নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রখ্যাত চিকিৎসক ও সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) ডা. গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদে মুখর বিভিন্ন পেশাজীবিরা। প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সাবেক মহসচিব অধ্যপক ডা. মোস্তাক সাত্তার, অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির বুলবুল, সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান ডা. অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম সাগর, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক্স ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. উম্মে সালমা আবদুল্লাহ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবি বৃন্দ।
অধ্যাপক ডা. মোস্তাক সাত্তার পিনু তার পোস্টে বলেন,
“ আমি ও মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন সহপাঠিও বন্ধু । ডেন্টাল কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমি হেরেছিলাম ও জিতেছিল। মেজর জেনারেল পদোন্নতির সময় সৌভাগ্য বসত সরকারী বিভিন্ন এজেন্সি আমার কাছে জানতে এসেছিল আমি বলেছিলাম সৎ ও দক্ষ ডাক্তার বিচক্ষণ পেশাজীবি চরিত্রবান। আজ এমুহূর্তেও সকল কথাই তাঁর সম্মন্ধ্যে সঠিক। এই সৎ মানুষটা ন্যায় বিচার পাক এই আমার প্রত্যাশা। আমরা সকলে তোমার সাথে আছি বন্ধু হতাশ হয়োনা ভয় পেয়োনা। শুভকামনা ”
ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও ডেন্টাল সোসাইটির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির বুলবুল বলেন,
মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডাঃ গোলাম মহিউদ্দীন চৌধুরী আমাদের ডেন্টিস্ট্রি পেশার একজন সম্মানিত, গুরুত্বপূর্ণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁকে চিনি। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় বা অবস্থান যা-ই হোক না কেন, দীর্ঘ পরিচয়ে তাঁকে একজন সৎ, জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান, সংস্কৃতিবান ও নীতিবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবেই জেনেছি।
তাঁর গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে আমি একজন সহ-পেশাজীবী হিসেবে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তবে আমার অবস্থান তাঁর বিরুদ্ধে আনা মামলার বিচারিক বিষয়ে নয়—একজন নাগরিকের ন্যায়সংগত আইনি অধিকারের পক্ষে।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের আগেই তাঁকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়। তিনি আইন অনুযায়ী জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন। আমি প্রত্যাশা করি, তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ পাবেন
সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান ডা. অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম সাগর,
“ ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতারকৃত ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সম্মানিত সভাপতি মেজর জেনারেল ( অব: ) অধ্যাপক ডা, গোলাম মহিউদ্দিন স্যারের অবিলম্বে মুক্তি দাবী করছি।
স্যারের সাথে সেদিনের ঘটনার কোন সম্পর্কই নেই। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা অবশ্যই পরাজিত হবে।
স্যার শারিরীকভাবে অসুস্থ একজন লোক। যারা তাঁকে চিনেন, তাঁরা একবাক্যে স্বীকার করবেন স্যারের এই ধরনের নিন্দাজনক কাজে জড়িত হবার কোন সম্ভাবনাই নেই। তাঁর পেশাগত ও সামাজিক অবস্থানের সাথে ও এ ব্যাপারটা মানানসই নয়।
আমরা দোষী ব্যক্তিদের ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাই। কিন্তু, নিরীহ লোকজনকে বলির পাঁঠা বানানোর তীব্র বিরোধিতা করছি। এ ব্যাপারে সমাজের সচেতন অংশকে সত্য উচ্চারণ করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”
অধ্যাপক ডা. উম্মে সালমা আবদুল্লাহ বলেন,
” আমি তখন সদ্য ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয়েছি। ছাত্রদলের ব্যানারে ছাত্র সংসদের নির্বাচনে দাড়িয়েছিলেন মোহন ভাই, জয়যুক্ত হয়েছিলেন। ভোট চাইতে এসেছিলেন, ভদ্র এবং কৌশলী ব্যাবহার,ওনাকে কখনও অসৎ মনে হয়নি। সিনিয়র হিসেবে, ডেন্ট্রিস্ট্রির অনুষ্ঠানগুলোতে প্রথম সারিতে একসাথে বসেছি,সবসময়ই ভদ্রমানুষ মোহন ভাই। হ্যাঁ আমি মেজর জেনারেল ডাঃ গোলাম মহিউদ্দিন মোহন ভাই-র কথা বলছি।
রাজনৈতিক মতভেদের বাইরে যেয়ে বলছি, ডেন্ট্রিস্ট্রির প্রথম মেজর জেনারেল উনি। এই পেশাগত অর্জন, আমি সমষ্টিগত ভাবে ধারণ করি। হ্যাঁ, আমরা সবাই বলবো উনি সৎ, দক্ষ ডাক্তার, বিচক্ষণ পেশাজীবি এবং চরিত্রবান। ডাঃ গোলাম মহিউদ্দিন ভাইয়ের প্রতি ন্যায় বিচার কামনা করছি। আসুন ডেন্ট্রস্ট্রির সকলে, নিজেদের অবস্থান থেকে তার প্রতি সমর্থন জানাই”
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের উপ-পরিচালক ডা. সারওয়ার কামাল প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন,
“ ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতারকৃত ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সম্মানিত সভাপতি মেজর জেনারেল ( অব: ) অধ্যাপক ডা, গোলাম মহিউদ্দিন স্যারের অবিলম্বে মুক্তি দাবী করছি। যতটুকু জেনেছি, স্যারের সাথে সেদিনের ঘটনার কোন সম্পর্কই নেই। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা অবশ্যই পরাজিত হবে।
স্যার শারিরীকভাবে অসুস্থ একজন লোক। যারা তাঁকে চিনেন, তাঁরা একবাক্যে স্বীকার করবেন স্যারের এই ধরনের নিন্দাজনক কাজে জড়িত হবার কোন সম্ভাবনাই নেই। তাঁর পেশাগত ও সামাজিক অবস্থানের সাথে ও এ ব্যাপারটা মানানসই নয়।
আমি দোষী ব্যক্তিদের ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাই। কিন্তু, নিরীহ লোকজনকে বলির পাঁঠা বানানোর তীব্র বিরোধিতা করছি। এ ব্যাপারে সমাজের সচেতন অংশকে সত্য উচ্চারণ করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। ”
আখতারা ডলি নামে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী পোস্ট করেন,
“ উনি একজন ডাক্তার।
উনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল।
উনি একজন ধর্মপরায়ন।
উনি মানুষের সেবার জন্যে সদা প্রস্তুত।
উনি খুবি নরম মনের আর শান্ত প্রকৃতির মানুষ।
উনি কর্মঠ এবং সব সময় দেশের মানুষের ভালোর জন্যে কাজ করা একজন মানুষ।
উনি অসামান্য সেবা পদকের অধিকারী।
উনি ডেন্টাল দুনিয়ার একজন ইতিহাস গড়া মানুষ।
উনি প্রধানমন্ত্রী রাস্ট্রপতির সাথে চলার পরেও জীবনে তাদের থেকে কোন সুবিধা না নেওয়া মানুষ।
উনি নিজে বিপদে থাকার পরেও অপারেশন করে রোগী কে সুস্থ করার মত মানুষ।
উনার এত পরিচয়। অথচ আমাদের দেশের মাথা রা এত গুলি পরিচয় উপেক্ষা করে উনাকে বিরোধী দল (জামাত) ট্যাগ দিয়ে উনাকে রিমান্ডে দিয়ে দিলেন। এই দেশের মানুষ এই কারনেই দেশে থাকতে চায় না।
প্রিয় মাথারা, একদিন দেশের যুব সমাজ এই দেশ ছেড়ে নাই হয়ে যাবে। তখন আপনারা সব চোর বাটপার দের নিয়ে আরামসে দেশ চালিয়েন। দেশের নাম দিবেন ‘হিরক রাজার দেশ’ ‘যায় যদি যাক প্রান, হিরকের রাজা ভগবান”
ব্যচামেট ও ডেন্টাল সার্জন ডা. ফজলুল করিম স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন,
“ আমার সবচাইতে ভালো ৩/৪ জন বন্ধুর মধ্যে একজন। জীবনের শুরুর দিকেই আমি তার কাছ থেকে কিছু ভালো গুণাবলি রপ্ত করতে পেরে ধন্য। তার ২/১ টা উদাহরণ আমি এখানে দিতে চাই।
আমাদের ফাইনাল পরীক্ষার আগে একদিন আমরা দুজন রিক্সা করে ওদের মালিবাগ এর বাড়িতে যাচ্ছিলাম। পথে রিক্সাওয়ালার আচরণে রেগে গিয়ে আমি তাকে চড় মারতে যাই। কিন্তু মোহন (ওর ডাকনাম) আমার হাতটা খপ করে ধরে ফেলে আমাকে শান্ত করে এবং রিক্সা থেকে নামার পরে আমাকে বলে –
‘ দেখ ফজলু, ভাগ্যগুণে মধ্যবিত্ত ফ্যামিলিতে জন্ম হয়েছে বলেই আজ আমরা ডাক্তার হতে চলেছি,আর নিম্নবিত্ত ফ্য্যামিলিতে জন্মেছে দেখেই ও রিক্সাওয়ালা হয়েছে, কাজেই কাউকে মারতে যাওয়া বা উত্তেজিত হয়ে কিছু বলতে যাওয়ার আগে ঔ পজিশনে তুই থাকলে তোর কেমন লাগতো সবসময় সেইটা আগে চিন্তা করবি।’ –
এই মানবিক মূল্যবোধটা নাকি মোহন ওর বাবার কাছে শিখেছিল। মোহন এর বাবা একজন শিক্ষক এবং দারুন ভালো মানুষ ছিলেন।
আরেকটা উদাহরণ দেই। তখন আমরা ডাক্তার হয়ে গেছি। একটা ডেন্টাল কনফারেন্স এর পরে পাশাপাশি বশে আমরা খাচ্ছি। ওর বাম পাশে বসা একজন জুনিয়র ডেন্টিষ্ট প্লেটে কিছু খাবার রেখেই খাওয়া শেষ করে উঠে যাচ্ছিল। মোহন তাকে আবার বসিয়ে বললো –
‘দেখ, আমাদের দেশের অনেক মানুষ আজ না খেয়ে দিনাতিপাত করছে, আর তুমি এতগুলো খাবার নষ্ট করলে, প্লিজ এরপর থেকে যতটুকু খেতে পারবে ঠিক ততটুকুই প্লেটে নিবে।’
এমন মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন একজন মানুষ অন্য কারো জমি দখল করার জন্য কারো সম্পত্তি ভাংচুর করতে সহযোগিতা করতে যাবে, এটা আামাদের কাছে কোনভাবেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। কাজেই, আমরা তার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলার সুবিচার দাবি করছি ’’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী নওশীন শর্মীলি,
“ মেজর জেনারেল প্রফেসর ডাঃ গোলাম মহীউদ্দীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে ঘটনাটি নিয়ে মামলা হয়েছে, সে ঘটনাটির পেছনের বিষয়টি ছিল ইসিবি চত্বরের ৩৫ কাঠা জমি।
নিউ গিনি প্রপার্টিজ এর মালিক সেই জমি দখল করতে চায়। কিন্তু সকল শেয়ার হোল্ডারদের পক্ষে কথা বলে পরে মেজর জেনারেল প্রফেসর ডাঃ গোলাম মহীউদ্দীন চৌধুরী তার শেয়ার দেয়নি। পরবর্তীতে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনার পর নাজিমউদ্দিন ভূঁইয়া ডাঃ মহীউদ্দীন সহ প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অথচ মিডিয়ায় সেনাবাহিনীর বলে উনাকেই মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং বারবার তাঁকে জামায়াতের লোক বলে পরিচয় করানো হয়—যা সম্পূর্ণ অসত্য।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উনার কাছের মানুষের বক্তব্য অনুযায়ী ঘটনার দিন তিনি অসুস্থ হয়ে জ্বর নিয়ে বাসায় ছিলেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে এমনভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে, যেন তিনি ঘটনাটির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
আমি শুধু চাই, মানুষ যেন একপক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত না নেয়। পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং সত্যটা সামনে আসুক। ”
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ডা. গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম ডিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা একটি মামলায় ডা. গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী এজাহারভুক্ত আসামি। ক্যান্টনমেন্ট থানার মামলা নম্বর-১৪, তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৪২৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় করা মামলায় তিনি ৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছে ডিবি।
গত শনিবার রাতে প্রায় ৫০ জন ব্যক্তি নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্প এলাকায় অনধিকার প্রবেশ করেন। এ সময় তারা গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ কয়েকজন আহত হন।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এসময় প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক তার, ক্যামেরা ও পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ ছাড়া কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
নিউগিনি প্রপার্টিজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটে তাদের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
