পেশাগত নিবন্ধন, ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল)’ কোর্সের নাম পরিবর্তন করে ‘ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল’ করা, উচ্চশিক্ষার সুযোগ পুনরায় চালু, সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ ও নতুন পদ সৃষ্টিসহ অন্যান্য সমমানের ডিপ্লোমাধারীদের মতো ১০ম গ্রেড প্রদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ডেন্টাল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব দাবি জানান।
তারা বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের মাধ্যমে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ের ২৩টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) এবং বেসরকারি পর্যায়ের শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ শিক্ষার্থী এ কোর্স সম্পন্ন করছেন।
অন্যান্য সংবাদ
দীর্ঘদিন ধরে কোর্সটি চালু থাকলেও ডেন্টাল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত নিবন্ধন এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা বলেন, ১৯৮৩ সাল থেকে ডেন্টাল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত নিবন্ধনের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। অথচ বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীনে পরিচালিত অন্যান্য সমশিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ডিপ্লোমাধারীদের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের মাধ্যমে পেশাগত নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে। এতে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।
সংগঠনের আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক চূড়ান্তকৃত নির্ধারিত ওয়ার্কিং সার্কেলের আলোকে তৃণমূল পর্যায়ে দন্তসেবা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও পেশাগত নিবন্ধন না থাকায় ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা পেশাগত প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি কোর্স সম্পন্নকারীদের জন্য সুস্পষ্ট পেশাগত পরিচয় ও নিবন্ধন নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংগঠনে মুখপাত্র তানজিনা ইয়াসমিন মারিয়া বলেন, ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে। দেশের দন্তসেবার মান উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বিডিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এ জন্য দুটি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে এ সুযোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।
দাবি বাস্তবায়নে সংবাদ সম্মেলন থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচিগুলো হলো-
১২ আগস্ট : স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বরাবর সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি প্রদান।
১৬ আগস্ট: ছাত্র-পেশাজীবী সমন্বয় সভা।
১৯ আগস্ট: সংশ্লিষ্ট জেলার প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও ‘র্যালি ফর রিকগনিশন’ কর্মসূচি।
২৩ আগস্ট: সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি।
৩০ আগস্ট: জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদে অবস্থান কর্মসূচি।
বক্তারা বলেন- এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালন করা হবে। নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যেও দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ছাত্র-পেশাজীবীদের সমন্বয়ে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তাছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দীর্ঘদিনের বিষয়গুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে দন্তসেবা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের যথাযথভাবে কাজে লাগানোর দাবি জানান শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা।

