গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃত ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) কে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) থেকে পেশাগত নিবন্ধনের দাবিতে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (১৫ জুলাই) সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সরকারি ও বেসরকারি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) শিক্ষার্থী, ডেন্টাল টেকনোলজীর ডিপ্লোমাধারীরা এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সিদ্ধান্ত এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক নির্ধারিত কর্মপরিধির আলোকে চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল)’র বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) মাধ্যমে সীমিত পরিসরে পেশাগত নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার দাবী জানান বক্তারা।
‘সমযোগ্যতাসম্পন্ন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টরা বিএমডিসি আইনের ১৫ ধারা ও পঞ্চম তফসিল অনুযায়ী নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া বিএমডিসি আইন, ১৯৮০’র ১৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জীবিকার প্রয়োজনে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে এবং সেই নিবন্ধন এখনো নবায়ন করা হচ্ছে। অথচ চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা সংবিধানের ১৯, ২৬, ২৭ ও ৪০ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে মনে করেন আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মো: শাহাদাত হোসেন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দাবি জানান, বিএমডিসি আইন, ২০১০-এর ৩৫ ধারার আওতায় তফসিল সংশোধন অথবা ৩৬ ধারার অধীনে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এদিকে গত ২৪ জুন ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজির (ডেন্টাল) বা ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের ‘স্বাধীনভাবে’ প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা বাতিল করেছে আপিল বিভাগ।
নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালে চালু হওয়া তিনবছর এবং পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এক বছরের ইন্টার্নশিপসহ চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি এবং প্রফেশনাল মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ডেন্টাল বা ডিপ্লোমা ডেন্টিস্ট হিসেবে রোগী দেখা এবং ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা চেয়ে ২০১৬ সালে একটি রিট আবেদন হয়।
আবেদনটি করেছিলেন বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন। ওই বছরের ১৩ জুন হাই কোর্ট রুল জারি ও শুনানি শেষে তাদের পক্ষে রায় দেয়।
হাইকোর্টের রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের কাজের ১০টি পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দাঁতের প্রাথমিক চিকিৎসা, লোকাল অ্যানেসথেশিয়া দিয়ে দাঁত তোলা ও ওষুধ দেওয়া, স্কেলিং-পলিশিং, ফিলিং, রুট ক্যানেল ড্রেসিং এবং অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ প্রেসক্রাইব করার মতো বিষয়গুলো ছিল। কিন্তু হাই কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে বিএমডিসি ২০১৭ সালে আপিল করে।
২৪ জুন রায়ের পর ফলে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা এখন থেকে কেবল নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। আর স্বাধীনভাবে নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।
