ওঠে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই বয়সে এটি উঠবে এমন নয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সর্বোচ্চ চারটি আক্কেল দাঁত থাকতে পারে—উপরের ও নিচের চোয়ালের দুই পাশে একটি করে। আবার কারও একটি, দুটি বা তিনটি থাকতে পারে; কারও কোনো আক্কেল দাঁত নাও থাকতে পারে।

আক্কেল দাঁত উঠতে গিয়ে সমস্যার অন্যতম কারণ হলো মুখের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা। অন্য ২৮টি স্থায়ী দাঁত আগেই জায়গা করে নেওয়ায় নতুন দাঁতের জন্য জায়গা কম পড়ে যেতে পারে। তখন আক্কেল দাঁত কাত হয়ে উঠতে পারে, মাড়ির নিচে আটকে থাকতে পারে বা আংশিকভাবে বের হতে পারে। এ অবস্থাকে ইমপ্যাক্টেড উইজডম টুথ বলা হয়।

আংশিকভাবে বের হওয়া দাঁতের চারপাশে খাবারের কণা ও ব্যাকটেরিয়া জমে মাড়িতে সংক্রমণ হতে পারে। এ সমস্যাকে পেরিকোরোনাইটিস বলা হয়। এর ফলে মাড়ি ফুলে যাওয়া, ব্যথা, মুখ খুলতে অসুবিধা, দুর্গন্ধ বা কখনো জ্বরও হতে পারে। আক্কেল দাঁত ঠিকভাবে পরিষ্কার করা কঠিন হওয়ায় এতে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। পাশের দাঁতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তবে আক্কেল দাঁত উঠলেই তা তুলে ফেলতে হবে—এমন নয়। দাঁতটি যদি সোজাভাবে ওঠে, পরিষ্কার রাখা যায় এবং কোনো ব্যথা, ক্ষয় বা সংক্রমণ না থাকে, তাহলে সাধারণত সেটি রেখে নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যায়।

কিন্তু ব্যথা বারবার হলে, মাড়ি বা মুখ ফুলে গেলে, জ্বর হলে, মুখ খুলতে কষ্ট হলে কিংবা মুখে দুর্গন্ধ বা খারাপ স্বাদ অনুভূত হলে দ্রুত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে এক্স-রে করে দাঁতের অবস্থান পরীক্ষা করা হয়।

অর্থাৎ, আক্কেল দাঁত দেরিতে ওঠা স্বাভাবিক হলেও তীব্র বা বারবার হওয়া ব্যথাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। দাঁতের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ডেন্টিস্টই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন চিকিৎসা বা দাঁত তোলার প্রয়োজন আছে কি না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
এই সংবাদ নিয়ে আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version