শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট

৩ দিন ব্যাপী মুখের ক্যান্সার ‘ স্ক্রীনিং প্রোগ্রাম ‘

ডেন্টাল টাইমস

বিশ্ব মুখের ক্যান্সারের সচেতনতা মাস উপলক্ষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিভাগে ৩ দিন ব্যাপি ” স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম ” আয়োজন।

আগামীকাল থেকে শুরু হয়ে আয়োজন চলবে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত। সকাল ১০-১২ টা পর্যন্ত স্থান হাসপাতালের ডেন্টাল বহি:বিভাগ (ব্লক নং-০৩) এ এই আয়োজন করা হয়। আগামীকাল ২১ এপ্রিল আয়োজনের উদ্বোধন করা হবে।

উন্নত বিশ্বে দিন দিন মুখের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পেলেও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি বাড়ছে। মুখের ক্যান্সার নিয়ে বাংলাদেশে আলাদা কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, বাংলাদেশের মানুষের শরীরে হওয়া ক্যান্সারের মধ্যে মুখের ক্যান্সার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে আশার কথা হলো, মুখের ক্যান্সার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য ও বাংলাদেশেই এর উন্নত চিকিৎসা রয়েছে।

সঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে মুখের ক্যান্সার ভালো হয়। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ক্যান্সার নিরাময়ের সম্ভাবনা বাড়ে। বাংলাদেশই এখন উন্নত দেশের মতোই মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা হচ্ছে।

মুখের ক্যান্সার নারী, পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন জনের মুখের ক্যান্সার শনাক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই রোগের মূল কারণ হচ্ছে তামাক এবং তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করা। যেমন সিগারেট, বিড়ি, পান, জর্দা— এসব জিনিস খেলে মুখের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে বেড়ে যায়। এ ছাড়াও পান, সাদা পাতা, পানের সাথে জর্দা, সুপারি খাওয়ার ফলেও মুখের ক্যান্সার হতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল সেবন করলে মুখের ক্যান্সার হতে পারে। যারা পান, জর্দা, সুপারি মুখের একটা অংশে অনেক সময় রেখে দেন তাদের মুখের ওই নির্দিষ্ট অংশের টিস্যু পরিবর্তন হয়ে মুখের ক্যান্সার হতে পারে।

এছাড়া ‘মুখে যদি ভাঙা বা ধারালো দাঁত থাকে এবং ত্রুটিপূর্ণ গড়ন থাকে তাহলে সেখান থেকে আঘাত লেগে মুখের টিস্যু পরিবর্তন হতে পারে। এবং ক্যান্সার হতে পারে। কিছু ভাইরাস এবং বাক্টেরিয়ার কারণেও মুখের ক্যান্সার হতে পারে। যেমন সিফিলিস। এ ছাড়া খাদ্যাভাসে যদি ভিটামিন এ, সি এবং ই-এর ঘাটতি থাকে তাহলেও মুখের ক্যান্সার হতে পারে। পরিবারের কেউ যদি মুখের ক্যান্সার বা অন্য কোনো ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে জেনেটিক প্রভাবে সেই পরিবারের সদস্যদের মুখের ক্যান্সার বা অন্য ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।’

মুখের ক্যান্সার হলে মুখে ঘা হতে পারে যেটা সহজে সারবে না, ঢোক গিলতে ব্যথা অনুভূত হযবে, কথা বলতে অসুবিধা হযবে, জিহ্বা নাড়াতেও সমস্যা হতে পারে। এসব সমস্যা দেখা দিলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মুখের ক্যান্সার প্রথম পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে সুস্থতার সম্ভাবনা শতভাগ। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে শনাক্ত হলে সম্ভাবনা থাকে ৮০-৯০ ভাগ। তৃতীয় পর্যায়ে আক্রান্ত রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৪০-৬০ ভাগ।  চতুর্থ পর্যায়ে  আক্রান্ত রোগীর সুস্থতার হার কমে আসে ১০-২০ ভাগে। কিংবা তারও নিচে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

ডেন্টাল টাইমসে প্রকাশের উদ্দেশ্যে সংবাদ/লেখা পাঠাতে চাইলে নাম, ফোন নাম্বার এবং বিস্তারিত ছবিসহ আমাদের dentaltimesbd@gmail.com এ ই-মেইল করুন । এছাড়া, জরুরী প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - বার্তাকক্ষ ০১৮৩৩৩৯১৫৮১

আমাদের প্রকাশিত সংবাদ নিয়মিত পেতে

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের Follow করুন​

এই সংবাদ নিয়ে আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ