স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের আইন বহির্ভূত বক্তব্য ও অশ্রাব্য মন্তব্যে’র প্রতিবাদের ঝড়

ডেন্টাল টাইমস

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা: সৈয়দ আবু আহমেদ শাফী’র আইন বহির্ভূত বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় দেশের বিভিন্ন স্তরের ডেন্টাল সার্জন, প্রায় সকল শীর্ষস্থানীয় ডেন্টাল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ফেইসবুকে দেয়া একটি স্ট্যাটাসে দেয়া একটি লেখার প্রেক্ষিতে এমন প্রতিবাদের ঝড়।

শিক্ষার্থীরা জানায় “একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং চিকিৎসক হয়েও তিনি দেশের প্রচলিত আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে লাগাতার বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন-যা অত্যন্ত অপেশাদার, আইনবহির্ভূত এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

তারা বিবৃতিতে আরো জানায়, “দেশের চিকিৎসাসেবার অন্যতম অভিভাবক হয়েও তাঁর উপস্থাপিত অপযুক্তিগুলো কোনোভাবেই একজন বিজ্ঞ ও সচেতন মানুষের চিন্তার সাথে খাপ খায় না। দেশের আপামর চিকিৎসক সমাজ তো বটেই, একজন সাধারণ সচেতন নাগরিকও তাঁর এই আইনবিরোধী বক্তব্য পড়ার পর স্তম্ভিত না হয়ে পারেন না।”

চিকিৎসকরা মনে করেন “ তিনি অতিদ্রুত তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন এবং চিকিৎসক সমাজের নিকট প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবেন। নাহলে আমরা মনে করি তিনি তাঁর পদের ভার বহন করার উপযুক্ত নন, সেক্ষেত্রে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।”

ডা: সৈয়দ আবু আহমেদ শাফী তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন

জটিলতা নাই এমন দাঁত ফেলো দেয়া, স্কেলিং, দাঁতের ফিলিং এবং কম দামে ছোটখাটো ডেন্টাল প্রসথেসিস
বানানোর জন্য স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আমি ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট সঠিক স্হান মনে করি। স্বল্প আয়ের মানুয়ের পক্ষে ডেন্টাল সার্জনদের চাহিদা মোতাবেক আকাশচুম্বী অর্থ সরবরাহ করা মোটেও সহজ কাজ নয়৷

সেক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে নিম্নমানের টেকনোলজিস্টই বেটার এই দেশে। টেকনোলজিস্টরা শুধু নিজেকে ডাক্তার না বানাতে চাইলেই কোন ঝামেলা নাই।

মাঝে মাঝে বিরক্ত হই, মেধাবী চিকিৎসকদের উপর। দু’চার জন অযোগ্য চিকিৎসক আছে, যারা নিজেরা কোন টেকনিক্যাল দক্ষতা অর্জন করেনি, অথব নিজের দক্ষতার উপর আস্হা রাখতে পারেনা, এরা নিজেকে তুলনা করে টেকনোলজিস্ট দের সাথে। টেকনোজিস্টরা দুই পয়সা কামালে এদের মধ্যে আগুন জ্বলতে থাকে।

এমন যারা, তাদের উদ্দেশ্যে বলি, টেকনোলজিস্টরা তো চার বছর পড়ালেখা করে শিখেছে কিছু। বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে হাটে বাজারে শত শত অশিক্ষিত গন্ডমূর্খ লোক হাজার হাজার মানুষের লাখ লাখ দাঁত তুলে বেড়ায় এখনো। পারলে গিয়ে সেগুলো
ঠেকান।

অযোগ্য লোকেরা, যারা নিজের দক্ষতার উপর আস্হা রাখতে পারেনা, তারা ভিক্ষুকের মনোবৃত্তি পোষণ করে। আরেক ভিক্ষুককে আশেপাশে বসতে দেখলেই ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। মনে করে তার প্রাপ্য সব ভিক্ষায় ভাগ বসাবে আরেকজন।

যোগ্য মানুষ হয়ে থাকলে মনটা বদলান। ভিক্ষুকের মনোবৃত্তি ছেড়ে প্রথমশ্রেণী সুলভ মনোবৃত্তি তৈরী করুন। রেজেক কেউ কারোটা কেড়ে নিতে পারে না।

চিকিৎসকরা প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ করেন “তিনি তার লেখার নীচে মন্তব্যের স্থানে ভিন্ন মতামতের চিকিৎসক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অশ্রাব্য ও অশ্লীল ভাষায় উত্তর প্রদান করেন। যা একজন চিকিৎসক ও দেশের শীর্ষ সরকারী কর্মকর্তা থেকে প্রত্যাশিত নয়। বরং স্বাস্থ্য সেক্টরের জন্য হুমকি স্বরুপ ।” বাস্তবেও এর সত্যতা পেয়েছে ডেন্টাল টাইমস।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

ডেন্টাল টাইমসে প্রকাশের উদ্দেশ্যে সংবাদ/লেখা পাঠাতে চাইলে নাম, ফোন নাম্বার এবং বিস্তারিত ছবিসহ আমাদের dentaltimesbd@gmail.com এ ই-মেইল করুন । এছাড়া, জরুরী প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - বার্তাকক্ষ ০১৮৩৩৩৯১৫৮১

আমাদের প্রকাশিত সংবাদ নিয়মিত পেতে

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের Follow করুন​

এই সংবাদ নিয়ে আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ